বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশনের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মিশনটি হবে সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরেই এটি কার্যকর করা হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে
অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে ইউরোপ ও
এশিয়ার মোট ৪৯টি দেশ অংশ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যৌথভাবে এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তবে
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত পক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো দেশই এই
আলোচনায় অংশ নেয়নি।
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, এই বহুজাতিক মিশনের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজের
মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মাইন অপসারণে সহায়তা করা। তিনি বলেন,
“পরিস্থিতি অনুকূলে
আসামাত্রই এই মিশন মোতায়েন করা হবে।” ইতোমধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ এই মিশনে সম্পদ ও সামরিক
সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও এই
বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
থেকে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
তবে প্যারিস আলোচনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা পর্যন্ত হরমুজ
প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তেহরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত
জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। তবে তিনি সব পক্ষের জন্য পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে
প্রণালীটি সচল রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে,
তেহরানের এই পদক্ষেপের পর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন,
তিনি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায়
ন্যাটোর (NATO) সহায়তার
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই জোটকে দূরে থাকতে বলেছেন। যদিও প্যারিস
আলোচনায় ন্যাটোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
কিয়ার স্টারমার জোর
দিয়ে বলেছেন যে, বৈশ্বিক
পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা
থাকা জরুরি। আগামী সপ্তাহে লন্ডনের নর্থউডে যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরে
বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রধানরা পুনরায় বৈঠকে বসবেন। সেখানে এই প্রতিরক্ষামূলক
মিশনের কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশনের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে মিশনটি হবে সম্পূর্ণ ‘প্রতিরক্ষামূলক’ এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরেই এটি কার্যকর করা হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে
অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে ইউরোপ ও
এশিয়ার মোট ৪৯টি দেশ অংশ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যৌথভাবে এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তবে
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধরত পক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো দেশই এই
আলোচনায় অংশ নেয়নি।
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, এই বহুজাতিক মিশনের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজের
মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মাইন অপসারণে সহায়তা করা। তিনি বলেন,
“পরিস্থিতি অনুকূলে
আসামাত্রই এই মিশন মোতায়েন করা হবে।” ইতোমধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ এই মিশনে সম্পদ ও সামরিক
সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও এই
বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
থেকে চলা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
তবে প্যারিস আলোচনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা পর্যন্ত হরমুজ
প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তেহরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত
জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। তবে তিনি সব পক্ষের জন্য পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে
প্রণালীটি সচল রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে,
তেহরানের এই পদক্ষেপের পর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন,
তিনি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায়
ন্যাটোর (NATO) সহায়তার
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই জোটকে দূরে থাকতে বলেছেন। যদিও প্যারিস
আলোচনায় ন্যাটোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
কিয়ার স্টারমার জোর
দিয়ে বলেছেন যে, বৈশ্বিক
পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা
থাকা জরুরি। আগামী সপ্তাহে লন্ডনের নর্থউডে যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরে
বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রধানরা পুনরায় বৈঠকে বসবেন। সেখানে এই প্রতিরক্ষামূলক
মিশনের কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন