ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার দুই দশক পর গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, সেটির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা ব্যারেজের (বাঁধ) যৌথ প্রবাহ পরিমাপ কেন্দ্র পরিদর্শন এবং যৌথ কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আগামী ২০ থেকে ২৩ মে কলকাতা সফরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যৌথ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফারাক্কা বাঁধ পরিদর্শনে যাবেন।
গত ১২ মে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে (জিও) এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
ফারাক্কা বাঁধ
ফারাক্কা বাঁধ হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি দীর্ঘ বাঁধ। এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৬১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯৭০ সালে শেষ হয় এবং ২১ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এই বাঁধটির মূল উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গা নদী থেকে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি একটি ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফিডার খালের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলী নদীতে প্রবাহিত (ডাইভার্ট) করা। এর ফলে কোলকাতা বন্দরের পলি দূর করে সেটিকে সচল ও নাব্য রাখা সম্ভব হয়।
তবে এই বাঁধটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিরোধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ি, গঙ্গা নদী থেকে যতটুকু পানি বাংলাদেশের পাওয়ার কথা তা ভারত দিচ্ছে না বলে অনেকবারই অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন লংমার্চসহ নানা আন্দোলনও করেছে।
পানি বণ্টন চুক্তি
গঙ্গার পানির সঠিক বণ্টনে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি করে। সমঝোতা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এটি যৌথ কমিটির নিয়মিত বৈঠক। প্রতি বছর তিনটি বৈঠক হয়। গত এপ্রিলে ভারতের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছিল। এখন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারতে যাচ্ছে। তবে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোনো আলাপ হবে কি না, এ সম্পর্কে কিছু জানায়নি সূত্র।
প্রতিনিধি দলে যারা
যৌথ বৈঠক ও ফারাক্কা বাঁধ পরির্দশনে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের মূল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি), বাংলাদেশের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির।
প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে আরো আছেন: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ঢাকা) হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসাইন (সদস্য আমন্ত্রিত), জেআরসি বাংলাদেশের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েদ (সদস্য), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ সামসুজ্জামান (সদস্য আমন্ত্রিত), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) মো. বাকী বিল্লাহ (সদস্য আমন্ত্রিত) এবং জেআরসি বাংলাদেশের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান (সদস্য)।
এই ছয় সদস্যের পাশাপাশি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মো. আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. ওমর ফারুক আকন্দ প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ফারাক্কা বাঁধ চালু হওয়ার দুই দশক পর গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, সেটির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা ব্যারেজের (বাঁধ) যৌথ প্রবাহ পরিমাপ কেন্দ্র পরিদর্শন এবং যৌথ কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আগামী ২০ থেকে ২৩ মে কলকাতা সফরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যৌথ বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফারাক্কা বাঁধ পরিদর্শনে যাবেন।
গত ১২ মে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে (জিও) এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
ফারাক্কা বাঁধ
ফারাক্কা বাঁধ হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি দীর্ঘ বাঁধ। এটি বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৬১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯৭০ সালে শেষ হয় এবং ২১ এপ্রিল ১৯৭৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এই বাঁধটির মূল উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গা নদী থেকে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি একটি ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফিডার খালের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলী নদীতে প্রবাহিত (ডাইভার্ট) করা। এর ফলে কোলকাতা বন্দরের পলি দূর করে সেটিকে সচল ও নাব্য রাখা সম্ভব হয়।
তবে এই বাঁধটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিরোধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ি, গঙ্গা নদী থেকে যতটুকু পানি বাংলাদেশের পাওয়ার কথা তা ভারত দিচ্ছে না বলে অনেকবারই অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন লংমার্চসহ নানা আন্দোলনও করেছে।
পানি বণ্টন চুক্তি
গঙ্গার পানির সঠিক বণ্টনে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি করে। সমঝোতা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এটি যৌথ কমিটির নিয়মিত বৈঠক। প্রতি বছর তিনটি বৈঠক হয়। গত এপ্রিলে ভারতের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছিল। এখন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারতে যাচ্ছে। তবে চুক্তি নবায়নের বিষয়ে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কোনো আলাপ হবে কি না, এ সম্পর্কে কিছু জানায়নি সূত্র।
প্রতিনিধি দলে যারা
যৌথ বৈঠক ও ফারাক্কা বাঁধ পরির্দশনে বাংলাদেশের ছয় সদস্যের মূল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি), বাংলাদেশের সদস্য মো. আনোয়ার কাদির।
প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে আরো আছেন: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ঢাকা) হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসাইন (সদস্য আমন্ত্রিত), জেআরসি বাংলাদেশের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সায়েদ (সদস্য), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ সামসুজ্জামান (সদস্য আমন্ত্রিত), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) মো. বাকী বিল্লাহ (সদস্য আমন্ত্রিত) এবং জেআরসি বাংলাদেশের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান (সদস্য)।
এই ছয় সদস্যের পাশাপাশি নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মো. আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মো. ওমর ফারুক আকন্দ প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আপনার মতামত লিখুন