হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে লিমপেট মাইন দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক হামলা চালানো হয়েছে। এমটি লুইস-১ নামের ওই জাহাজটিতে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।
এই আকস্মিক ঘটনায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট একটি নৌযান থেকে জাহাজের গায়ে দুটি শক্তিশালী লিমপেট মাইন লাগিয়ে দেওয়া হলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই হামলাটি সংঘটিত হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই কৌশলগত জলপথে লিমপেট মাইন ব্যবহারের এটিই প্রথম সফল ঘটনা। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজের ভেতরে থাকা নাবিকেরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এর ফলে সমুদ্রে কোনো তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো ভয়াবহ পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি এবং সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে জাহাজটি আবার নিজস্ব গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছে।
গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মেরিস্কস জানিয়েছে, লিমপেট মাইন বেশ সস্তা এবং অত্যন্ত সহজলভ্য একটি বিস্ফোরক। চলমান জাহাজের গায়ে ছোট নৌযান ব্যবহার করে খুব সহজেই এসব মাইন লাগিয়ে দেওয়া যায়, যা অত্যন্ত কম খরচে প্রযুক্তিগতভাবে সহজ ও বেশ কার্যকর একটি নাশকতার পদ্ধতি। এদিকে এই ঘটনার মাত্র একদিন আগেই হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছিল আরেকটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার এমটি আরজানাহ লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু বা প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছিল, যেটিতে ভারতের দুজন নাগরিক ছিলেন।
ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, ওই জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তাদের কেউ আহত হননি। নাবিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। ইরান এই জলপথে চলাচলের বিভিন্ন বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে নিজেদের টার্গেট করছে। মূলত এই স্পর্শকাতর জলপথের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং ওয়াশিংটনের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্যই তেহরান এমন কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বারবার উঠে আসছে।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে লিমপেট মাইন দিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক হামলা চালানো হয়েছে। এমটি লুইস-১ নামের ওই জাহাজটিতে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।
এই আকস্মিক ঘটনায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট একটি নৌযান থেকে জাহাজের গায়ে দুটি শক্তিশালী লিমপেট মাইন লাগিয়ে দেওয়া হলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই হামলাটি সংঘটিত হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই কৌশলগত জলপথে লিমপেট মাইন ব্যবহারের এটিই প্রথম সফল ঘটনা। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজের ভেতরে থাকা নাবিকেরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এর ফলে সমুদ্রে কোনো তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো ভয়াবহ পরিবেশগত ক্ষতি হয়নি এবং সাময়িক অচলাবস্থা কাটিয়ে জাহাজটি আবার নিজস্ব গন্তব্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছে।
গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মেরিস্কস জানিয়েছে, লিমপেট মাইন বেশ সস্তা এবং অত্যন্ত সহজলভ্য একটি বিস্ফোরক। চলমান জাহাজের গায়ে ছোট নৌযান ব্যবহার করে খুব সহজেই এসব মাইন লাগিয়ে দেওয়া যায়, যা অত্যন্ত কম খরচে প্রযুক্তিগতভাবে সহজ ও বেশ কার্যকর একটি নাশকতার পদ্ধতি। এদিকে এই ঘটনার মাত্র একদিন আগেই হরমুজ প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছিল আরেকটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার এমটি আরজানাহ লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু বা প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছিল, যেটিতে ভারতের দুজন নাগরিক ছিলেন।
ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন যে, ওই জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকরা সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তাদের কেউ আহত হননি। নাবিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। ইরান এই জলপথে চলাচলের বিভিন্ন বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে নিজেদের টার্গেট করছে। মূলত এই স্পর্শকাতর জলপথের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং ওয়াশিংটনের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির জন্যই তেহরান এমন কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বারবার উঠে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন