ইরানের ড্রোন হামলায় ট্রাম্পের মার্কিন যুদ্ধবিমান পর্যুদস্ত আকাশ থেকে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে আছড়ে পড়ছিল হিংসার দখলি তোপে মানবিক উর্বরতা খুইয়ে ঝামা হয়ে যাওয়া জমিনে— দীপু ছুটছিল| দেশ বিকিয়ে আখের গোছানোর ধান্দায় থাকা দেশ স্বাস্থ্যে উদাসী শাসকের বিমূঢ়তায় হামের প্রকোপে মারা যাচ্ছিল শত শত শিশু— দীপু ছুটছিল| নগদ স্বার্থধন্ধে মেতে থাকা আবিশ্ব অবিবেচক শাসকদের পরিবেশবিদ্বেষী কাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতার আঁচে জেরবার চিলি-আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার হিমবাহের বিশাল বিশাল বরফের চাঁই ধসে পড়ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি বরফের নদীতে— দীপু ছুটছিল| জ্যামাইকার গতিদানব উসেইন বোল্ট কোন& ছাড়— অলিম্পিকে এমন একটা দৌড় দিতে পারলে দীপুর এই দৌড়ের রেকর্ড অটুট থাকতো চিরকাল| কানের ভেতর তখনো ঘাড়ের পাশ দিয়ে শিস কেটে বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের কলজে কাঁপানো সাঁ-া-া-া-া-া-া-া-া শব্দটা শুনতে পাচ্ছিল| আর তাতে ভয়টা আরো বেড়ে গিয়ে তার পায়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল| ছুট লাগানোর ঠিক আগে পলকে দেখতে পেয়েছিল ঠেঙ্গু বাবলা ট্যারা নাছিরকে চার-পাঁচবার গুলি করে পিস্তলটা ঘুরিয়ে তার দিকে তাক করছে|
দীপু
ছুটছে আর ভাবছে এবার
পালাতে পারলে কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবে|
যতো
জোরে ছুটছিল, দীপুর ভাবনাটা ছুটছিল তার চেয়েও জোরে|
ভাবনাটা টর্পেডো গতিতে গুছিয়ে নিচ্ছিল দৌড়ের ওপরেই| ঝোড়ো বাতাসে গোত্তা
খেয়ে খেয়ে উড়তে থাকা
তার ঝরা-পাতা-জীবনকে
থিতু করতে চেয়েছিল ট্যারা
নাছিরের আশ্রয় জোটার পর থেকে| কুত্তা
আর কুত্তি বলে খিস্তি ঝারলো
বাবা ও মাকে ছোটোবেলার
কথা মনে হতেই| জ্ঞান
হওয়ার পর থেকেই দেখেছে
কোনো-চাকরিতে-বেশিদিন-টিকতে-না-পারা তারা
বাবা রাতে ঘরে ফিরতেই
কী কাণ্ডকারখানা ঘটাতে থাকতো তার মা| মুখ
দিয়ে অকথ্য ভাষার খিস্তি তো ছুটতোই, প্রায়ই
মাঝরাতে বাবার সব জামা-কাপড়
ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে তাকে
ঘর থেকে বের করে
দিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দিতো|
তো একদিন তার বাবা তাকে,
তার ছোটো বোনকে আর
মাকে ফেলে সেই যে
লাপাত্তা হলো, আর ফিরে
এলো না| কখনো কোনো
প্রাইভেট হাসপাতালে আয়াগিরি করে, কখনো কোনো
অফিসে ফুট-ফরমাসের কাজ
জুটিয়ে তার মা তাদের
দু বেলা খাবার জোটাতো
ঠিকই, কিন্তু ঘরে ফিরে সমস্ত
ঝাল মেটাতো তাদের দুই ভাই-বোনকে
আচ্ছামতো পিটিয়ে| দীপু তাই বাইরে
বাইরেই কাটাতো প্রায় সারাটা ক্ষণ| বয়স আরো বাড়লে
মহল্লার কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়েছিল, একবার জেলও খেটে এসেছে
বছরখানেক| জেল থেকে ফিরে
রাস্তাঘাটে বাসের জানালা থেকে মোবাইল ছিনতাই
করে চলতো| তাতে ঝুঁকি খুব
বেশি থাকায় সুযোগ বুঝে মহল্লার বড়ভাই
টেরা নাসিরের দলে ভিড়ে গিয়েছিল|
দীপুর কাজে খুব সন্তুষ্ট
ছিল নাসির| তাই এবারের কোরবানির
হাটের ইজারা নিতে যাওয়ার সময়
আজ তাকে সঙ্গে নিয়ে
যাচ্ছিল|
মানিক
ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকে
নিজেকে বেশ নিরাপদ মনে
হলো দীপুর| এবার সে কিছুটা
ঠাণ্ডা মাথায় কী করবে তা
নিয়ে ভাবতে থাকলো| কিন্তু ভেবে ভেবে কোনো
দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না| চিপা গলিতে
তার ভাবনার গতি বেড়ে গেল|
একটা একটা করে বুদ্ধি
আসছিল মাথায়, আর মনমতো না
হওয়ায় বাতিল করে দিচ্ছিল| আবার
ভাবছিল| দীপু অবশ্য জানে
না তার মগজের ভাবনা
কখনো থেমে থাকে না|
এমনকি ঘুমের মধ্যেও চলতে থাকে| তবে
জেগে থাকার সময়ের মতো যৌক্তিক থাকে
না সেই ভাবনাগুলো| তখন
ভাবতে থাকে তার অবচেতন
মন| অবচেতন মন তখন তার
স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে
এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করে| সে আরো
জানে না, মাঝে মাঝেই
সে যে অদ্ভুত, ভয়ালো
স্বপ্নগুলো দেখে তা তার
এই অবচেতন মনেরই কারসাজি| সে আরো জানে
না চলমান ঘটনাগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত
সাজিয়ে সাজিয়ে অবচেতন মন তাকে নিরাপদ
রাখার চেষ্টা করে| এই যেমন
এখন সে এই মানিক
ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকেছে,
ছুটতে শুরু করার পর
থেকে সে কিন্তু এশবারও
ভাবেনি যে এখানে আসবে;
এ মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভেবে তার অবচেতন
মনই তাকে এখানে ছুটিয়ে
নিয়ে এসেছে|
লোকজন
সন্দেহ করবে ভেবে দীপু
আর দৌড়াচ্ছিল না| এবার সে
মনে মনে ঠিক করল
লাট মামার পুরনো বইয়ের দোকানে যাবে| এলাকার সবাই লাটভাই বললেও
সে ডাকে লাট মামা|
তার মাকে খুব আদর
করেন, তার মায়ের দ্বিতীয়
ও তৃতীয় বিয়ে এই লাট
মামাই দিয়েছিলেন| বিপদে-আপদে দীপুকে খুব
সাহায্য করেন| চিপা গলিটা পেরিয়ে
তাই সে ধাঁই ধাঁই
করে সেদিকেই হাঁটতে থাকল| খুবই অবাক করা
ব্যাপার হচ্ছে, মাঝে মাঝে এই
লাট মামার দোকান থেকে সে বই
নিয়ে পড়ে|
ঠেঙ্গু
বাবলা ভালো করেই জানে
এই মহল্লার কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা লাগানো
আছে| টেরা নাসিরকে গুলি
করে নিকেশও করে দিয়েছে সেসব
ক্যামেরা এড়িয়ে| সঙ্গে থাকা সাগরেদদের আজ
আর আস্তানায় না গিয়ে গা-ঢাকা দিতে বলে
সে আগে ছোট ব্যাগে
করে আনা জোব্বা, পাগড়ি
আর মাস্ক পরে নিল| তারপর
মনে মনে ঠিক করে
রাখা জায়গাটার দিকে হাঁটতে থাকল|
অবচেতন মনের আগাম সতর্কতাই
তাকে দিয়ে এখন এসব
করিয়ে নিচ্ছে| অবচেতন মনের হিসেব-নিকেশ
থেকেই সে জানে গরুর
হাটের ইজারা বাগানো এবং সবকিছু ঠিকমতো
নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাকে
কাকে তার এখন দলে
টানতে হবে| প্রথম শিকারটাকে
কবজা করতে সে তাই
জায়গামতো গিয়ে ওত পেতে
থাকল|
এই
মহল্লা থেকে লাট মামার
দোকানে যাওয়ার চিপা গলিটাতে ঢুকে
দীপু নিজেকে বেশ নিরাপদ ভাবতে
থাকল| মনে মনে ঠিক
করল, লাট মামার কাছ
থেকে বুদ্ধি নিয়ে এবার সে
অনেক দূরে কোথাও চলে
যাবে| নতুন জীবনটা কীভাবে
শুরু করবে ছক কষতে
কষতে আনমনা হয়ে গিয়েছিল, তাই
জোব্বা-পাগড়ি পরা মাঝ বয়সী
এক লোক আধো অন্ধকারে
পিস্তল তাক করে যখন
তার পথ আগলে দাঁড়াল
তখন তার আর করার
কিছুই রইল না| বেওয়ারিশ
ঝরাপাতা হয়ে আশার বাতাস
শুঁকে উড়ছিল, মাটি ফুঁড়ে উঠে
এসে লোকটা তার ডানা ছেঁটে
দিল|
***

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
ইরানের ড্রোন হামলায় ট্রাম্পের মার্কিন যুদ্ধবিমান পর্যুদস্ত আকাশ থেকে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে আছড়ে পড়ছিল হিংসার দখলি তোপে মানবিক উর্বরতা খুইয়ে ঝামা হয়ে যাওয়া জমিনে— দীপু ছুটছিল| দেশ বিকিয়ে আখের গোছানোর ধান্দায় থাকা দেশ স্বাস্থ্যে উদাসী শাসকের বিমূঢ়তায় হামের প্রকোপে মারা যাচ্ছিল শত শত শিশু— দীপু ছুটছিল| নগদ স্বার্থধন্ধে মেতে থাকা আবিশ্ব অবিবেচক শাসকদের পরিবেশবিদ্বেষী কাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতার আঁচে জেরবার চিলি-আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার হিমবাহের বিশাল বিশাল বরফের চাঁই ধসে পড়ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি বরফের নদীতে— দীপু ছুটছিল| জ্যামাইকার গতিদানব উসেইন বোল্ট কোন& ছাড়— অলিম্পিকে এমন একটা দৌড় দিতে পারলে দীপুর এই দৌড়ের রেকর্ড অটুট থাকতো চিরকাল| কানের ভেতর তখনো ঘাড়ের পাশ দিয়ে শিস কেটে বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের কলজে কাঁপানো সাঁ-া-া-া-া-া-া-া-া শব্দটা শুনতে পাচ্ছিল| আর তাতে ভয়টা আরো বেড়ে গিয়ে তার পায়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল| ছুট লাগানোর ঠিক আগে পলকে দেখতে পেয়েছিল ঠেঙ্গু বাবলা ট্যারা নাছিরকে চার-পাঁচবার গুলি করে পিস্তলটা ঘুরিয়ে তার দিকে তাক করছে|
দীপু
ছুটছে আর ভাবছে এবার
পালাতে পারলে কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবে|
যতো
জোরে ছুটছিল, দীপুর ভাবনাটা ছুটছিল তার চেয়েও জোরে|
ভাবনাটা টর্পেডো গতিতে গুছিয়ে নিচ্ছিল দৌড়ের ওপরেই| ঝোড়ো বাতাসে গোত্তা
খেয়ে খেয়ে উড়তে থাকা
তার ঝরা-পাতা-জীবনকে
থিতু করতে চেয়েছিল ট্যারা
নাছিরের আশ্রয় জোটার পর থেকে| কুত্তা
আর কুত্তি বলে খিস্তি ঝারলো
বাবা ও মাকে ছোটোবেলার
কথা মনে হতেই| জ্ঞান
হওয়ার পর থেকেই দেখেছে
কোনো-চাকরিতে-বেশিদিন-টিকতে-না-পারা তারা
বাবা রাতে ঘরে ফিরতেই
কী কাণ্ডকারখানা ঘটাতে থাকতো তার মা| মুখ
দিয়ে অকথ্য ভাষার খিস্তি তো ছুটতোই, প্রায়ই
মাঝরাতে বাবার সব জামা-কাপড়
ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে তাকে
ঘর থেকে বের করে
দিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দিতো|
তো একদিন তার বাবা তাকে,
তার ছোটো বোনকে আর
মাকে ফেলে সেই যে
লাপাত্তা হলো, আর ফিরে
এলো না| কখনো কোনো
প্রাইভেট হাসপাতালে আয়াগিরি করে, কখনো কোনো
অফিসে ফুট-ফরমাসের কাজ
জুটিয়ে তার মা তাদের
দু বেলা খাবার জোটাতো
ঠিকই, কিন্তু ঘরে ফিরে সমস্ত
ঝাল মেটাতো তাদের দুই ভাই-বোনকে
আচ্ছামতো পিটিয়ে| দীপু তাই বাইরে
বাইরেই কাটাতো প্রায় সারাটা ক্ষণ| বয়স আরো বাড়লে
মহল্লার কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়েছিল, একবার জেলও খেটে এসেছে
বছরখানেক| জেল থেকে ফিরে
রাস্তাঘাটে বাসের জানালা থেকে মোবাইল ছিনতাই
করে চলতো| তাতে ঝুঁকি খুব
বেশি থাকায় সুযোগ বুঝে মহল্লার বড়ভাই
টেরা নাসিরের দলে ভিড়ে গিয়েছিল|
দীপুর কাজে খুব সন্তুষ্ট
ছিল নাসির| তাই এবারের কোরবানির
হাটের ইজারা নিতে যাওয়ার সময়
আজ তাকে সঙ্গে নিয়ে
যাচ্ছিল|
মানিক
ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকে
নিজেকে বেশ নিরাপদ মনে
হলো দীপুর| এবার সে কিছুটা
ঠাণ্ডা মাথায় কী করবে তা
নিয়ে ভাবতে থাকলো| কিন্তু ভেবে ভেবে কোনো
দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না| চিপা গলিতে
তার ভাবনার গতি বেড়ে গেল|
একটা একটা করে বুদ্ধি
আসছিল মাথায়, আর মনমতো না
হওয়ায় বাতিল করে দিচ্ছিল| আবার
ভাবছিল| দীপু অবশ্য জানে
না তার মগজের ভাবনা
কখনো থেমে থাকে না|
এমনকি ঘুমের মধ্যেও চলতে থাকে| তবে
জেগে থাকার সময়ের মতো যৌক্তিক থাকে
না সেই ভাবনাগুলো| তখন
ভাবতে থাকে তার অবচেতন
মন| অবচেতন মন তখন তার
স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে
এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করে| সে আরো
জানে না, মাঝে মাঝেই
সে যে অদ্ভুত, ভয়ালো
স্বপ্নগুলো দেখে তা তার
এই অবচেতন মনেরই কারসাজি| সে আরো জানে
না চলমান ঘটনাগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত
সাজিয়ে সাজিয়ে অবচেতন মন তাকে নিরাপদ
রাখার চেষ্টা করে| এই যেমন
এখন সে এই মানিক
ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকেছে,
ছুটতে শুরু করার পর
থেকে সে কিন্তু এশবারও
ভাবেনি যে এখানে আসবে;
এ মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভেবে তার অবচেতন
মনই তাকে এখানে ছুটিয়ে
নিয়ে এসেছে|
লোকজন
সন্দেহ করবে ভেবে দীপু
আর দৌড়াচ্ছিল না| এবার সে
মনে মনে ঠিক করল
লাট মামার পুরনো বইয়ের দোকানে যাবে| এলাকার সবাই লাটভাই বললেও
সে ডাকে লাট মামা|
তার মাকে খুব আদর
করেন, তার মায়ের দ্বিতীয়
ও তৃতীয় বিয়ে এই লাট
মামাই দিয়েছিলেন| বিপদে-আপদে দীপুকে খুব
সাহায্য করেন| চিপা গলিটা পেরিয়ে
তাই সে ধাঁই ধাঁই
করে সেদিকেই হাঁটতে থাকল| খুবই অবাক করা
ব্যাপার হচ্ছে, মাঝে মাঝে এই
লাট মামার দোকান থেকে সে বই
নিয়ে পড়ে|
ঠেঙ্গু
বাবলা ভালো করেই জানে
এই মহল্লার কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা লাগানো
আছে| টেরা নাসিরকে গুলি
করে নিকেশও করে দিয়েছে সেসব
ক্যামেরা এড়িয়ে| সঙ্গে থাকা সাগরেদদের আজ
আর আস্তানায় না গিয়ে গা-ঢাকা দিতে বলে
সে আগে ছোট ব্যাগে
করে আনা জোব্বা, পাগড়ি
আর মাস্ক পরে নিল| তারপর
মনে মনে ঠিক করে
রাখা জায়গাটার দিকে হাঁটতে থাকল|
অবচেতন মনের আগাম সতর্কতাই
তাকে দিয়ে এখন এসব
করিয়ে নিচ্ছে| অবচেতন মনের হিসেব-নিকেশ
থেকেই সে জানে গরুর
হাটের ইজারা বাগানো এবং সবকিছু ঠিকমতো
নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাকে
কাকে তার এখন দলে
টানতে হবে| প্রথম শিকারটাকে
কবজা করতে সে তাই
জায়গামতো গিয়ে ওত পেতে
থাকল|
এই
মহল্লা থেকে লাট মামার
দোকানে যাওয়ার চিপা গলিটাতে ঢুকে
দীপু নিজেকে বেশ নিরাপদ ভাবতে
থাকল| মনে মনে ঠিক
করল, লাট মামার কাছ
থেকে বুদ্ধি নিয়ে এবার সে
অনেক দূরে কোথাও চলে
যাবে| নতুন জীবনটা কীভাবে
শুরু করবে ছক কষতে
কষতে আনমনা হয়ে গিয়েছিল, তাই
জোব্বা-পাগড়ি পরা মাঝ বয়সী
এক লোক আধো অন্ধকারে
পিস্তল তাক করে যখন
তার পথ আগলে দাঁড়াল
তখন তার আর করার
কিছুই রইল না| বেওয়ারিশ
ঝরাপাতা হয়ে আশার বাতাস
শুঁকে উড়ছিল, মাটি ফুঁড়ে উঠে
এসে লোকটা তার ডানা ছেঁটে
দিল|
***

আপনার মতামত লিখুন