দেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকার অনেক টাকা খরচ করছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষের চেয়ে ধনীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের মাত্র ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান। অন্যদিকে ওপরের ২০ শতাংশ মানুষের ৩১ শতাংশও এসব সুবিধা পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ভর্তুকির ক্ষেত্রেও একই বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষ মোট ভর্তুকির ১৫ শতাংশের কিছু বেশি পেলেও ধনী ২০ শতাংশ পাচ্ছেন ৩৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এ অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, প্রচলিত পদ্ধতিতে সুবিধা দিলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন। কিন্তু প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সুবিধা দেওয়া গেলে এ সংখ্যা সাড়ে ২৮ লাখে উন্নীত হতে পারে। তাই ফ্যামিলি কার্ড শুধু বিতরণ করলেই হবে না, এর আওতায় প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি ভর্তুকির ক্ষেত্রেও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সারে ভর্তুকি কয়েক বছরে চার গুণ বেড়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, মাটি পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
দরিদ্র ও দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে দারিদ্র্য থেকে কীভাবে বের করে আনা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে সরকারকে। এজন্য নির্ভুল তথ্যভান্ডার থাকা দরকার। নিয়মিত তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ তখনই সার্থক হবে, যখন এর সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছাবে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকার অনেক টাকা খরচ করছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষের চেয়ে ধনীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজের নিচের ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের মাত্র ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান। অন্যদিকে ওপরের ২০ শতাংশ মানুষের ৩১ শতাংশও এসব সুবিধা পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ভর্তুকির ক্ষেত্রেও একই বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষ মোট ভর্তুকির ১৫ শতাংশের কিছু বেশি পেলেও ধনী ২০ শতাংশ পাচ্ছেন ৩৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এ অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, প্রচলিত পদ্ধতিতে সুবিধা দিলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারবেন। কিন্তু প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সুবিধা দেওয়া গেলে এ সংখ্যা সাড়ে ২৮ লাখে উন্নীত হতে পারে। তাই ফ্যামিলি কার্ড শুধু বিতরণ করলেই হবে না, এর আওতায় প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি ভর্তুকির ক্ষেত্রেও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সারে ভর্তুকি কয়েক বছরে চার গুণ বেড়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, মাটি পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
দরিদ্র ও দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে দারিদ্র্য থেকে কীভাবে বের করে আনা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে সরকারকে। এজন্য নির্ভুল তথ্যভান্ডার থাকা দরকার। নিয়মিত তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রের বিনিয়োগ তখনই সার্থক হবে, যখন এর সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছাবে।

আপনার মতামত লিখুন