সংবাদ

খুনের এক মাস পর যমুনায় আবারও গোলাগুলি, বেপরোয়া বালুখেকোরা


প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

খুনের এক মাস পর যমুনায় আবারও গোলাগুলি, বেপরোয়া বালুখেকোরা
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের গা ঘেঁষেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ছবি : সংবাদ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে রোববার (১০ মে) এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল বালু উত্তোলনের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মিরাজ নামে এক ম্যানেজার খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডের এক মাস সাত দিনের মাথায় আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনরাত যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক টাওয়ারসহ শত শত বিঘা জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ড্রেজার ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮টি বড় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু বাল্কহেডে করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে একটি মসজিদ, হাজার বিঘা কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘মুজিব কেল্লা’, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের বিশাল টাওয়ার ভাঙনের মুখে রয়েছে।

ভাঙনের শিকার ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘নদীতে এখন ভাঙন থাকার কথা নয়। কিন্তু ড্রেজারে বালু তোলার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবাদ করলে বালু ব্যবসায়ী চক্রটি মামলা ও হামলার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না।

এদিকে জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়ে পিজিসিবির একজন প্রকৌশলী জানান, তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে টাওয়ারগুলো সরাসরি ঝুঁকিতে না থাকলেও খনন অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে আরিচা ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মূল হোতাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যারা আইন অমান্য করে বালু তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল মিরাজ খুনের ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


খুনের এক মাস পর যমুনায় আবারও গোলাগুলি, বেপরোয়া বালুখেকোরা

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ আয়ের ভাগাভাগি নিয়ে রোববার (১০ মে) এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল বালু উত্তোলনের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মিরাজ নামে এক ম্যানেজার খুন হন। ওই হত্যাকাণ্ডের এক মাস সাত দিনের মাথায় আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটল। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনরাত যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডের বৈদ্যুতিক টাওয়ারসহ শত শত বিঘা জমি ও বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার ড্রেজার ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৮টি বড় ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এসব বালু বাল্কহেডে করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে একটি মসজিদ, হাজার বিঘা কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘মুজিব কেল্লা’, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের বিশাল টাওয়ার ভাঙনের মুখে রয়েছে।

ভাঙনের শিকার ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘নদীতে এখন ভাঙন থাকার কথা নয়। কিন্তু ড্রেজারে বালু তোলার কারণে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রতিবাদ করলে বালু ব্যবসায়ী চক্রটি মামলা ও হামলার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না।

এদিকে জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়ে পিজিসিবির একজন প্রকৌশলী জানান, তারা এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে টাওয়ারগুলো সরাসরি ঝুঁকিতে না থাকলেও খনন অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে আরিচা ঘাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মূল হোতাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যারা আইন অমান্য করে বালু তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল মিরাজ খুনের ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত