সংবাদ

চলচ্চিত্রের প্রভাব নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

চলচ্চিত্রের প্রভাব নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

চলচ্চিত্র যে কেবল আনন্দ বিনোদনের খোরাক নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দেওয়ার এক শক্তিশালী হাতিয়ার ব‌লে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের যৌথ উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। একটি সৃষ্টিশীল কাজ, হোক তা চলচ্চিত্র বা বই, মানুষের চিন্তায় গভীর পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ ঘটাতে সক্ষম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা যোগাযোগ ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে জড়িত, সমাজের মানুষের চিন্তার কাঠামো তৈরিতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের কাজের মাধ্যমেই সমাজে নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম হয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

​উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ এর ভারত ভাগ আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

তবে এই ঐতিহাসিক প্রভাব যেন মানুষের চিন্তার স্বাধীনতাকে কোনোভাবে সীমাবদ্ধ করে না ফেলে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রম আরও বাড়ানোর এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করার তাগিদ দেন।

​বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সত্যজিৎ রায়ের মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”

সমসাময়িক বাস্তবতায় এই জীবনবোধকে ধারণ করে সমাজকে এগিয়ে নিতে তিনি সৃজনশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মূল অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী সত্যজিৎ রায়ের ওপর সাজানো একটি চিত্রপ্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ার বাড়ে, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈন উদ্দিন খালেদ, বিশিষ্ট নির্মাতা তানভির মোকাম্মেল, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বিধান রিবেরু। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রপ্রেমী এই উৎসবে অংশ নেন। উৎসব শেষে তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


চলচ্চিত্রের প্রভাব নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

চলচ্চিত্র যে কেবল আনন্দ বিনোদনের খোরাক নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তার জগৎ বদলে দেওয়ার এক শক্তিশালী হাতিয়ার ব‌লে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের যৌথ উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। একটি সৃষ্টিশীল কাজ, হোক তা চলচ্চিত্র বা বই, মানুষের চিন্তায় গভীর পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ ঘটাতে সক্ষম।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যারা যোগাযোগ ও সৃজনশীল কাজের সঙ্গে জড়িত, সমাজের মানুষের চিন্তার কাঠামো তৈরিতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। তাদের কাজের মাধ্যমেই সমাজে নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম হয় বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

​উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ এর ভারত ভাগ আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”

তবে এই ঐতিহাসিক প্রভাব যেন মানুষের চিন্তার স্বাধীনতাকে কোনোভাবে সীমাবদ্ধ করে না ফেলে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যক্রম আরও বাড়ানোর এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ নিবিড় করার তাগিদ দেন।

​বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সত্যজিৎ রায়ের মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”

সমসাময়িক বাস্তবতায় এই জীবনবোধকে ধারণ করে সমাজকে এগিয়ে নিতে তিনি সৃজনশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মূল অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী সত্যজিৎ রায়ের ওপর সাজানো একটি চিত্রপ্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ার বাড়ে, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈন উদ্দিন খালেদ, বিশিষ্ট নির্মাতা তানভির মোকাম্মেল, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বিধান রিবেরু। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রপ্রেমী এই উৎসবে অংশ নেন। উৎসব শেষে তথ্যমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত