রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় মিরপুরে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
মাজারে হামলার ঘটনার পর ভুক্তভোগী, পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছেন একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। কেউ বলছেন এটি মাদকবিরোধী অভিযান। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্য অভিন্ন নয়। এমন পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোনো হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনির দায়িত্ব হলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা। বিভ্রান্তি দূর করে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য এটা জরুরি।
মাজারে হামলা কোনো অজুহাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাদকবিরোধী বা অন্য কোনো অভিযান যদি পরিচালনার প্রয়োজনও হয় সেই দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সেটিও হতে হবে আইনের সীমার মধ্যে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার হবে আইনগত প্রক্রিয়ায়, হামলা বা ভাঙচুরের মাধ্যমে নয়।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও সুফি দরগায় হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এ ধরনের হামলা যদি ধারাবাহিকভাবে ঘটে, তাহলে তা সামাজিক অস্থিরতা ও বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। মত ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সেই ভিন্নতার প্রকাশ সহিংসতার মাধ্যমে হলে তা রাষ্ট্র ও সমাজ কারও জন্যই শুভ নয়।
আমরা বলতে চাই, মাজারে হামালার ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদেরকে সহিংসতা, উগ্রতা ও সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। নীরবতা বা অস্পষ্ট অবস্থান সমাজে ভুল বার্তা দেয়।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী বোগদাদীর মাজারে ওরশ চলাকালে হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় মিরপুরে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
মাজারে হামলার ঘটনার পর ভুক্তভোগী, পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছেন একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। কেউ বলছেন এটি মাদকবিরোধী অভিযান। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্য অভিন্ন নয়। এমন পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোনো হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনির দায়িত্ব হলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা। বিভ্রান্তি দূর করে সত্য উদ্ঘাটনের জন্য এটা জরুরি।
মাজারে হামলা কোনো অজুহাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাদকবিরোধী বা অন্য কোনো অভিযান যদি পরিচালনার প্রয়োজনও হয় সেই দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সেটিও হতে হবে আইনের সীমার মধ্যে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও বিচার হবে আইনগত প্রক্রিয়ায়, হামলা বা ভাঙচুরের মাধ্যমে নয়।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও সুফি দরগায় হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ফলে শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। এ ধরনের হামলা যদি ধারাবাহিকভাবে ঘটে, তাহলে তা সামাজিক অস্থিরতা ও বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। মত ও বিশ্বাসের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সেই ভিন্নতার প্রকাশ সহিংসতার মাধ্যমে হলে তা রাষ্ট্র ও সমাজ কারও জন্যই শুভ নয়।
আমরা বলতে চাই, মাজারে হামালার ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদেরকে সহিংসতা, উগ্রতা ও সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। নীরবতা বা অস্পষ্ট অবস্থান সমাজে ভুল বার্তা দেয়।

আপনার মতামত লিখুন