পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের রেশ এবার ছড়িয়ে পড়ল আন্তর্জাতিক মহলেও। বাংলায় ঐতিহাসিক জয় এবং আসামে ক্ষমতা ধরে রাখার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে। মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচনী ফলাফল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সদস্য সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, এমনকি চিন কমিউনিস্ট পার্টি-কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিজেপির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটির কাছাকাছি, যা বিশ্বের অন্য যে কোনও রাজনৈতিক দলের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মানব ইতিহাসে অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার তুলনায় নরেন্দ্র মোদির পক্ষে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে- যা তার জনপ্রিয়তার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে আসামে বিজেপি ৮২টি আসনে জয় পেয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছে। পাশাপাশি পুদুচেরিতেও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স (এনডিএ) সরকার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই নিবন্ধের লেখক বিল ড্রেক্সেল, যিনি হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো। তার মতে, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত দ্রুত একটি প্রভাবশালী বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিকে আরও বিস্তৃত করছে।
ড্রেক্সেল তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও নরেন্দ্র মোদী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নেতাদের তুলনায় জনপ্রিয়তায় অনেকটাই এগিয়ে।”তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় এই বার্তাই দিচ্ছে যে, দলের রাজনৈতিক বিস্তার এখনও থেমে যায়নি, বরং নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সাফল্য যে এখন বিশ্বরাজনীতির আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে এই প্রতিবেদন।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে বিজেপির সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের রেশ এবার ছড়িয়ে পড়ল আন্তর্জাতিক মহলেও। বাংলায় ঐতিহাসিক জয় এবং আসামে ক্ষমতা ধরে রাখার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে। মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিজেপির এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচনী ফলাফল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সদস্য সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, এমনকি চিন কমিউনিস্ট পার্টি-কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিজেপির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটির কাছাকাছি, যা বিশ্বের অন্য যে কোনও রাজনৈতিক দলের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মানব ইতিহাসে অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার তুলনায় নরেন্দ্র মোদির পক্ষে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে- যা তার জনপ্রিয়তার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে আসামে বিজেপি ৮২টি আসনে জয় পেয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরেছে। পাশাপাশি পুদুচেরিতেও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স (এনডিএ) সরকার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এই নিবন্ধের লেখক বিল ড্রেক্সেল, যিনি হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো। তার মতে, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভারত দ্রুত একটি প্রভাবশালী বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে এবং সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক শক্তিকে আরও বিস্তৃত করছে।
ড্রেক্সেল তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও নরেন্দ্র মোদী অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের নেতাদের তুলনায় জনপ্রিয়তায় অনেকটাই এগিয়ে।”তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় এই বার্তাই দিচ্ছে যে, দলের রাজনৈতিক বিস্তার এখনও থেমে যায়নি, বরং নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সাফল্য যে এখন বিশ্বরাজনীতির আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে এই প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন