খাওয়ার পর পেট ভার হয়ে থাকা বা ফেঁপে যাওয়াকে অনেকেই গ্যাসের সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না। মাঝে মধ্যে বড় খাবার খাওয়ার পর এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও একই সমস্যা যদি নিয়মিত দেখা দেয়, তাহলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। কারণ পেট ফাঁপার পেছনে হজমের নানা সমস্যা থেকে শুরু করে পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার মতো জটিলতাও থাকতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসক হর্ষবর্ধন রাও বি. ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, পেট ফাঁপা ও পেটের অস্বস্তি গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে আসা রোগীদের সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি।
যে সমস্যাগুলো পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে
দীর্ঘদিন ধরে পেট ফাঁপার সাধারণ কারণ হিসেবে ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) ও কোষ্ঠকাঠিন্যের কথা উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক রাও।
এ ছাড়া ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা এবং সিলিয়াক রোগের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও
পেট ফাঁপা কমাতে অনেকে জোয়ানের পানি, জিরার পানি, অ্যান্টাসিড কিংবা বিভিন্ন ধরনের হজমের ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব ব্যবহারে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না।
চিকিৎসকের মতে, অ্যাসিডিটির কারণে না হওয়া পেট ফাঁপার ক্ষেত্রে অ্যান্টাসিড কার্যকর নয়। আবার নির্দিষ্ট কোনো ঘাটতি না থাকলে হজমের এনজাইমযুক্ত ওষুধের কার্যকারিতার পক্ষেও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বেশিরভাগ প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়েও যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
পেট ফাঁপার পেছনে থাকতে পারে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস
পেট ফাঁপার আরেকটি কারণ হতে পারে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস। এ সমস্যায় পাকস্থলী স্বাভাবিক গতিতে খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠাতে পারে না। কোনো শারীরিক বাধা না থাকলেও পাকস্থলীর পেশি ও স্নায়ুর সমস্যার কারণে খাবার সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।
এর ফলে অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভার থাকা, পেট ফাঁপা, বমিভাব, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
গুরুতর অবস্থায় অনেক ঘণ্টা এমনকি কয়েক দিন আগে খাওয়া খাবারও বমির সঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারে।
ডায়াবেটিসও হতে পারে একটি কারণ
দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের পরিচিত কারণগুলোর একটি। এ ছাড়া পরিপাকতন্ত্রে অস্ত্রোপচার, কিছু স্নায়বিক ও অটোইমিউন রোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সঙ্গেও এ সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
খাবারের অভ্যাসে যেসব পরিবর্তন করা যেতে পারে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়া যেতে পারে। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারে চর্বি ও আঁশের পরিমাণেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি
পেট ফাঁপার সঙ্গে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
এ ছাড়া ৪৫ বছর বয়সের পর নতুন করে এ ধরনের সমস্যা শুরু হলেও বিষয়টি অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাঝেমধ্যে বড় খাবারের পর পেট ফাঁপা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু খাবারের পর বারবার একই ধরনের অস্বস্তি হলে সেটিকে শুধু গ্যাসের সমস্যা ধরে না নিয়ে এর পেছনে থাকা কারণ খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
খাওয়ার পর পেট ভার হয়ে থাকা বা ফেঁপে যাওয়াকে অনেকেই গ্যাসের সমস্যা মনে করে গুরুত্ব দেন না। মাঝে মধ্যে বড় খাবার খাওয়ার পর এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও একই সমস্যা যদি নিয়মিত দেখা দেয়, তাহলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। কারণ পেট ফাঁপার পেছনে হজমের নানা সমস্যা থেকে শুরু করে পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার মতো জটিলতাও থাকতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসক হর্ষবর্ধন রাও বি. ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, পেট ফাঁপা ও পেটের অস্বস্তি গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে আসা রোগীদের সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি।
যে সমস্যাগুলো পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে
দীর্ঘদিন ধরে পেট ফাঁপার সাধারণ কারণ হিসেবে ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) ও কোষ্ঠকাঠিন্যের কথা উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক রাও।
এ ছাড়া ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা এবং সিলিয়াক রোগের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও
পেট ফাঁপা কমাতে অনেকে জোয়ানের পানি, জিরার পানি, অ্যান্টাসিড কিংবা বিভিন্ন ধরনের হজমের ওষুধ ব্যবহার করেন। এসব ব্যবহারে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না।
চিকিৎসকের মতে, অ্যাসিডিটির কারণে না হওয়া পেট ফাঁপার ক্ষেত্রে অ্যান্টাসিড কার্যকর নয়। আবার নির্দিষ্ট কোনো ঘাটতি না থাকলে হজমের এনজাইমযুক্ত ওষুধের কার্যকারিতার পক্ষেও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বেশিরভাগ প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়েও যথেষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
পেট ফাঁপার পেছনে থাকতে পারে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস
পেট ফাঁপার আরেকটি কারণ হতে পারে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস। এ সমস্যায় পাকস্থলী স্বাভাবিক গতিতে খাবার ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠাতে পারে না। কোনো শারীরিক বাধা না থাকলেও পাকস্থলীর পেশি ও স্নায়ুর সমস্যার কারণে খাবার সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।
এর ফলে অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভার থাকা, পেট ফাঁপা, বমিভাব, অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
গুরুতর অবস্থায় অনেক ঘণ্টা এমনকি কয়েক দিন আগে খাওয়া খাবারও বমির সঙ্গে বেরিয়ে আসতে পারে।
ডায়াবেটিসও হতে পারে একটি কারণ
দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের পরিচিত কারণগুলোর একটি। এ ছাড়া পরিপাকতন্ত্রে অস্ত্রোপচার, কিছু স্নায়বিক ও অটোইমিউন রোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সঙ্গেও এ সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
খাবারের অভ্যাসে যেসব পরিবর্তন করা যেতে পারে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খাওয়া যেতে পারে। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারে চর্বি ও আঁশের পরিমাণেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি
পেট ফাঁপার সঙ্গে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
এ ছাড়া ৪৫ বছর বয়সের পর নতুন করে এ ধরনের সমস্যা শুরু হলেও বিষয়টি অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাঝেমধ্যে বড় খাবারের পর পেট ফাঁপা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু খাবারের পর বারবার একই ধরনের অস্বস্তি হলে সেটিকে শুধু গ্যাসের সমস্যা ধরে না নিয়ে এর পেছনে থাকা কারণ খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন