কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে ছয়টি প্রধান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। রোববার (১০ মে) উখিয়ার বিভিন্ন শিখন কেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য বর্তমানে মিয়ানমার ভাষা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস ও বিজ্ঞান—এই ছয়টি বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শিখন কেন্দ্রগুলোতে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুযায়ী দ্বাদশ শ্রেণি (গ্রেড-১২) পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ইউনিসেফ ও ব্র্যাক পরিচালিত তিনটি লার্নিং সেন্টার ঘুরে দেখেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। মানবিক সংকটের মধ্যেও তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি একটি প্রজন্মকে সহিংসতা ও হতাশার অন্ধকার ভবিষ্যৎ থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও উন্নয়ন সহযোগীদের এই শিক্ষা কার্যক্রমে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় শিখন কেন্দ্রগুলোর শিক্ষকরা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার শহরের লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টারে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত ‘প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও অ্যাডভান্সড আইসিটি’ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।
আপনার মতামত লিখুন