মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)।
শুক্রবার (১৭
এপ্রিল) সংস্থাটির প্রধান উইলি ওয়ালশ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বার্তা
সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আইএটিএ-এর প্রধান
উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী ছয়
সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমান জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি জানান,
“আমাদের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের
শেষ নাগাদ ইউরোপে জেট ফুয়েলের অভাবে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে শুরু করেছে।”
গত ফেব্রুয়ারির
শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে
ছড়িয়ে পড়লে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়।
যদিও শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি
পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন,
তবুও আন্তর্জাতিক শিপিং ও বীমা কোম্পানিগুলো এখনো চরম সতর্ক
অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণেই জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহ
চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উইলি ওয়ালশ
পরামর্শ দেন যে, যদি
জ্বালানির ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি
সামলাতে কর্তৃপক্ষকে ‘রেশনিং’ বা নিয়ন্ত্রিত বণ্টন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হতে
পারে। এর জন্য এখন থেকেই সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের
(ইইউ) জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি
সামাল দিতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মজুত করা জেট জ্বালানি ভাগাভাগি করে
নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে ইইউ মুখপাত্র আনা-কাইসা ইতকোনেন কিছুটা আশ্বস্ত করে
জানান, এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিলের মতো কোনো
পদ্ধতিগত জ্বালানি সংকটের লক্ষণ এখনো দেখা দেয়নি।
জ্বালানির মূল্য
বৃদ্ধি এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো তাদের
টিকিট বিক্রয় ও ফ্লাইটের সংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের
দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটগুলোর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে আগেভাগেই একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)।
শুক্রবার (১৭
এপ্রিল) সংস্থাটির প্রধান উইলি ওয়ালশ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বার্তা
সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।
আইএটিএ-এর প্রধান
উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) একটি মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী ছয়
সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপে বিমান জ্বালানির মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তিনি জানান,
“আমাদের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের
শেষ নাগাদ ইউরোপে জেট ফুয়েলের অভাবে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে শুরু করেছে।”
গত ফেব্রুয়ারির
শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে
ছড়িয়ে পড়লে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়।
যদিও শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি
পুনরায় খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন,
তবুও আন্তর্জাতিক শিপিং ও বীমা কোম্পানিগুলো এখনো চরম সতর্ক
অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণেই জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহ
চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উইলি ওয়ালশ
পরামর্শ দেন যে, যদি
জ্বালানির ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি
সামলাতে কর্তৃপক্ষকে ‘রেশনিং’ বা নিয়ন্ত্রিত বণ্টন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হতে
পারে। এর জন্য এখন থেকেই সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের
(ইইউ) জ্বালানি কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি
সামাল দিতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের মজুত করা জেট জ্বালানি ভাগাভাগি করে
নেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে ইইউ মুখপাত্র আনা-কাইসা ইতকোনেন কিছুটা আশ্বস্ত করে
জানান, এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে ফ্লাইট বাতিলের মতো কোনো
পদ্ধতিগত জ্বালানি সংকটের লক্ষণ এখনো দেখা দেয়নি।
জ্বালানির মূল্য
বৃদ্ধি এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো তাদের
টিকিট বিক্রয় ও ফ্লাইটের সংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের
দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটগুলোর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন