বর্ষা শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও যশোরের ভবদহ অঞ্চলের প্রায় দুইশ গ্রাম এখনো পানিতে ডুবে আছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। ঘরবাড়ি, ফসলের জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে আছে। অনেকে ঘর ছেড়ে উঁচু সড়ক বা অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ভবদহের এই সংকট নতুন নয়। প্রায় চার দশক ধরে সেখানকার মানুষ জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবদহে পানি জমে। দীর্ঘ সময়েও পানি নামতে চায় না। এর অন্যতম কারণ নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। পলি জমে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
নদী পুনঃখননে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী পুনঃখননের কাজ চলছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। তবে শুধু খনন করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে কি না সেই প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা বা টিআরএম চালু না হলে নদীতে আবারও দ্রুত পলি জমবে। ফলে খননে ব্যয় করা অর্থও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
ভবদহের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোথায় টিআরএম কার্যকর হবে, কোন খাল ও নদী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করা হবে, পানিপ্রবাহের বাধা কীভাবে দূর হবে এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ভবদহের মানুষের দুর্ভোগের টেকসই সমাধান করতে হবে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা ব্যাহত হবে, ফসল নষ্ট হবে সেটা কাম্য নয়।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
বর্ষা শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও যশোরের ভবদহ অঞ্চলের প্রায় দুইশ গ্রাম এখনো পানিতে ডুবে আছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। ঘরবাড়ি, ফসলের জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে আছে। অনেকে ঘর ছেড়ে উঁচু সড়ক বা অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ভবদহের এই সংকট নতুন নয়। প্রায় চার দশক ধরে সেখানকার মানুষ জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবদহে পানি জমে। দীর্ঘ সময়েও পানি নামতে চায় না। এর অন্যতম কারণ নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। পলি জমে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
নদী পুনঃখননে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদী পুনঃখননের কাজ চলছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে। তবে শুধু খনন করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে কি না সেই প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটা ব্যবস্থাপনা বা টিআরএম চালু না হলে নদীতে আবারও দ্রুত পলি জমবে। ফলে খননে ব্যয় করা অর্থও কাঙ্ক্ষিত ফল নাও দিতে পারে।
ভবদহের সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোথায় টিআরএম কার্যকর হবে, কোন খাল ও নদী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করা হবে, পানিপ্রবাহের বাধা কীভাবে দূর হবে এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। ভবদহের মানুষের দুর্ভোগের টেকসই সমাধান করতে হবে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা ব্যাহত হবে, ফসল নষ্ট হবে সেটা কাম্য নয়।

আপনার মতামত লিখুন