সংবাদ

দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট: ইন্টারনেট ও মেট্রোরেল সচল রাখার নির্দেশ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট: ইন্টারনেট ও মেট্রোরেল সচল রাখার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক বিক্ষোভের আবহেই এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ জারি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ তুলে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকা এ আন্দোলনে পুরো দিল্লিজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক ও আন্দোলনকারীদের চরম ভোগান্তি এড়াতে রবিবার মোদী সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, দিল্লিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইন্টারনেট সেবা এবং মেট্রোরেল সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে। একই সাথে ভারতের সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত বিধিবদ্ধ শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলেই সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের তাগিদ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

ভোট কারচুপির প্রতিবাদে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বাধীনতাকে পুলিশ জোরপূর্বক সীমিত করছে, এমনই অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন নাগরিক ও আইনজীবীরা।

আবেদনের একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, শনিবারের বিক্ষোভে নির্মম পুলিশি অভিযানের সময় আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদেরও অহেতুক চলাচলে মারাত্মক বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আন্দোলনরত নিরপরাধ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্দয় পুলিশি নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগও তারা কাঠগড়ায় তোলেন। সার্বিক শুনানি শেষে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে বলেন, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শোনা হবে এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা বা ভোগান্তি না হয়, সেটি পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে দিল্লিতে আন্দোলন দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দোহাই দিয়ে রোববারও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুট ও যানবাহনের গতিপথ সকাল থেকেই ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির প্রায় ৩০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে চলাচল সীমিত রাখার কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে শনিবার জন্তর মন্তরে প্রবেশের পথ পুলিশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জমায়েতের ডাক দিয়েছিল, তবে সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্লেখ্য, এই উত্তাপ শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; মুম্বাইয়েও সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। তবে সেখানে বিখ্যাত আগস্ট ক্রান্তি ময়দান পুলিশ বন্ধ করে দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত স্থান পান মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীও।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট: ইন্টারনেট ও মেট্রোরেল সচল রাখার নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ব্যাপক বিক্ষোভের আবহেই এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ জারি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ তুলে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকা এ আন্দোলনে পুরো দিল্লিজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক ও আন্দোলনকারীদের চরম ভোগান্তি এড়াতে রবিবার মোদী সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, দিল্লিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইন্টারনেট সেবা এবং মেট্রোরেল সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে। একই সাথে ভারতের সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত বিধিবদ্ধ শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলেই সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের তাগিদ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

ভোট কারচুপির প্রতিবাদে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা দিল্লিতে রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও স্বাভাবিক চলাচলের স্বাধীনতাকে পুলিশ জোরপূর্বক সীমিত করছে, এমনই অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন নাগরিক ও আইনজীবীরা।

আবেদনের একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, শনিবারের বিক্ষোভে নির্মম পুলিশি অভিযানের সময় আইনজীবীসহ সাধারণ নাগরিকদেরও অহেতুক চলাচলে মারাত্মক বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আন্দোলনরত নিরপরাধ বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্দয় পুলিশি নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগও তারা কাঠগড়ায় তোলেন। সার্বিক শুনানি শেষে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে বলেন, দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শোনা হবে এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা বা ভোগান্তি না হয়, সেটি পুরোপুরি নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে দিল্লিতে আন্দোলন দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দোহাই দিয়ে রোববারও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুট ও যানবাহনের গতিপথ সকাল থেকেই ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির প্রায় ৩০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে চলাচল সীমিত রাখার কঠোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে শনিবার জন্তর মন্তরে প্রবেশের পথ পুলিশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জমায়েতের ডাক দিয়েছিল, তবে সেখান থেকেও বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্লেখ্য, এই উত্তাপ শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; মুম্বাইয়েও সিজেপির আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। তবে সেখানে বিখ্যাত আগস্ট ক্রান্তি ময়দান পুলিশ বন্ধ করে দেয় এবং আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত স্থান পান মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীও।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত