সংবাদ

কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ এএম

কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাই, থিমের চমক, মানুষের ঢল আর উৎসবের আনন্দ। কিন্তু সপ্তমীর সন্ধ্যায় সেই উৎসবই পরিণত হলো ভয়াবহ বিপর্যয়ে। প্রবল বৃষ্টি, মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়, সংকীর্ণ প্রবেশ ও বেরোনোর পথ–সব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে গেল মর্মান্তিক পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনায় ১৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু দর্শনার্থী। রাত পেরিয়ে রবিবার সকালেও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নির্ধারণে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাস্থল উত্তর কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পৌনে আটটার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল প্রচুর। আচমকা বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে থাকা বহু মানুষ আশ্রয়ের জন্য মণ্ডপের দিকে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, মণ্ডপের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের বেরিয়ে আসার পথেও চাপ তৈরি হয়। প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জায়গায় মানুষের এই বিপরীতমুখী চাপ পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তোলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন পড়ে গেলে তাদের পিছনে থাকা মানুষজনও ভারসাম্য হারান। অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে একাধিক সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। প্রবল বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভিড়, সংকীর্ণ রাস্তা, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল কি না এবং মণ্ডপের কাঠামোর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না–সবই খতিয়ে দেখার বিষয়। কিছু প্রতিবেদনে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

মৃত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতের প্রথম দিকের প্রতিবেদনে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তী কয়েকটি প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১৮ এবং রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরের একটি প্রতিবেদনে ১৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২৫ থেকে প্রায় ৩৫ জনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই পার্থক্যের কারণে প্রশাসনের চূড়ান্ত নিশ্চিত হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়। নিহতদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা জারি রয়েছে। 

দুর্ঘটনার পর চোরবাগান পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে পুজো কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। তাদের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দেন। প্রাথমিক তদন্তে পুজো কমিটির ঘোষণা এবং তার পর ভিড়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ধাক্কাধাক্কির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। তবে  ভিড়ের গতিপথ কীভাবে বদলেছিল এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল–এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের পাশাপাশি প্রত্যেক আহতকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সহায়তা ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং যোগ্য পরিবারগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর বিষয়টি পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন

দুর্ঘটনায় নিখোঁজ আত্মীয় বা পরিচিতদের বিষয়ে তথ্য জানতে কলকাতা পুলিশের লালবাজার কন্ট্রোল রুমে জানাতে বলা হয়েছে।  

কলকাতার দুর্গাপুজোয় বিপুল জনসমাগম নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলানো, প্রবেশ ও নির্গমনের পথ আলাদা রাখা, জরুরি পরিষেবার জন্য রাস্তা খোলা রাখা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

২০১৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় অতিরিক্ত ভিড় ঘিরে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয়ও ভিড়ের চাপে আহত হওয়ার ঘটনার পর মণ্ডপ বন্ধ করা হয়েছিল। অতীতের এই ঘটনাগুলি দেখায়, জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কতটা জরুরি।

তদন্তের মুখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রথমত, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ যথেষ্ট ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল কি না। তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না। চতুর্থত, মণ্ডপের কাঠামো এবং অস্থায়ী সিঁড়ি বা চলাচলের পথ যথাযথ নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি হয়েছিল কি না। এই প্রশ্নগুলির উত্তর তথ্যপ্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। 

দুর্গাপুজো বাংলার আবেগ, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম বড় উৎসব। লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে যান। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব নয়; পুলিশ, প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা এবং দর্শনার্থীদের সম্মিলিত সচেতনতাও প্রয়োজন।

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা সেই দায়িত্বের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। সংকীর্ণ রাস্তা, হঠাৎ বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের মতো পরিস্থিতি কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল।

/ 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাই, থিমের চমক, মানুষের ঢল আর উৎসবের আনন্দ। কিন্তু সপ্তমীর সন্ধ্যায় সেই উৎসবই পরিণত হলো ভয়াবহ বিপর্যয়ে। প্রবল বৃষ্টি, মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়, সংকীর্ণ প্রবেশ ও বেরোনোর পথ–সব মিলিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে গেল মর্মান্তিক পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনায় ১৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু দর্শনার্থী। রাত পেরিয়ে রবিবার সকালেও মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নির্ধারণে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাস্থল উত্তর কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পৌনে আটটার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল প্রচুর। আচমকা বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে থাকা বহু মানুষ আশ্রয়ের জন্য মণ্ডপের দিকে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, মণ্ডপের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের বেরিয়ে আসার পথেও চাপ তৈরি হয়। প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জায়গায় মানুষের এই বিপরীতমুখী চাপ পরিস্থিতিকে দ্রুত জটিল করে তোলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন পড়ে গেলে তাদের পিছনে থাকা মানুষজনও ভারসাম্য হারান। অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে একাধিক সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। প্রবল বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভিড়, সংকীর্ণ রাস্তা, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল কি না এবং মণ্ডপের কাঠামোর কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না–সবই খতিয়ে দেখার বিষয়। কিছু প্রতিবেদনে মণ্ডপের একটি অংশ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। 

মৃত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতের প্রথম দিকের প্রতিবেদনে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তী কয়েকটি প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১৮ এবং রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোরের একটি প্রতিবেদনে ১৯ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২৫ থেকে প্রায় ৩৫ জনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই পার্থক্যের কারণে প্রশাসনের চূড়ান্ত নিশ্চিত হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়। নিহতদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা জারি রয়েছে। 

দুর্ঘটনার পর চোরবাগান পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে পুজো কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। তাদের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দেন। প্রাথমিক তদন্তে পুজো কমিটির ঘোষণা এবং তার পর ভিড়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ধাক্কাধাক্কির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। তবে  ভিড়ের গতিপথ কীভাবে বদলেছিল এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল–এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

দুর্ঘটনার পর রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহনের পাশাপাশি প্রত্যেক আহতকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সহায়তা ঘোষণার বাস্তবায়ন এবং যোগ্য পরিবারগুলির কাছে অর্থ পৌঁছনোর বিষয়টি পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন

দুর্ঘটনায় নিখোঁজ আত্মীয় বা পরিচিতদের বিষয়ে তথ্য জানতে কলকাতা পুলিশের লালবাজার কন্ট্রোল রুমে জানাতে বলা হয়েছে।  

কলকাতার দুর্গাপুজোয় বিপুল জনসমাগম নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই জনপ্রিয় মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলানো, প্রবেশ ও নির্গমনের পথ আলাদা রাখা, জরুরি পরিষেবার জন্য রাস্তা খোলা রাখা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

২০১৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের পুজোয় অতিরিক্ত ভিড় ঘিরে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২১ সালে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয়ও ভিড়ের চাপে আহত হওয়ার ঘটনার পর মণ্ডপ বন্ধ করা হয়েছিল। অতীতের এই ঘটনাগুলি দেখায়, জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কতটা জরুরি।

তদন্তের মুখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

প্রথমত, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ যথেষ্ট ছিল কি না। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল কি না। তৃতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না। চতুর্থত, মণ্ডপের কাঠামো এবং অস্থায়ী সিঁড়ি বা চলাচলের পথ যথাযথ নিরাপত্তা মান মেনে তৈরি হয়েছিল কি না। এই প্রশ্নগুলির উত্তর তথ্যপ্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। 

দুর্গাপুজো বাংলার আবেগ, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম বড় উৎসব। লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মণ্ডপে যান। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুজো উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব নয়; পুলিশ, প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা এবং দর্শনার্থীদের সম্মিলিত সচেতনতাও প্রয়োজন।

চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনা সেই দায়িত্বের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। সংকীর্ণ রাস্তা, হঠাৎ বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের মতো পরিস্থিতি কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল।

/ 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত