সংবাদ

দেশে এখন মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

দেশে এখন মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

অতীতে দেশে ‘দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সেসময় ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

র‌বিবার (১০ মে) ঢাকায় ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে এক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক এই জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট। ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না। ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”

চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।”

তিনি বলেন, “জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান প্রমুখ। সেমিনার শেষে তথ্যমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


দেশে এখন মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

অতীতে দেশে ‘দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সেসময় ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

র‌বিবার (১০ মে) ঢাকায় ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে এক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক এই জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট। ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না। ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”

চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।”

তিনি বলেন, “জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান প্রমুখ। সেমিনার শেষে তথ্যমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত