চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর যাত্রী পরিবহন যেমন বেড়েছে, তেমনি দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে ঘটছে। মাত্র পৌনে তিন বছরে এ রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই মারা গেছেন ৩১ জন। সেপ্টেম্বর মাসেও প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের। এত প্রাণহানির পরও রেলপথের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দুর্ঘটনার বড় কারণ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং। ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং ৯৯টি। অবৈধ ক্রসিং রয়েছে ৭৭টি। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বৈধ ক্রসিংগুলোর ৫৬টিতে কোনো গেটম্যান নেই। ফলে ট্রেন আসার সময় পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে এমন ব্যবস্থা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২২টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করেছে। আরও ৩৫টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শুধু ক্রসিং বন্ধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কোথায় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলপথ পার হচ্ছে, কেন সেখানে অবৈধ পথ তৈরি হয়েছে তা চিহ্নিত করে বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। বৈধ ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান ও প্রয়োজনীয় ব্যারিয়ার স্থাপন করাও জরুরি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। আমরা বলতে চাই, পথচারী ও পরিবিহন চালকদের রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। তবে যেখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, সেখানে শুধু মানুষের সচেতনতার ওপর দায় চাপালে চলবে না। রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ার কথা। তাই এখনই নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করতে হবে। বৈধ ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ দিতে হবে দ্রুত।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর যাত্রী পরিবহন যেমন বেড়েছে, তেমনি দুর্ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে ঘটছে। মাত্র পৌনে তিন বছরে এ রেলপথে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই মারা গেছেন ৩১ জন। সেপ্টেম্বর মাসেও প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের। এত প্রাণহানির পরও রেলপথের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দুর্ঘটনার বড় কারণ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং। ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে বৈধ লেভেল ক্রসিং ৯৯টি। অবৈধ ক্রসিং রয়েছে ৭৭টি। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বৈধ ক্রসিংগুলোর ৫৬টিতে কোনো গেটম্যান নেই। ফলে ট্রেন আসার সময় পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে এমন ব্যবস্থা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২২টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করেছে। আরও ৩৫টি অবৈধ ক্রসিং বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শুধু ক্রসিং বন্ধ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কোথায় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলপথ পার হচ্ছে, কেন সেখানে অবৈধ পথ তৈরি হয়েছে তা চিহ্নিত করে বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। বৈধ ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান ও প্রয়োজনীয় ব্যারিয়ার স্থাপন করাও জরুরি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে সচেতনতার অভাব। আমরা বলতে চাই, পথচারী ও পরিবিহন চালকদের রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে। তবে যেখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, সেখানে শুধু মানুষের সচেতনতার ওপর দায় চাপালে চলবে না। রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ার কথা। তাই এখনই নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করতে হবে। বৈধ ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ দিতে হবে দ্রুত।

আপনার মতামত লিখুন