দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে কি এবার নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা? নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব ইন্ডিয়া জোট। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রবিবার দিল্লিতে ‘চলো দিল্লি’ মিছিল ও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। আর সেই সমাবেশ ঘিরেই এবার নতুন বিতর্ক।
অভিযোগ, বিরোধীদের কর্মসূচির আগে দিল্লির বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিজেপি।
রোববার (১ নভেম্বর) রামলীলা ময়দানে পৌঁছয় ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল। সমাবেশে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।
হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
শনিবারই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল বিরোধী জোট। তার পরদিনই দিল্লির রাজপথে এই মহাসমাবেশ। ফলে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে সমাবেশের আগেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কনট প্লেসের দোকানপাট বন্ধ থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটের মিছিল ও সমাবেশের আগে বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তার দাবি, সমাবেশে আসা মানুষকে দিল্লির বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কনট প্লেসে পৌঁছে তারা দেখেন, দোকানপাট বন্ধ।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাহুল গান্ধী বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষকে কেনাকাটা করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিজেপি জোর করে কনট প্লেসের সমস্ত দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচি ঘিরে পাল্টা সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে ইন্ডিয়া জোট। ফলে কনট প্লেসের দোকান বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে পৃথক মিছিল করেছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে, একদিকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে কনট প্লেসে দোকান বন্ধ থাকার অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে রবিবারের দিল্লির রাজনীতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। তবে রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ থেকে বিরোধীরা কী বার্তা দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে কি এবার নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা? নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব ইন্ডিয়া জোট। ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং SIR প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রবিবার দিল্লিতে ‘চলো দিল্লি’ মিছিল ও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। আর সেই সমাবেশ ঘিরেই এবার নতুন বিতর্ক।
অভিযোগ, বিরোধীদের কর্মসূচির আগে দিল্লির বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিজেপি।
রোববার (১ নভেম্বর) রামলীলা ময়দানে পৌঁছয় ইন্ডিয়া জোটের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল। সমাবেশে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।
হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
শনিবারই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল বিরোধী জোট। তার পরদিনই দিল্লির রাজপথে এই মহাসমাবেশ। ফলে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে সমাবেশের আগেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কনট প্লেসের দোকানপাট বন্ধ থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ইন্ডিয়া জোটের মিছিল ও সমাবেশের আগে বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। তার দাবি, সমাবেশে আসা মানুষকে দিল্লির বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কনট প্লেসে পৌঁছে তারা দেখেন, দোকানপাট বন্ধ।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাহুল গান্ধী বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষকে কেনাকাটা করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, বিজেপি জোর করে কনট প্লেসের সমস্ত দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচি ঘিরে পাল্টা সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে ইন্ডিয়া জোট। ফলে কনট প্লেসের দোকান বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে। অন্যদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে পৃথক মিছিল করেছে বিজেপি।
সব মিলিয়ে, একদিকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে কনট প্লেসে দোকান বন্ধ থাকার অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা বক্তব্য—সব মিলিয়ে রবিবারের দিল্লির রাজনীতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। তবে রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশ থেকে বিরোধীরা কী বার্তা দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত লিখুন