মাথার ওপর কংক্রিটের ছাদ থাকলেও চারপাশটা খোলা। পাশ দিয়েই তীব্র গতিতে বয়ে চলেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানবাহন। ধুলোবালি, ধোঁয়া আর যান্ত্রিক কোলাহলের মধ্যেই কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি বছর। ঢাকার প্রবেশদ্বার মানিকগঞ্জের গোলড়া ব্রিজের নিচের অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এভাবেই দিন কাটছে এক পরিচয়হীন বৃদ্ধার।
বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধা নিজের নাম কিংবা ঠিকানা কোনো কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ বছর আগে কে বা কারা তাকে এই ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়। তারপর থেকে এই মহাসড়কের ফুটপাত আর ব্রিজের নিচের অংশটুকুই তার ঠিকানা।
চরম অমানবিকতার এই চিত্রপটে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী, নাম আবদুল্লাহ। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই কেবল ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে গত দুই বছর ধরে এই বৃদ্ধার দেখভাল করছেন তিনি। প্রতিদিন নিয়মিত খাবার দেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃদ্ধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছায়ার মতো পাশে থাকছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবী আবদুল্লাহ বলেন, "প্রথম যখন ওনাকে এই ব্রিজের নিচে দেখি, তখন শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। বিবেকের তাড়না থেকেই ওনার পাশে দাঁড়িয়েছি। সাধ্যমতো দুই বছর ধরে দেখাশোনা করছি। কিন্তু একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীর পক্ষে একা দীর্ঘমেয়াদে এই দায়িত্ব টানা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ওনার একটি স্থায়ী ঠিকানা ও শেষ বয়সে পরিবারের ভালোবাসা প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, বৃদ্ধা মাঝেমধ্যে অস্পষ্ট ভাষায় স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু সঠিক তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, আবদুল্লাহর এই নিঃস্বার্থ সেবা এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে একজন বৃদ্ধার এভাবে বছরের পর বছর মহাসড়কের নিচে পড়ে থাকাটা সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
আপাতত আবদুল্লাহর প্রচেষ্টায় বৃদ্ধা বেঁচে থাকলেও তার স্থায়ী পুনর্বাসন জরুরি। তাকে আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, মানবাধিকার সংস্থা ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই স্বেচ্ছাসেবী।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
মাথার ওপর কংক্রিটের ছাদ থাকলেও চারপাশটা খোলা। পাশ দিয়েই তীব্র গতিতে বয়ে চলেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যানবাহন। ধুলোবালি, ধোঁয়া আর যান্ত্রিক কোলাহলের মধ্যেই কেটে গেছে দীর্ঘ দুটি বছর। ঢাকার প্রবেশদ্বার মানিকগঞ্জের গোলড়া ব্রিজের নিচের অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এভাবেই দিন কাটছে এক পরিচয়হীন বৃদ্ধার।
বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধা নিজের নাম কিংবা ঠিকানা কোনো কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২ বছর আগে কে বা কারা তাকে এই ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়। তারপর থেকে এই মহাসড়কের ফুটপাত আর ব্রিজের নিচের অংশটুকুই তার ঠিকানা।
চরম অমানবিকতার এই চিত্রপটে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী, নাম আবদুল্লাহ। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই কেবল ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে গত দুই বছর ধরে এই বৃদ্ধার দেখভাল করছেন তিনি। প্রতিদিন নিয়মিত খাবার দেওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃদ্ধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছায়ার মতো পাশে থাকছেন তিনি।
স্বেচ্ছাসেবী আবদুল্লাহ বলেন, "প্রথম যখন ওনাকে এই ব্রিজের নিচে দেখি, তখন শারীরিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। বিবেকের তাড়না থেকেই ওনার পাশে দাঁড়িয়েছি। সাধ্যমতো দুই বছর ধরে দেখাশোনা করছি। কিন্তু একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীর পক্ষে একা দীর্ঘমেয়াদে এই দায়িত্ব টানা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ওনার একটি স্থায়ী ঠিকানা ও শেষ বয়সে পরিবারের ভালোবাসা প্রয়োজন।"
তিনি আরও জানান, বৃদ্ধা মাঝেমধ্যে অস্পষ্ট ভাষায় স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু সঠিক তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, আবদুল্লাহর এই নিঃস্বার্থ সেবা এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে একজন বৃদ্ধার এভাবে বছরের পর বছর মহাসড়কের নিচে পড়ে থাকাটা সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
আপাতত আবদুল্লাহর প্রচেষ্টায় বৃদ্ধা বেঁচে থাকলেও তার স্থায়ী পুনর্বাসন জরুরি। তাকে আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান, মানবাধিকার সংস্থা ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই স্বেচ্ছাসেবী।

আপনার মতামত লিখুন