সংবাদ

মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে ক্ষোভ, এবার চিরবিদায় নিলেন বাবাও


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে ক্ষোভ, এবার চিরবিদায় নিলেন বাবাও
মেয়ের ছবির পাশেই পড়ে আছে বিচার চেয়ে ফেরা বাবার নিথর দেহ। ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রহস্যজনক কারণে মারা যাওয়া মেয়ে সাজিদা খাতুনের (৩৫) শোক এবং মামলার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে চলে গেলেন বাবা কেরামত আলী মোল্লা। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, মেয়ের মৃত্যুর বিচার পাওয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

নিহত কেরামত আলীর মেয়ে সাজিদা খাতুন গত শুক্রবার রাতে স্বামীর বাড়িতে মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে আজ দুপুরে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিল নিহতের পরিবার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেরামত আলীও। সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পরই তার মৃত্যুর খবর আসে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, সাজিদা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে তা পরিবর্তন করে মাত্র দুজনকে আসামি করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ওসির চাপে তড়িঘড়ি করে তারা একটি নতুন এজাহারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন, যা মূল অভিযোগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

স্বজনদের দাবি, সাজিদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত শুক্রবার রাতেও তাকে মারধর করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিগঞ্জের চন্ডীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাজিদার বাবার বাড়ি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে ক্ষোভ, এবার চিরবিদায় নিলেন বাবাও

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রহস্যজনক কারণে মারা যাওয়া মেয়ে সাজিদা খাতুনের (৩৫) শোক এবং মামলার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে চলে গেলেন বাবা কেরামত আলী মোল্লা। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। পরিবারের দাবি, মেয়ের মৃত্যুর বিচার পাওয়া নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

নিহত কেরামত আলীর মেয়ে সাজিদা খাতুন গত শুক্রবার রাতে স্বামীর বাড়িতে মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ প্রকৃত আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে আজ দুপুরে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিল নিহতের পরিবার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেরামত আলীও। সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পরই তার মৃত্যুর খবর আসে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, সাজিদা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে তা পরিবর্তন করে মাত্র দুজনকে আসামি করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ওসির চাপে তড়িঘড়ি করে তারা একটি নতুন এজাহারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন, যা মূল অভিযোগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

স্বজনদের দাবি, সাজিদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত শুক্রবার রাতেও তাকে মারধর করা হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিগঞ্জের চন্ডীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাজিদার বাবার বাড়ি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত