রাজধানীর ফুটপাত দখল নতুন কোনো সমস্যা নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু ফুটপাত আবার দখল হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, ফুটপাত দখলের পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করে। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলে দখল-চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের হাত বদল হয় শুধু। দখল ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থা ঠিকই থেকে যায়।
অভিযোগ আছে, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাতকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠানো হয়। বিভিন্ন ফুটপাতে ভাসমান অনেক দোকান বসে। দোকানের আকার অনুযায়ী দৈনিক চাঁদা নেওয়া হয়। কোথাও আবার বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ পথচারী। অনেক সময় ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে তাদের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। আবার এটাও সত্য যে, হকাররা জীবিকার জন্য ফুটপাতে বসেন। তাই সমস্যার সমাধানে তাদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করলেই সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না।
ফুটপাতকে কেন্দ্র করে দখল ও চাঁদাবাজির যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে সেটা ভাঙা জরুরি। নইলে অভিযান চালিয়ে আজ কিছু হকার উচ্ছেদ করলে কিছুদিন পর আবার তারা ফিরে আসবে বা নতুন হকার ফুটপাতে বসবে। তাই ফুটপাতে বসা দোকানপাট থেকে কারা চাঁদা আদায় করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দখল-চাঁদাবাজির পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে আমলে নেওয়া চলবে না।
ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ নীতি থাকা প্রয়োজন। কোথায় হকার বসতে পারবে, কোথায় পারবে না, তা স্পষ্ট করতে হবে। বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ থাকলে তার ব্যবস্থাও করতে হবে। ফুটপাত দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর ফুটপাত দখল নতুন কোনো সমস্যা নয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু ফুটপাত আবার দখল হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, ফুটপাত দখলের পেছনে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করে। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলে দখল-চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের হাত বদল হয় শুধু। দখল ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থা ঠিকই থেকে যায়।
অভিযোগ আছে, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় ফুটপাতকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা ওঠানো হয়। বিভিন্ন ফুটপাতে ভাসমান অনেক দোকান বসে। দোকানের আকার অনুযায়ী দৈনিক চাঁদা নেওয়া হয়। কোথাও আবার বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলাদা টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
ফুটপাত দখলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ পথচারী। অনেক সময় ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে তাদের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। আবার এটাও সত্য যে, হকাররা জীবিকার জন্য ফুটপাতে বসেন। তাই সমস্যার সমাধানে তাদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদ করলেই সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না।
ফুটপাতকে কেন্দ্র করে দখল ও চাঁদাবাজির যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে সেটা ভাঙা জরুরি। নইলে অভিযান চালিয়ে আজ কিছু হকার উচ্ছেদ করলে কিছুদিন পর আবার তারা ফিরে আসবে বা নতুন হকার ফুটপাতে বসবে। তাই ফুটপাতে বসা দোকানপাট থেকে কারা চাঁদা আদায় করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। দখল-চাঁদাবাজির পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে আমলে নেওয়া চলবে না।
ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ নীতি থাকা প্রয়োজন। কোথায় হকার বসতে পারবে, কোথায় পারবে না, তা স্পষ্ট করতে হবে। বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ থাকলে তার ব্যবস্থাও করতে হবে। ফুটপাত দখলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন