অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৯ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে।শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রাম থেকে আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি নামে ওই শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাফি ওই গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী নূর মুহাম্মদ খোকন (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে রাফিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তাগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আজ সকালে প্রতিবেশী খোকনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন স্বীকার করেন যে তিনি রাফিকে হত্যা করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর থেকে রাফির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, খোকন অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। রাফির বাবা জহিরুল ইসলাম তাকে জুয়া খেলতে নিষেধ করতেন। সম্প্রতি খোকন একজনের কাছে অনলাইন জুয়া খেলার এক লাখ টাকা পেতেন। জহিরুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে সেই টাকা উদ্ধার করে দেন এবং সেখান থেকে একটি অংশ তারা রেখে দেন। এতে খোকন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। বাবার ওপর সেই প্রতিশোধ নিতেই তিনি রাফিকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করেন।
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খোকনকে জুয়া খেলতে নিষেধ করতাম। টাকা উদ্ধারের বিষয় নিয়ে ও আমার ওপর রেগে ছিল। সেই ঝাল আমার অবুঝ ছেলের ওপর মেটাল। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, নিখোঁজ ডায়েরির পর তদন্তে নেমে খোকনকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান থেকেই লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন