সংবাদ

রাবি

ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার, শিক্ষার্থীকে ‘তিন টুকরা’ করার হুমকির অভিযোগ


প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম

ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার, শিক্ষার্থীকে ‘তিন টুকরা’ করার হুমকির অভিযোগ

ফেইসবুকে পোস্ট শেয়ার ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ শব্দ ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইবাইদুর রহমান খান আবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলটির ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র।

লিখিত অভিযোগে আবিদ উল্লেখ করেন, হল সমাপনী উপলক্ষে শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী গান-বাজনা ও আনন্দ-উল্লাসের এক পর্যায়ে তাপসী রাবেয়া হলের সামনে কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এ ঘটনার কিছু ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি তা নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেন। শেয়ার করার সময় ক্যাপশনে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ স্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, পোস্টটি শেয়ার করার পর হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে দ্রুত হলে এসে দেখা করতে বলে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত না হলে তার বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি হলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা হয়নি।

এরপর রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আবিদ। তিনি বলেন, ফোনে তাকে ‘তিন টুকরা করে তিন ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে’ এবং ‘কোনো অবস্থাতেই হলে থাকতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে তার বিছানাপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় বর্তমানে হলের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

আবিদ বলেন, “আমি আমার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু আমাকে যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। এজন্যই নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর যদি আমি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হই, তাহলে এর দায় হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্রদল নেতা নাফিউল ইসলাম জীবন এবং হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিতে হবে।”

অভিযোগে নাম আসা শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। রাতে ঝামেলার খবর শুনে সেখানে যাই। ওই ছেলের সঙ্গে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সমস্যা ছিল। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম দূর্জয় বলেন, “আমার নম্বর থেকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। সে কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবে না। তাকে ডাকা হয়েছিল শুধু পোস্টে দেওয়া গালির জন্য সরি বলানোর উদ্দেশ্যে। এটা পুরো ব্যাচের সিদ্ধান্ত ছিল।”

আরেক অভিযুক্ত রিপন বলেন, “নম্বরটি আমার হলেও তখন অন্য কেউ কথা বলেছে। সবাই উত্তেজিত ছিল, ঠিক কে কথা বলেছে সেটা মনে নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিল। সেখানে ওই শিক্ষার্থী তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। এরপরও যদি কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীকে হলে থাকতে বলা হয়েছে এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে তারা তাকে মাফ করে দিয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


ফেইসবুক পোস্ট শেয়ার, শিক্ষার্থীকে ‘তিন টুকরা’ করার হুমকির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ফেইসবুকে পোস্ট শেয়ার ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ শব্দ ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইবাইদুর রহমান খান আবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলটির ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র।

লিখিত অভিযোগে আবিদ উল্লেখ করেন, হল সমাপনী উপলক্ষে শহীদ হবিবুর রহমান হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী গান-বাজনা ও আনন্দ-উল্লাসের এক পর্যায়ে তাপসী রাবেয়া হলের সামনে কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। এ ঘটনার কিছু ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি তা নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেন। শেয়ার করার সময় ক্যাপশনে কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ স্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, পোস্টটি শেয়ার করার পর হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে দ্রুত হলে এসে দেখা করতে বলে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপস্থিত না হলে তার বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি হলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা হয়নি।

এরপর রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে একাধিকবার ফোন করে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আবিদ। তিনি বলেন, ফোনে তাকে ‘তিন টুকরা করে তিন ব্লকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে’ এবং ‘কোনো অবস্থাতেই হলে থাকতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে তার বিছানাপত্র কক্ষের বাইরে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এবং শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় বর্তমানে হলের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

আবিদ বলেন, “আমি আমার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু আমাকে যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়নি। এজন্যই নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর যদি আমি শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হই, তাহলে এর দায় হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্রদল নেতা নাফিউল ইসলাম জীবন এবং হলের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিতে হবে।”

অভিযোগে নাম আসা শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি আগে কিছু জানতাম না। রাতে ঝামেলার খবর শুনে সেখানে যাই। ওই ছেলের সঙ্গে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সমস্যা ছিল। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম দূর্জয় বলেন, “আমার নম্বর থেকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। সে কোনো প্রমাণও দেখাতে পারবে না। তাকে ডাকা হয়েছিল শুধু পোস্টে দেওয়া গালির জন্য সরি বলানোর উদ্দেশ্যে। এটা পুরো ব্যাচের সিদ্ধান্ত ছিল।”

আরেক অভিযুক্ত রিপন বলেন, “নম্বরটি আমার হলেও তখন অন্য কেউ কথা বলেছে। সবাই উত্তেজিত ছিল, ঠিক কে কথা বলেছে সেটা মনে নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিল। সেখানে ওই শিক্ষার্থী তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। এরপরও যদি কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীকে হলে থাকতে বলা হয়েছে এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে তারা তাকে মাফ করে দিয়েছে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত