সংবাদ

কোয়েল মল্লিক: তৃণমূল ছেড়ে হঠাৎ বিজেপির প্রার্থী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

কোয়েল মল্লিক: তৃণমূল ছেড়ে হঠাৎ বিজেপির প্রার্থী
কোয়েল মল্লিক: অভিনয়ের জাদু থেকে রাজনীতির মঞ্চে

রূপালি পর্দার আলো ঝলমলে জগৎ থেকে হঠাৎই রাজনীতির খোলা ময়দানে হাজির হলেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় মুখ কোয়েল মল্লিক। তার এই যাত্রা যেন এক নাটকীয় মোড়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি এখন বিজেপির প্রার্থী। তার এই রাজনৈতিক ভোল পাল্টে দেওয়া আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই।

কোয়েল মল্লিকের আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক। জন্ম ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল, কলকাতায়। বাবা প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, মা দীপা মল্লিক। অভিনয়ের রক্ত তো তার শিরায়। পরিবারের ছায়াতেই বেড়ে ওঠা। পড়াশোনায়ও কম যান না তিনি। কলকাতার মডার্ন হাই স্কুল ফর গার্লস থেকে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পরে গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস কলেজ থেকে সাইকোলজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি।

ব্যক্তিগত জীবনে কোয়েল মল্লিকের রাজা ছিলেন একটাই—নিষ্পাল সিং, ডাকনাম রানে। প্রায় সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন তারা। এই দম্পতির দুই সন্তান—কাবির সিং এবং কাব্য। সন্তানদের নিয়ে তার জীবন এখন অন্য এক রঙে রঙিন।

২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ ছবি দিয়ে বাংলা সিনেমায় পা রাখেন কোয়েল মল্লিক। জিৎয়ের বিপরীতে অভিনীত এই ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। এরপর ‘শুভদৃষ্টি’, ‘মন মানে না’, ‘প্রেমের কাহিনী’, ‘১০০% লাভ’, ‘রংবাজ’—একটি একটি হিট ছবি তার ঝুলিতে যোগ হয়। টলিউডের শীর্ষ নায়িকাদের তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি।

শুধু সিনেমা নয়, ছোট পর্দায়ও সমান সফল কোয়েল। ২০০৭ সালে জি বাংলার মহালয়ায় ‘দেবী মহিষাসুরমর্দিনী’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক। ‘কথা ও কাহিনী’ নামে টক শো উপস্থাপনা, রিয়েলিটি শোতে বিচারক—সব জায়গায় নিজেকে মেলে ধরেছেন।

অভিনয় জীবনে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড বাংলা (হেমলক সোসাইটির জন্য), দুটি বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড, আনন্দলোক পুরস্কার। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘মহানায়ক সম্মান’ও পেয়েছেন।

কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল চুপিসারে। এ বছরের গোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার বাবার বাড়িতে প্রচার চালানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় নাম আসে। ৬ এপ্রিল শপথ নেন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে।

কিন্তু সেই সংসদীয় জীবন মাত্র তিন মাসের। ১৬ জুলাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কোনো অধিবেশনে অংশ না নিয়েই তিনি বিদায় নেন। পদত্যাগের কারণ কেউ জানেনি।

আর সেই পদত্যাগের দিনই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল। জল্পনা শুরু হয় বিজেপিতে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত ৪ অক্টোবর বিজেপি তাকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে। মনোনয়নের শেষ দিন ৬ অক্টোবর, ভোট ১৬ অক্টোবর।

লক্ষণীয়, কোয়েলের আগেও সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদরা পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে আবার ফিরেছেন। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যেন সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


কোয়েল মল্লিক: তৃণমূল ছেড়ে হঠাৎ বিজেপির প্রার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রূপালি পর্দার আলো ঝলমলে জগৎ থেকে হঠাৎই রাজনীতির খোলা ময়দানে হাজির হলেন বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় মুখ কোয়েল মল্লিক। তার এই যাত্রা যেন এক নাটকীয় মোড়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি এখন বিজেপির প্রার্থী। তার এই রাজনৈতিক ভোল পাল্টে দেওয়া আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই।

কোয়েল মল্লিকের আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক। জন্ম ১৯৮২ সালের ২৮ এপ্রিল, কলকাতায়। বাবা প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, মা দীপা মল্লিক। অভিনয়ের রক্ত তো তার শিরায়। পরিবারের ছায়াতেই বেড়ে ওঠা। পড়াশোনায়ও কম যান না তিনি। কলকাতার মডার্ন হাই স্কুল ফর গার্লস থেকে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পরে গোখলে মেমোরিয়াল গার্লস কলেজ থেকে সাইকোলজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি।

ব্যক্তিগত জীবনে কোয়েল মল্লিকের রাজা ছিলেন একটাই—নিষ্পাল সিং, ডাকনাম রানে। প্রায় সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন তারা। এই দম্পতির দুই সন্তান—কাবির সিং এবং কাব্য। সন্তানদের নিয়ে তার জীবন এখন অন্য এক রঙে রঙিন।

২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ ছবি দিয়ে বাংলা সিনেমায় পা রাখেন কোয়েল মল্লিক। জিৎয়ের বিপরীতে অভিনীত এই ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে। এরপর ‘শুভদৃষ্টি’, ‘মন মানে না’, ‘প্রেমের কাহিনী’, ‘১০০% লাভ’, ‘রংবাজ’—একটি একটি হিট ছবি তার ঝুলিতে যোগ হয়। টলিউডের শীর্ষ নায়িকাদের তালিকায় নিজের জায়গা পাকা করেন তিনি।

শুধু সিনেমা নয়, ছোট পর্দায়ও সমান সফল কোয়েল। ২০০৭ সালে জি বাংলার মহালয়ায় ‘দেবী মহিষাসুরমর্দিনী’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক। ‘কথা ও কাহিনী’ নামে টক শো উপস্থাপনা, রিয়েলিটি শোতে বিচারক—সব জায়গায় নিজেকে মেলে ধরেছেন।

অভিনয় জীবনে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মান। ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড বাংলা (হেমলক সোসাইটির জন্য), দুটি বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড, আনন্দলোক পুরস্কার। ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘মহানায়ক সম্মান’ও পেয়েছেন।

কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক জীবনের শুরুটা হয়েছিল চুপিসারে। এ বছরের গোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তার বাবার বাড়িতে প্রচার চালানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায় নাম আসে। ৬ এপ্রিল শপথ নেন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে।

কিন্তু সেই সংসদীয় জীবন মাত্র তিন মাসের। ১৬ জুলাই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কোনো অধিবেশনে অংশ না নিয়েই তিনি বিদায় নেন। পদত্যাগের কারণ কেউ জানেনি।

আর সেই পদত্যাগের দিনই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন কোয়েল। জল্পনা শুরু হয় বিজেপিতে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত ৪ অক্টোবর বিজেপি তাকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে। মনোনয়নের শেষ দিন ৬ অক্টোবর, ভোট ১৬ অক্টোবর।

লক্ষণীয়, কোয়েলের আগেও সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদরা পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে আবার ফিরেছেন। কোয়েলের ক্ষেত্রেও যেন সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত