দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৬ বছরে বার্ষিক মৃত্যুর হিসাবে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাম ও উপসর্গে এ বছর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে আইইডিসিআরের পর্যালোচনায় গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে। ১১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যেই মারা গেছেন। ৬২ দশমিক ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। অনেক রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হতে অন্তত তিন দিন দেরি হয়েছে। অর্থাৎ রোগ শনাক্তে দেরি এখন মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর, সর্দি বা শরীর ব্যথার মতো হওয়ায় মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় সামান্য জ্বর বা শরীর খারাপ হলেও পরীক্ষার সুযোগ সহজ করতে হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি পর্যায়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পরীক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া আরও বড় সতর্কবার্তা। সরকার বলছে, দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৫ লাখ শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করলেই হবে না। বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনতে হবে। প্রত্যন্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
ডেঙ্গু ও হাম দুটিই প্রতিরোধযোগ্য রোগ। রোগ গুরুতর হওয়ার পর চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আগে থেকেই প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৬ বছরে বার্ষিক মৃত্যুর হিসাবে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাম ও উপসর্গে এ বছর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৪ জন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে আইইডিসিআরের পর্যালোচনায় গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে। ১১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যেই মারা গেছেন। ৬২ দশমিক ৫ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। অনেক রোগীর ডেঙ্গু শনাক্ত হতে অন্তত তিন দিন দেরি হয়েছে। অর্থাৎ রোগ শনাক্তে দেরি এখন মৃত্যুর বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর, সর্দি বা শরীর ব্যথার মতো হওয়ায় মানুষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরবর্তী সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও থাকতে পারে। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় সামান্য জ্বর বা শরীর খারাপ হলেও পরীক্ষার সুযোগ সহজ করতে হবে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি পর্যায়ে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পরীক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া আরও বড় সতর্কবার্তা। সরকার বলছে, দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩৫ লাখ শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করলেই হবে না। বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকার আওতায় আনতে হবে। প্রত্যন্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
ডেঙ্গু ও হাম দুটিই প্রতিরোধযোগ্য রোগ। রোগ গুরুতর হওয়ার পর চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আগে থেকেই প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন