সংবাদ

মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে চার লেন, লক্ষ্য পর্যটনের আধুনিকায়ন


প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:৩১ এএম

মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে চার লেন, লক্ষ্য পর্যটনের আধুনিকায়ন
মেরিন ড্রাইভ। ছবি : সংবাদ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কোল ঘেঁষে যাওয়া দৃষ্টিনন্দন সড়ক ‘মেরিন ড্রাইভ’ চার লেনে উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে। প্রায় ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই মেগা প্রকল্পের লক্ষ্য বর্তমান সড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব মহাসড়কে রূপান্তর করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি)। ২০২২ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)। সেনাবাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সমুদ্রের ভাঙন রোধে টেকসই সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পর্যায়ক্রমে প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কলাতলী থেকে ইনানি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে।

এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশ রক্ষা। প্রায় ৩ হাজার গাছ অক্ষত রাখতে সড়কের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার পাশাপাশি ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো সড়কে নজরদারির জন্য থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল।

কক্সবাজারের ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. বাবর বলেন, মেরিন ড্রাইভ চার লেন হলে এটি এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। হোটেল ব্যবসায়ী পিটার মজুমদার মনে করেন, কাজ শেষ হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। এতে পর্যটন খাতের বিকাশের পাশাপাশি ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সমুদ্র অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


মেরিন ড্রাইভ হচ্ছে চার লেন, লক্ষ্য পর্যটনের আধুনিকায়ন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কোল ঘেঁষে যাওয়া দৃষ্টিনন্দন সড়ক ‘মেরিন ড্রাইভ’ চার লেনে উন্নীত করার কাজ পুরোদমে চলছে। প্রায় ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই মেগা প্রকল্পের লক্ষ্য বর্তমান সড়কটিকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব মহাসড়কে রূপান্তর করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি)। ২০২২ সালের জুন মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)। সেনাবাহিনীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সমুদ্রের ভাঙন রোধে টেকসই সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি পর্যায়ক্রমে প্রশস্ত করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কলাতলী থেকে ইনানি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলছে।

এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশ রক্ষা। প্রায় ৩ হাজার গাছ অক্ষত রাখতে সড়কের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করার পাশাপাশি ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরো সড়কে নজরদারির জন্য থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল।

কক্সবাজারের ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. বাবর বলেন, মেরিন ড্রাইভ চার লেন হলে এটি এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। হোটেল ব্যবসায়ী পিটার মজুমদার মনে করেন, কাজ শেষ হলে পর্যটকদের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে। এতে পর্যটন খাতের বিকাশের পাশাপাশি ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সমুদ্র অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত