চলতি মাসের শেষে বা জুনের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্কের ‘বরফ ভাঙানোর’ কাজ করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাণিজ্য, শুল্ক, পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ে প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্র: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত চিকিৎসা ভিসা ইস্যু করছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যটক ভিসা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষে বা জুনের শুরুতেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এই সফরকে ‘আইসব্রেকার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে।এটি ছিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। এই সফরের পর পর্যটক ভিসা ও দুই দেশের প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় চালুর পথ সুগম হয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্ক, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কনস্যুলার বিষয়ে প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় শুরুর আলোচনা চলছে। এই বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে ঢাকার কিছু বক্তৃতায় দিল্লি তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ দেখেছিল।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ হয়েছে। সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার জায়গায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসায় সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখন বাণিজ্যভিত্তিক ও বাস্তববাদী যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা দেওয়া ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ভারত। সরকার পরিবর্তনের আগে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার ভিসা দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তা নেমে আসে ১ থেকে দেড় হাজারে। ভারত তখন শুধু জরুরি ও চিকিৎসা প্রয়োজনে ভিসা দিচ্ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা।
দুই দেশের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, প্রযুক্তিগত বৈঠক শুরু হলে গত কয়েক বছরে দুই সরকারের ওপর আরোপিত বাণিজ্যপ্রতিবন্ধকতা ও ট্রান্সশিপমেন্ট সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দূর হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা দেওয়া ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ভারত

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
চলতি মাসের শেষে বা জুনের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্কের ‘বরফ ভাঙানোর’ কাজ করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাণিজ্য, শুল্ক, পানি বণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ে প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্র: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত চিকিৎসা ভিসা ইস্যু করছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি পর্যটক ভিসা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষে বা জুনের শুরুতেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এই সফরকে ‘আইসব্রেকার’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে।এটি ছিল বাংলাদেশে রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। এই সফরের পর পর্যটক ভিসা ও দুই দেশের প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় চালুর পথ সুগম হয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্ক, পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কনস্যুলার বিষয়ে প্রযুক্তিগত বৈঠক পুনরায় শুরুর আলোচনা চলছে। এই বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে ঢাকার কিছু বক্তৃতায় দিল্লি তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ দেখেছিল।
তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ হয়েছে। সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার জায়গায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আসায় সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখন বাণিজ্যভিত্তিক ও বাস্তববাদী যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা দেওয়া ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ভারত। সরকার পরিবর্তনের আগে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার ভিসা দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে তা নেমে আসে ১ থেকে দেড় হাজারে। ভারত তখন শুধু জরুরি ও চিকিৎসা প্রয়োজনে ভিসা দিচ্ছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কূটনৈতিক টানাপড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতির সময় ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা।
দুই দেশের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, প্রযুক্তিগত বৈঠক শুরু হলে গত কয়েক বছরে দুই সরকারের ওপর আরোপিত বাণিজ্যপ্রতিবন্ধকতা ও ট্রান্সশিপমেন্ট সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দূর হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা দেওয়া ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয় ভারত

আপনার মতামত লিখুন