সংবাদ

রম্যগদ্য: “ধুলোভাই জিন্দাবাদ”


জাঁ-নেসার ওসমান
জাঁ-নেসার ওসমান
প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬, ১১:২০ এএম

রম্যগদ্য: “ধুলোভাই জিন্দাবাদ”
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বুলডোজার দিয়ে কলকাতা নিউমার্কেট ভাঙা হয়

“ধুলোভাই জিন্দাবাদ, দাদাবাবু জিন্দাবাদ...”

“কী ব্যাপার হঠাৎ ধুলোভাই জিন্দাবাদ, দাদাবাবু জিন্দাবাদ দিচ্ছিস! দুলাভাই জিন্দাবাদ না হয় বুঝলাম কিন্তু তোর দাদাবাবুর তো দফারফা। তোর কামেরবেটি মার্কা দিদি আর নেই, ফলে তোর দাদাবাবুকে আর টনকা টন ঈলিশ মাছ খেতে হবে না।”

“ধুর মিয়া আপনে আছেন আপনের টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানিতে, হক্কল যায়গায় খালি ব্যবসা খোঁজেন! আমি কই কী, আর আমার সারিন্দায় কয় কী?”

“কেন কেন, দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানীতে দোষ কোথায়?”

“টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানি নারে ভাই অহন রপ্তানি হোইতাছে বুলডোজার! ১৮৭৪ সালে নির্মিত কোলকাতা নিউমার্কেটের সামনে নেড়েগো গোশতের দোকান বুলডোজার দিয়া ভাইঙ্গা দিলো। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকারের মদদপুষ্ট যোদ্ধারা। বুজলাইন, বাংলাদেশ অহন আর কচি শিশুটি নাই! হ্যারা অহন এক্সপোর্ট করে আর্ন্তজাতিক মানের বিজয় মিছিলের আইডিয়া- “দ্যা বুলডোজার!”

“ক’দিন আগে না তোর মমতা দিদি আমাদের নারায়ণগঞ্জের বঙ্গসন্তান, শামীম ওসমানের “খেলা হবে” স্লোগানটা ইম্পোর্ট করেছিলেন...”

“তো! আমাগো নারায়ণগঞ্জের পোলা, শামীম ওসমানের “খেলা হবে” স্লোগানটা ইম্পোর্ট করেছিলেন, তো দোষের কী হোইছে?”

“না দোষের কিছু হয়নি, ৫ আগস্টের পরে শামীম ওসমানের যেমন জনগণ দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত খুলে নিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে পাবলিক তৃণমূলের কর্মীদের ধোলাই করছে, আর নিউমার্কেটের সামনে নেড়েদের গোশতের দোকান বুলডোজার দিয়া ভাঙছে।”

“হেঁ হেঁ হেঁ, বুজেন না “গ্রেটম্যান থিংস অ্যালাইক...”

“এ আবার কী? এখানে “গ্রেটম্যান থিংস অ্যলাইক” কথাটা আসছে ক্যানো?”

“গ্রেটম্যান থিংস অ্যালাইক” কথাটা আইছে ক্যান হেইডা আপনে বুজেন না! দেড়বছর আগে আপনের তত্বাবধায়ক সরকার ক্যেমনে সব বুলডোজিং করতাছিলো ভুইল্লা গেছেন?”

“না না এইসব অসভ্য বর্বর পৈশাচিকতা কেউ কখোনো ভুলবে? আর্শ্চয্য!”

“জ্বী, মুদি সরকারভি ওই আমাগো গ্রেটম্যানের পথ ধইরা বুলডোজিং করতাছে! যতই কন মহাভারত মহাগণতন্ত্রের দেশ, আসলে যেই লাউ হেই কদু, ধর্মান্ধতার কাছে ট্রাম্প কন আর মুদিজী বেবাগতে সেইম সেইম।”

“যাহ তা হয় নাকি, ভারতের সভ্যতা বেনারসের নগরের পত্তন সেতো হাজার হাজার বছরের বৈদিক সভ্যতা। তার সঙ্গে তোর এই অর্ধশতাব্দীর অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত কতগুলো মানুষ নামের জন্তু জানোয়ারে সমাজ পরিচালকের তুলনা কি মানায়?”

“ক্যা, তুলনা হোইবো না ক্যান? ইভিএম ভোটে কারচুপি! এইডা ক্যাডা শিখাইছে? আপনে কন হাজার বছরের সভ্যতা! আমাগোটা অর্ধশতাব্দী না চুয়ান্ন বছর হেই তর্কে আমি যামুনা। তয় আমি কোইকি এইবার কলিকাতার বাঙালি মুসলমানগো খবর আছে। এইবারের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্টে প্রায় নব্বই লাখ মুসলমানের নাম বাদ পড়ছে! ফলে কামের বেটি কন আর ফকিরনি মার্কা দিদি যাই কন হ্যের কিন্তু মোসলমান ভোট ব্যাংক দেওলিয়া হয়া গ্যেছেগা।”

“তা বললে হবে নাকি ওই যে বাবারি মসজিদ ভাঙার পর, ঠিক বাবরি মসজিদের মতো নতুন মসজিদ গড়ার কারিগর জনাব হুমায়ুন কবির আম জনতা পাটি থেকে নিবার্চন লড়ে, তৃণমূল ও বিজেপিকে হারিয়ে জয় লাভ করেছে।”

“বুঝছি বুজছি আপনে মিয়া কোইতে চান পশ্চিম বঙ্গের নির্বাচনের ফল আমাগো ওপর কিছুটা হোইলেও পরভাব ফেলবো। ঠিক আছে কিন্তু আমি কোই কি, যেসব পোলাপান মানে জেন-জীর লড়াকু পোলাগুলা যে মাল খায়া টাল হোইলো হ্যেরা যুদি আবার স্বজনপ্রীতি শুরু করে, তায়লে কোইলাম খবর আছে। দেশের আবার বারটা বাজবো!”

“কিন্তু তুই কি করবি বল, দুলাভায়ের কাছে শালারা আবদার করবেনা? দুলাভাই যদি শালাদের কথা না শুনে তাহলেতো তোর ভাবীর কাছে দুলাভায়ের মুখ থাকবে না!”

“ভাইনা ভালা, আপনে বিগত অর্ধশতাব্দী না চুয়ান্ন বছর হিসাব দিলেন, প্রতিবারই আপনেরা হয় পার্টির প্রধান মন্ত্রী নাইলে নিজ আত্মীয়গো পুরধান মন্ত্রী, কুনো সময় কিন্তু বাংলাদেশের মানে পুরা দেশের পুরধান মন্ত্রী হন নাই! আর পার্টি আর আত্মীয় দেখতে যায়া বার বার বাংলাদেশরে গাথায় ফ্যালাইছেন। এইবারও যদি আপনেরা ধুলো ভাই ধুলোভাই কয়া স্বজনপ্রীতির দিকে যাইতে কন তায়লে হেইতো আবার বাংলদেশরে লয়া গাথায় পড়বো। আবার কোনো হালায় বুলডোজার দিয়া হ্যের আত্মীয় স্বজনগো দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত খুইল্লা নিবো।”

“নাওে না, তুই এই ভয় আর করিস না, এই দুলাভাই মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস’এর দুলাভাই নয়, ইনি অনেক পরিপক্ক। ইনি আর ঝাপসা আলোয় কাঁটা কুটা কিচ্ছু দেখি না, দুলাভাই নয়। ইনি সব কিছুই ঠিক মতো দেখছেন। একযুগ পর দেশের মাটিতে নেমেই কিন্তু তোর এই দুলাভাই বলেছেন, বিশ্বের শোষিতের নেতা মার্টিন লুথার জুনিয়ারের মতো বলেছেন, “আই হ্যাভ এ, প্ল্যান” তাই তুই নিশ্চিন্তে থাক। কেবল একটু ধৈর্য্য ধর তাহলেই হবে।”

“ঠিক আছে ভাই, ওই সব দাদা-দিদিগো চুলা-চুলি থুয়া, নিজেগো দেশটারে সুন্দরমোতো তৈয়ার করারা লাইগ্যা ব্যেবাগতে এক না হোইলে চলেনা। তয় আপনে কথাটা ঠিকই কোইছেন, ব্যেবাগতেওে একটু ধৈর্য্য ধরন লাগবো।”

“এইতো বুদ্ধিমানের মতো কথা। দাদা-দিদিদের বুলডোজার রেখে আমরা সবাই ধৈর্য্য ধরে দেখি দেশের কী হয়।”

“পুরা দেশের জনগণ, একলগে সবে কন, ধৈর্য্য শরণং গচ্ছামি।”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


রম্যগদ্য: “ধুলোভাই জিন্দাবাদ”

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

“ধুলোভাই জিন্দাবাদ, দাদাবাবু জিন্দাবাদ...”

“কী ব্যাপার হঠাৎ ধুলোভাই জিন্দাবাদ, দাদাবাবু জিন্দাবাদ দিচ্ছিস! দুলাভাই জিন্দাবাদ না হয় বুঝলাম কিন্তু তোর দাদাবাবুর তো দফারফা। তোর কামেরবেটি মার্কা দিদি আর নেই, ফলে তোর দাদাবাবুকে আর টনকা টন ঈলিশ মাছ খেতে হবে না।”

“ধুর মিয়া আপনে আছেন আপনের টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানিতে, হক্কল যায়গায় খালি ব্যবসা খোঁজেন! আমি কই কী, আর আমার সারিন্দায় কয় কী?”

“কেন কেন, দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানীতে দোষ কোথায়?”

“টনকা টন ইলিশ মাছ রপ্তানি নারে ভাই অহন রপ্তানি হোইতাছে বুলডোজার! ১৮৭৪ সালে নির্মিত কোলকাতা নিউমার্কেটের সামনে নেড়েগো গোশতের দোকান বুলডোজার দিয়া ভাইঙ্গা দিলো। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত সরকারের মদদপুষ্ট যোদ্ধারা। বুজলাইন, বাংলাদেশ অহন আর কচি শিশুটি নাই! হ্যারা অহন এক্সপোর্ট করে আর্ন্তজাতিক মানের বিজয় মিছিলের আইডিয়া- “দ্যা বুলডোজার!”

“ক’দিন আগে না তোর মমতা দিদি আমাদের নারায়ণগঞ্জের বঙ্গসন্তান, শামীম ওসমানের “খেলা হবে” স্লোগানটা ইম্পোর্ট করেছিলেন...”

“তো! আমাগো নারায়ণগঞ্জের পোলা, শামীম ওসমানের “খেলা হবে” স্লোগানটা ইম্পোর্ট করেছিলেন, তো দোষের কী হোইছে?”

“না দোষের কিছু হয়নি, ৫ আগস্টের পরে শামীম ওসমানের যেমন জনগণ দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত খুলে নিয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে পাবলিক তৃণমূলের কর্মীদের ধোলাই করছে, আর নিউমার্কেটের সামনে নেড়েদের গোশতের দোকান বুলডোজার দিয়া ভাঙছে।”

“হেঁ হেঁ হেঁ, বুজেন না “গ্রেটম্যান থিংস অ্যালাইক...”

“এ আবার কী? এখানে “গ্রেটম্যান থিংস অ্যলাইক” কথাটা আসছে ক্যানো?”

“গ্রেটম্যান থিংস অ্যালাইক” কথাটা আইছে ক্যান হেইডা আপনে বুজেন না! দেড়বছর আগে আপনের তত্বাবধায়ক সরকার ক্যেমনে সব বুলডোজিং করতাছিলো ভুইল্লা গেছেন?”

“না না এইসব অসভ্য বর্বর পৈশাচিকতা কেউ কখোনো ভুলবে? আর্শ্চয্য!”

“জ্বী, মুদি সরকারভি ওই আমাগো গ্রেটম্যানের পথ ধইরা বুলডোজিং করতাছে! যতই কন মহাভারত মহাগণতন্ত্রের দেশ, আসলে যেই লাউ হেই কদু, ধর্মান্ধতার কাছে ট্রাম্প কন আর মুদিজী বেবাগতে সেইম সেইম।”

“যাহ তা হয় নাকি, ভারতের সভ্যতা বেনারসের নগরের পত্তন সেতো হাজার হাজার বছরের বৈদিক সভ্যতা। তার সঙ্গে তোর এই অর্ধশতাব্দীর অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত কতগুলো মানুষ নামের জন্তু জানোয়ারে সমাজ পরিচালকের তুলনা কি মানায়?”

“ক্যা, তুলনা হোইবো না ক্যান? ইভিএম ভোটে কারচুপি! এইডা ক্যাডা শিখাইছে? আপনে কন হাজার বছরের সভ্যতা! আমাগোটা অর্ধশতাব্দী না চুয়ান্ন বছর হেই তর্কে আমি যামুনা। তয় আমি কোইকি এইবার কলিকাতার বাঙালি মুসলমানগো খবর আছে। এইবারের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্টে প্রায় নব্বই লাখ মুসলমানের নাম বাদ পড়ছে! ফলে কামের বেটি কন আর ফকিরনি মার্কা দিদি যাই কন হ্যের কিন্তু মোসলমান ভোট ব্যাংক দেওলিয়া হয়া গ্যেছেগা।”

“তা বললে হবে নাকি ওই যে বাবারি মসজিদ ভাঙার পর, ঠিক বাবরি মসজিদের মতো নতুন মসজিদ গড়ার কারিগর জনাব হুমায়ুন কবির আম জনতা পাটি থেকে নিবার্চন লড়ে, তৃণমূল ও বিজেপিকে হারিয়ে জয় লাভ করেছে।”

“বুঝছি বুজছি আপনে মিয়া কোইতে চান পশ্চিম বঙ্গের নির্বাচনের ফল আমাগো ওপর কিছুটা হোইলেও পরভাব ফেলবো। ঠিক আছে কিন্তু আমি কোই কি, যেসব পোলাপান মানে জেন-জীর লড়াকু পোলাগুলা যে মাল খায়া টাল হোইলো হ্যেরা যুদি আবার স্বজনপ্রীতি শুরু করে, তায়লে কোইলাম খবর আছে। দেশের আবার বারটা বাজবো!”

“কিন্তু তুই কি করবি বল, দুলাভায়ের কাছে শালারা আবদার করবেনা? দুলাভাই যদি শালাদের কথা না শুনে তাহলেতো তোর ভাবীর কাছে দুলাভায়ের মুখ থাকবে না!”

“ভাইনা ভালা, আপনে বিগত অর্ধশতাব্দী না চুয়ান্ন বছর হিসাব দিলেন, প্রতিবারই আপনেরা হয় পার্টির প্রধান মন্ত্রী নাইলে নিজ আত্মীয়গো পুরধান মন্ত্রী, কুনো সময় কিন্তু বাংলাদেশের মানে পুরা দেশের পুরধান মন্ত্রী হন নাই! আর পার্টি আর আত্মীয় দেখতে যায়া বার বার বাংলাদেশরে গাথায় ফ্যালাইছেন। এইবারও যদি আপনেরা ধুলো ভাই ধুলোভাই কয়া স্বজনপ্রীতির দিকে যাইতে কন তায়লে হেইতো আবার বাংলদেশরে লয়া গাথায় পড়বো। আবার কোনো হালায় বুলডোজার দিয়া হ্যের আত্মীয় স্বজনগো দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত খুইল্লা নিবো।”

“নাওে না, তুই এই ভয় আর করিস না, এই দুলাভাই মাছের রাজা ইলিশ আর বাত্তির রাজা ফিলিপস’এর দুলাভাই নয়, ইনি অনেক পরিপক্ক। ইনি আর ঝাপসা আলোয় কাঁটা কুটা কিচ্ছু দেখি না, দুলাভাই নয়। ইনি সব কিছুই ঠিক মতো দেখছেন। একযুগ পর দেশের মাটিতে নেমেই কিন্তু তোর এই দুলাভাই বলেছেন, বিশ্বের শোষিতের নেতা মার্টিন লুথার জুনিয়ারের মতো বলেছেন, “আই হ্যাভ এ, প্ল্যান” তাই তুই নিশ্চিন্তে থাক। কেবল একটু ধৈর্য্য ধর তাহলেই হবে।”

“ঠিক আছে ভাই, ওই সব দাদা-দিদিগো চুলা-চুলি থুয়া, নিজেগো দেশটারে সুন্দরমোতো তৈয়ার করারা লাইগ্যা ব্যেবাগতে এক না হোইলে চলেনা। তয় আপনে কথাটা ঠিকই কোইছেন, ব্যেবাগতেওে একটু ধৈর্য্য ধরন লাগবো।”

“এইতো বুদ্ধিমানের মতো কথা। দাদা-দিদিদের বুলডোজার রেখে আমরা সবাই ধৈর্য্য ধরে দেখি দেশের কী হয়।”

“পুরা দেশের জনগণ, একলগে সবে কন, ধৈর্য্য শরণং গচ্ছামি।”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত