সংবাদ

বড় রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় সেতুবিহীন করতোয়া


প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

বড় রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় সেতুবিহীন করতোয়া
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বড় রঘুনাথপুর এবং সোহাগী নামক গ্রামের বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর প্রবাহধারা করতোয়া নদী

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বড় রঘুনাথপুর এবং সোহাগী নামক গ্রামের বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর প্রবাহধারা করতোয়া নদী। সেতুবিহীন এই নদীটির মূল ভুক্তভোগী গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগী।

বর্তমানে বড় রঘুনাথপুর, শ্যামপুর, সুন্দাইল এলাকার প্রায় ৭০০-৮০০ লোকের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় (বড় রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুল ও কলেজের জন্য পাড়ি দিতে হয় নৌকাযোগে যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে এই ঝুঁকি বেড়ে হয় দ্বিগুণ। বর্ষার প্রবল ক্ষুরধারায় মাঝে মাঝে নৌকা ডুবির মতো ঘটনা ঘটে থাকে। ছাড়াও নৌকার সুব্যাবস্থা না থাকায় কিংবা দুর্ঘটনা জনিত কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-পত্র নিয়ে ঘরে ফিরে আসা যেন নিত্যদিনের চিত্র। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ফিরে আসতে হয় তাদের নদীর পাড় থেকে দু’চোখ ভরা স্বপ্নকে পদদলিত করে। ফেলে আসতে হয় স্বপ্নগুলো নদীর পাড়েই কিংবা ছুঁড়ে ফেলতে হয় নদীর জলে। এসব শিক্ষার্থীর স্বপ্নগুলো নদীর স্রোতের সাথে ভেসে চলে অবিরাম। স্রোতের মতোই কুল কিনারাহীন স্বপ্নগুলো। গ্রামটির অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়া স্বাপ্নিক শিক্ষার্থীরা তাই পড়াশোনায় বেশ পিছিয়ে।

যেহেতু নদীটি কয়েকটি গ্রামকে আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে আছে তাই শুধু একটি গ্রাম না কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই চর এলাকার উৎপাদিত ফসলের মধ্যে অন্যতম গম, ভুট্টা, পাট, আলু, ডাল, কলা, ও ধান। এসব পণ্য বাজারজাতকরণে কৃষকদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। নৌকা যুগে এসব পারাপারের যেমন প্রচুর পরিশ্রম রয়েছে তেমনি এটি একটি অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও বটে। নির্দিষ্ট সময়ে বাজারজাতকরণে ব্যর্থ হওয়ায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ কৃষকরা। আরেকটি সাধারণ ঘটনা এই যে একই নৌকায় কৃষি পণ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না কারণ কৃষি পণ্য গুলো ওঠানো-নামানোতে বেশ সময়ের প্রয়োজন। নদী এপাড়ের কৃষকদের মতোই ওপাড়ের কৃষকদের এপাড়ে চাষকৃত ফসলগুলো নিয়ে পড়তে হয় বিড়¤^নায়। তারাও তাদের কৃষি পণ্যগুলো সঠিক সময়ে বাজারজাত না করতে পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সবচেয়ে দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক একটি বিষয় এটি যে, সঠিক সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হওয়ায় প্রাণনাশের ঘটনা। গ্রামটিতে চিকিৎসার সুবন্দোবস্তো না থাকায় নদী পার হয়ে শহরগামী হতে হয় চিকিৎসার জন্য। নদী পারাপার যেহেতু একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই গর্ভবতী মা এবং বৃদ্ধ লোকের লোকেরা এর চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ছাড়াও গ্রামটিতে নেই বাজার সুবিধা। প্রত্যহ গ্রামীণ লোকদের নদী পার হতে হয় বাজার সরবরাহ করার জন্য অথবা বাজারে বিক্রি করার জন্য। বাজার বা কৃষি পণ্য বিক্রি করার ক্ষেত্রেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসায়ীরা। এই সবকিছু সমস্যা ও সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ সেতুবিহীন করতোয়া।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবার নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়ে, গ্রামবাসীদের থেকে ভোট আদায় করে বিজয়ী হয় কিন্তু গ্রামবাসীদের এই দুর্ভোগ লাঘবে তাদের আর কোনো কর্মতৎপরতা দেখতে পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে এই জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের বাজেট অনুমোদিত করা হয়েছে বলে ভোক্তভুগীদের আশ্বাস দিয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামটি এখন পর্যন্ত সেতুবিহীন। সেতুটি নির্মিত হলে গ্রামবাসীদের যাতায়াত সহজ হবে; শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত হবে; মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা পাবে।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন এই যে বড়রঘুনাথপুর, শ্যামপুর, সুন্দাইল, ফতেউল্লাহাপুর, সোহাগী গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হোক।

জান্নাতুন ফেরদৌস


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


বড় রঘুনাথপুর গ্রামবাসীর অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় সেতুবিহীন করতোয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বড় রঘুনাথপুর এবং সোহাগী নামক গ্রামের বুক চিরে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর প্রবাহধারা করতোয়া নদী। সেতুবিহীন এই নদীটির মূল ভুক্তভোগী গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগী।

বর্তমানে বড় রঘুনাথপুর, শ্যামপুর, সুন্দাইল এলাকার প্রায় ৭০০-৮০০ লোকের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় (বড় রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুল ও কলেজের জন্য পাড়ি দিতে হয় নৌকাযোগে যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষাকালে এই ঝুঁকি বেড়ে হয় দ্বিগুণ। বর্ষার প্রবল ক্ষুরধারায় মাঝে মাঝে নৌকা ডুবির মতো ঘটনা ঘটে থাকে। ছাড়াও নৌকার সুব্যাবস্থা না থাকায় কিংবা দুর্ঘটনা জনিত কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-পত্র নিয়ে ঘরে ফিরে আসা যেন নিত্যদিনের চিত্র। পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ফিরে আসতে হয় তাদের নদীর পাড় থেকে দু’চোখ ভরা স্বপ্নকে পদদলিত করে। ফেলে আসতে হয় স্বপ্নগুলো নদীর পাড়েই কিংবা ছুঁড়ে ফেলতে হয় নদীর জলে। এসব শিক্ষার্থীর স্বপ্নগুলো নদীর স্রোতের সাথে ভেসে চলে অবিরাম। স্রোতের মতোই কুল কিনারাহীন স্বপ্নগুলো। গ্রামটির অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়া স্বাপ্নিক শিক্ষার্থীরা তাই পড়াশোনায় বেশ পিছিয়ে।

যেহেতু নদীটি কয়েকটি গ্রামকে আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে আছে তাই শুধু একটি গ্রাম না কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই চর এলাকার উৎপাদিত ফসলের মধ্যে অন্যতম গম, ভুট্টা, পাট, আলু, ডাল, কলা, ও ধান। এসব পণ্য বাজারজাতকরণে কৃষকদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। নৌকা যুগে এসব পারাপারের যেমন প্রচুর পরিশ্রম রয়েছে তেমনি এটি একটি অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও বটে। নির্দিষ্ট সময়ে বাজারজাতকরণে ব্যর্থ হওয়ায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ কৃষকরা। আরেকটি সাধারণ ঘটনা এই যে একই নৌকায় কৃষি পণ্য ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না কারণ কৃষি পণ্য গুলো ওঠানো-নামানোতে বেশ সময়ের প্রয়োজন। নদী এপাড়ের কৃষকদের মতোই ওপাড়ের কৃষকদের এপাড়ে চাষকৃত ফসলগুলো নিয়ে পড়তে হয় বিড়¤^নায়। তারাও তাদের কৃষি পণ্যগুলো সঠিক সময়ে বাজারজাত না করতে পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সবচেয়ে দুঃখজনক এবং হৃদয়বিদারক একটি বিষয় এটি যে, সঠিক সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হওয়ায় প্রাণনাশের ঘটনা। গ্রামটিতে চিকিৎসার সুবন্দোবস্তো না থাকায় নদী পার হয়ে শহরগামী হতে হয় চিকিৎসার জন্য। নদী পারাপার যেহেতু একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই গর্ভবতী মা এবং বৃদ্ধ লোকের লোকেরা এর চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ছাড়াও গ্রামটিতে নেই বাজার সুবিধা। প্রত্যহ গ্রামীণ লোকদের নদী পার হতে হয় বাজার সরবরাহ করার জন্য অথবা বাজারে বিক্রি করার জন্য। বাজার বা কৃষি পণ্য বিক্রি করার ক্ষেত্রেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসায়ীরা। এই সবকিছু সমস্যা ও সুবিধাবঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ সেতুবিহীন করতোয়া।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবার নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়ে, গ্রামবাসীদের থেকে ভোট আদায় করে বিজয়ী হয় কিন্তু গ্রামবাসীদের এই দুর্ভোগ লাঘবে তাদের আর কোনো কর্মতৎপরতা দেখতে পাওয়া যায় না। মাঝে মধ্যে এই জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের বাজেট অনুমোদিত করা হয়েছে বলে ভোক্তভুগীদের আশ্বাস দিয়ে থাকে। কিন্তু গ্রামটি এখন পর্যন্ত সেতুবিহীন। সেতুটি নির্মিত হলে গ্রামবাসীদের যাতায়াত সহজ হবে; শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত হবে; মানুষের অমূল্য জীবন রক্ষা পাবে।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন এই যে বড়রঘুনাথপুর, শ্যামপুর, সুন্দাইল, ফতেউল্লাহাপুর, সোহাগী গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হোক।

জান্নাতুন ফেরদৌস



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত