সংবাদ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিপিডিবির, বিরোধিতা বিভিন্ন সংগঠনের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিপিডিবির, বিরোধিতা বিভিন্ন সংগঠনের
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

  • বিপিডিবির দাবি, পাইকারি বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি ‘প্রায় ৬ টাকা’। ইউনিটে দাম ১.২০ থেকে ১.৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
  • সঞ্চালন চার্জ ইউনিটে ১৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির
  • বসিয়ে রেখে চার্জ দিতে হচ্ছে, তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ‘খরচ বাড়ছে’
  • ক্যাপটিভের গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিলে লাভ হবে
  • বিপিডিবির ইঞ্জিনিয়ারদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে
  • সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর ওপর জোর
  • বিইআরসি ‘অবৈধ প্রস্তাবের পক্ষ নিয়েছে’: অভিযোগ ক্যাবের

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের পাইকারি দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। প্রস্তাবের ওপর বুধবার (২০ মে) গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে অংশ নিয়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

এদিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। এ দুই প্রস্তাব কার্যকর হলে শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণশুনানির প্রথম অধিবেশন শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, প্রয়োজনের চেয়ে ‘বেশী’ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে রেখেও টাকা দিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ‘বেড়ে যাচ্ছে’।

তিনি বলেন, বিপিডিবির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের (তড়িৎ প্রকৌশলী) দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুতের জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপদনে নির্ভরশীলতা কমবে। ক্যাপটিভ পাওয়ারে যে গ্যাস দিতে হচ্ছে তা বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে পারলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ কমে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। 

বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রথম দিনের গণশুনানি হয়।

বিইআরসি চেয়ারম্যনের সভাপতিত্বে সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.), সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া শুনানি গ্রহণ করেন।  এসময় বিইআরসি সচিব (যুগ্মসচিব) মো. নজরুল ইসলাম সরকার ও কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই (কেআইবি) স্থানে বৃহস্পতিবারও (২১ মে) গণশুনানি হবে। দুই দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে শুনবে বিইআরসি।

বিপিডিবির প্রস্তাবে যা আছে

বিপিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা) ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে বিপিডিবি বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিদ্যমান বাল্ক ট্যারিফে বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। রাজস্ব চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১২ টাকা ৯১ পয়সা। এই হারে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

তবে বিপিডিবি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা অথবা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়াত্ত্ব এই প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। আর ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বেশি।

অর্থাৎ বিপিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ি দাম বাড়ালেও সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হবে।

গণশুনানিতে জানানো হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

শুনানিতে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের কারিগরি কমিটি কী বলছে

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি কতটুকু করা উচিৎ তা সরকারের ভর্তুকির পরিমাণের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে।

বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি বাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির নিট রাজস্ব চাহিদা ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বা প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ৫১ পয়সা।

বিদ্যমান পাইকারি দরে ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ভর্তুকি ছাড়া এই ঘাটতি পূরণ করতে পাইকারি মূল্যহার প্রায় ৭৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব

বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৩০ পয়সা সঞ্চালন চার্জ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি তা বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশিদ খান সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানিতে বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও প্রত্যাশিত হারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হচ্ছে না। একইসঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা।”

বিইআরসির কারিগরি কমিটি বলছে, প্রস্তাবিত হারের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন ব্যয় ৪৪ পয়সার কাছাকাছি নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ইনস্টল ক্যাপাসিটি ‘বেশী’

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় আনুপাতিক হারে ‘অনেক বেশি’।

তিনি বলেন, “এই ইনস্টল ক্যাপাসিটি বেশি হওয়ার কারণে ওই যে বসিয়ে খাওয়ানো যেটা যেহেতু বসা আছে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে।”

তার মতে, স্থাপিত সক্ষমতা আদর্শ মাত্রায় থাকলে ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ কম হত। তিনি বলেন, “যদি আমার ইন্স্টল ক্যাপাসিটি এর চেয়ে কম থাকত। আইডিয়ালি যেটা হওয়া উচিত ২০-২৫ শতাংশ যদি থাকত, ক্যাপাসিটি চার্জ হয়ত কম খরচ করতে হইত। এটা সহনীয় হইত তখন।”

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ (সরকারি গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র) প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের প্রয়োজন হত না। আপনি পাওয়ারের কথা বলছেন যদি আনইন্টারাপটেড পাওয়ার আপনি দিতে পারতেন, তাহলে কিন্তু ক্যাপটিভ পাওয়ারগুলো হয়ত থাকত না।” তার মতে, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গেলে তা আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যেত।

বিপিডিবির ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি পরামর্শ

সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, “পিডিবির (বিপিডিবি) দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে একটু। পিডিবিতে যারা কাজ করেন, যারা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে যেটা বুঝি, এটা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।”

জালাল আহমেদ বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভোক্তার ওপর চাপও কমে আসবে। আমরা সোলারকে যদি উৎসাহিত করি, ভবিষ্যতে সোলারের উৎপাদন যদি বৃদ্ধি পায়, নিঃসন্দেহে আপনার অধিকতর খরচ যেখানে হচ্ছে এই খরচটা কমে আসবে এবং নিঃসন্দেহে এটার উপরে যে বোঝা, এটা কমবে।”

গণশুনানিতে ভোক্তাদের বিরোধিতা

গণশুনানিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে যে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি কোথা থেকে দেয়? ভোক্তার টাকা দিয়েই কিন্তু ভর্তুকি দেওয়া হয়।” তিনি বলেন, “সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে, তার কোনো খেয়াল নেই।”

কমিশনকে সতর্ক করে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।”

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।”

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, “আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।”

লিখিত বক্তব্য চাইলো কমিশন

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।”

শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য ২৩ মে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনের জন্য সুবিধা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিপিডিবির, বিরোধিতা বিভিন্ন সংগঠনের

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

  • বিপিডিবির দাবি, পাইকারি বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি ‘প্রায় ৬ টাকা’। ইউনিটে দাম ১.২০ থেকে ১.৫০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
  • সঞ্চালন চার্জ ইউনিটে ১৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির
  • বসিয়ে রেখে চার্জ দিতে হচ্ছে, তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ‘খরচ বাড়ছে’
  • ক্যাপটিভের গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিলে লাভ হবে
  • বিপিডিবির ইঞ্জিনিয়ারদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে
  • সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর ওপর জোর
  • বিইআরসি ‘অবৈধ প্রস্তাবের পক্ষ নিয়েছে’: অভিযোগ ক্যাবের

উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের পাইকারি দাম প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি)। প্রস্তাবের ওপর বুধবার (২০ মে) গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে অংশ নিয়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

এদিকে শুনানিতে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৯ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। এ দুই প্রস্তাব কার্যকর হলে শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণশুনানির প্রথম অধিবেশন শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেছেন, প্রয়োজনের চেয়ে ‘বেশী’ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে রেখেও টাকা দিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ‘বেড়ে যাচ্ছে’।

তিনি বলেন, বিপিডিবির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের (তড়িৎ প্রকৌশলী) দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সৌরবিদ্যুতের জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপদনে নির্ভরশীলতা কমবে। ক্যাপটিভ পাওয়ারে যে গ্যাস দিতে হচ্ছে তা বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে পারলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ কমে আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। 

বুধবার ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রথম দিনের গণশুনানি হয়।

বিইআরসি চেয়ারম্যনের সভাপতিত্বে সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) মো. আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.), সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান, সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া শুনানি গ্রহণ করেন।  এসময় বিইআরসি সচিব (যুগ্মসচিব) মো. নজরুল ইসলাম সরকার ও কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই (কেআইবি) স্থানে বৃহস্পতিবারও (২১ মে) গণশুনানি হবে। দুই দিনের গণশুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে শুনবে বিইআরসি।

বিপিডিবির প্রস্তাবে যা আছে

বিপিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘন্টা) ৭ টাকা ৪ পয়সা, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির যুক্তিতে বিপিডিবি বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয় বাবদ মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। বিদ্যমান বাল্ক ট্যারিফে বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হবে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। রাজস্ব চাহিদা অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১২ টাকা ৯১ পয়সা। এই হারে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

তবে বিপিডিবি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা অথবা ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

রাষ্ট্রায়াত্ত্ব এই প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। আর ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে ১৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকার বেশি।

অর্থাৎ বিপিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ি দাম বাড়ালেও সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হবে।

গণশুনানিতে জানানো হয়, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকায়।

শুনানিতে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “এমন না এই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো ঘাটতি পূরণ হবে তা নয়। এই দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ভতুর্কি এক পশ্চমাংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নামতে পারে।

কমিশনের কারিগরি কমিটি কী বলছে

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি কতটুকু করা উচিৎ তা সরকারের ভর্তুকির পরিমাণের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। গণশুনানিতে কমিটি এ কথা জানিয়েছে।

বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ভর্তুকি বাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিপিডিবির নিট রাজস্ব চাহিদা ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বা প্রতি ইউনিটে ১২ টাকা ৫১ পয়সা।

বিদ্যমান পাইকারি দরে ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। ভর্তুকি ছাড়া এই ঘাটতি পূরণ করতে পাইকারি মূল্যহার প্রায় ৭৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব

বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৩০ পয়সা সঞ্চালন চার্জ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি তা বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশিদ খান সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে শুনানিতে বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও প্রত্যাশিত হারে বিদ্যুৎ সঞ্চালন হচ্ছে না। একইসঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা।”

বিইআরসির কারিগরি কমিটি বলছে, প্রস্তাবিত হারের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন ব্যয় ৪৪ পয়সার কাছাকাছি নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ইনস্টল ক্যাপাসিটি ‘বেশী’

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশে বিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় আনুপাতিক হারে ‘অনেক বেশি’।

তিনি বলেন, “এই ইনস্টল ক্যাপাসিটি বেশি হওয়ার কারণে ওই যে বসিয়ে খাওয়ানো যেটা যেহেতু বসা আছে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে বসিয়ে বসিয়ে।”

তার মতে, স্থাপিত সক্ষমতা আদর্শ মাত্রায় থাকলে ক্যাপাসিটি চার্জের চাপ কম হত। তিনি বলেন, “যদি আমার ইন্স্টল ক্যাপাসিটি এর চেয়ে কম থাকত। আইডিয়ালি যেটা হওয়া উচিত ২০-২৫ শতাংশ যদি থাকত, ক্যাপাসিটি চার্জ হয়ত কম খরচ করতে হইত। এটা সহনীয় হইত তখন।”

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ (সরকারি গ্যাস ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র) প্রসঙ্গে বিইআরসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের প্রয়োজন হত না। আপনি পাওয়ারের কথা বলছেন যদি আনইন্টারাপটেড পাওয়ার আপনি দিতে পারতেন, তাহলে কিন্তু ক্যাপটিভ পাওয়ারগুলো হয়ত থাকত না।” তার মতে, ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাস বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গেলে তা আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যেত।

বিপিডিবির ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি পরামর্শ

সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, “পিডিবির (বিপিডিবি) দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে একটু। পিডিবিতে যারা কাজ করেন, যারা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে যেটা বুঝি, এটা চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে।”

জালাল আহমেদ বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ বাড়লে ব্যয়বহুল বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভোক্তার ওপর চাপও কমে আসবে। আমরা সোলারকে যদি উৎসাহিত করি, ভবিষ্যতে সোলারের উৎপাদন যদি বৃদ্ধি পায়, নিঃসন্দেহে আপনার অধিকতর খরচ যেখানে হচ্ছে এই খরচটা কমে আসবে এবং নিঃসন্দেহে এটার উপরে যে বোঝা, এটা কমবে।”

গণশুনানিতে ভোক্তাদের বিরোধিতা

গণশুনানিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে একটা কথা বারবার বলা হচ্ছে যে, দাম না বাড়ালে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি কোথা থেকে দেয়? ভোক্তার টাকা দিয়েই কিন্তু ভর্তুকি দেওয়া হয়।” তিনি বলেন, “সবাই শুধু সরকারের মুনাফা নিয়েই ভাবছে, অথচ মানুষ যে মরে যাবে, তার কোনো খেয়াল নেই।”

কমিশনকে সতর্ক করে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। অথচ বিইআরসি কোনও পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলো না। আপনারা বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষমতা নেই। যেখানে সংবিধান পরিবর্তনের মতো কথা উঠতে পারে, সেখানে বিইআরসি আইন পরিবর্তন কেন সম্ভব হবে না? আপনারা মানুষের পক্ষ না নিয়ে যারা অবৈধভাবে এসব প্রস্তাব দিচ্ছে, তাদের পক্ষ নিচ্ছেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এখান থেকে সরে আসুন। সরে না এলে আপনারা এক সময় গণশত্রুতে পরিণত হবেন।”

সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “বিইআরসির এই গণশুনানি বন্ধ করা উচিত। এই শুনানির এখন আর গ্রহণযোগ্যতা নেই। বিইআরসির উচিত এখন নিজেদের আইন সংশোধন করে এরপর আবার শুনানি করা। এখন যে শুনানি হচ্ছে সেটা আসলে লোক দেখানো। প্রতিবারই শুনানি হয়, এরপর দাম বাড়ানো হয়।”

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতা জালালুদ্দিন বলেন, “আমাদের রফতানি এমনিতেই নিম্নমুখী এই সময় বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্পের ওপরে চরম আঘাত নেমে আসবে।”

লিখিত বক্তব্য চাইলো কমিশন

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “সবার মতামত পাওয়া গেছে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো।”

শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য ২৩ মে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত বক্তব্য পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনের জন্য সুবিধা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত