সংবাদ

"ভোক্তাদের জিম্মি করে আন্দোলন নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে"


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

"ভোক্তাদের জিম্মি করে আন্দোলন নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে"

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সবরকম চেষ্টা করছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, "ভোক্তাদের জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।"

সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এসেনশিয়াল পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি গ্যাস অপারেটরদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংকালে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং এর মূল্য ওঠানামা করছে। জ্বালানির উৎসও খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-কে ভোক্তাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে এলপিজি মূল্য রাখার বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "কথায় কথায় ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়ানো গ্রহণ করা হবে না। আমরা নির্বাচিত সরকার, জনগণের আস্থা নিয়ে সরকারে এসেছি। জনগণ যাতে কোনো অসুবিধায় না পড়ে, সেটি দেখা আমাদের দায়িত্ব। যারা ধর্মঘট দিচ্ছেন, তারা যেন আলোচনার টেবিলে এসে সমস্যার সমাধান করেন।"

মন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে অপারেটরদের সাথে তিনবার বসে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আজকেও আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর আবারও অপারেটরদের সাথে বসে বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না। ব্যবসায়িক লাভ-লোকসান বা কমিশন নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বিইআরসি সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) মহাসচিবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানি যেমন: বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা, যমুনা ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


"ভোক্তাদের জিম্মি করে আন্দোলন নয়, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে"

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সবরকম চেষ্টা করছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, "ভোক্তাদের জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।"

সেই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এসেনশিয়াল পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে ১৯৫৬ সালের আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি গ্যাস অপারেটরদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংকালে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং এর মূল্য ওঠানামা করছে। জ্বালানির উৎসও খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-কে ভোক্তাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে এলপিজি মূল্য রাখার বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "কথায় কথায় ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়ানো গ্রহণ করা হবে না। আমরা নির্বাচিত সরকার, জনগণের আস্থা নিয়ে সরকারে এসেছি। জনগণ যাতে কোনো অসুবিধায় না পড়ে, সেটি দেখা আমাদের দায়িত্ব। যারা ধর্মঘট দিচ্ছেন, তারা যেন আলোচনার টেবিলে এসে সমস্যার সমাধান করেন।"

মন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে অপারেটরদের সাথে তিনবার বসে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আজকেও আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর আবারও অপারেটরদের সাথে বসে বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থায় কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট, ১৯৫৬’ বলবৎ রয়েছে। জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার বরদাশত করবে না। ব্যবসায়িক লাভ-লোকসান বা কমিশন নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে বাজারকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান, বিইআরসি সচিব, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) মহাসচিবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি কোম্পানি যেমন: বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, বেক্সিমকো, ওমেরা, যমুনা ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত