সংবাদ

ছোটগল্প

ডানাছাঁটা ঝরাপাতা


মনজুর শামস
মনজুর শামস
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:০৩ এএম

ডানাছাঁটা ঝরাপাতা
শিল্পী: সঞ্জয় দে রিপন

ইরানের ড্রোন হামলায় ট্রাম্পের মার্কিন যুদ্ধবিমান পর্যুদস্ত আকাশ থেকে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে আছড়ে পড়ছিল হিংসার দখলি তোপে মানবিক উর্বরতা খুইয়ে ঝামা হয়ে যাওয়া জমিনেদীপু ছুটছিল| দেশ বিকিয়ে আখের গোছানোর ধান্দায় থাকা দেশ স্বাস্থ্যে উদাসী শাসকের বিমূঢ়তায় হামের প্রকোপে মারা যাচ্ছিল শত শত শিশুদীপু ছুটছিল| নগদ স্বার্থধন্ধে মেতে থাকা আবিশ্ব অবিবেচক শাসকদের পরিবেশবিদ্বেষী কাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতার আঁচে জেরবার চিলি-আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার হিমবাহের বিশাল বিশাল বরফের চাঁই ধসে পড়ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি বরফের নদীতেদীপু ছুটছিল| জ্যামাইকার গতিদানব উসেইন বোল্ট কোন& ছাড়অলিম্পিকে এমন একটা দৌড় দিতে পারলে দীপুর এই দৌড়ের রেকর্ড অটুট থাকতো চিরকাল| কানের ভেতর তখনো ঘাড়ের পাশ দিয়ে শিস কেটে বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের কলজে কাঁপানো সাঁ-------- শব্দটা শুনতে পাচ্ছিল| আর তাতে ভয়টা আরো বেড়ে গিয়ে তার পায়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল| ছুট লাগানোর ঠিক আগে পলকে দেখতে পেয়েছিল ঠেঙ্গু বাবলা ট্যারা নাছিরকে চার-পাঁচবার গুলি করে পিস্তলটা ঘুরিয়ে তার দিকে তাক করছে|

দীপু ছুটছে আর ভাবছে এবার পালাতে পারলে কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবে|

যতো জোরে ছুটছিল, দীপুর ভাবনাটা ছুটছিল তার চেয়েও জোরে| ভাবনাটা টর্পেডো গতিতে গুছিয়ে নিচ্ছিল দৌড়ের ওপরেই| ঝোড়ো বাতাসে গোত্তা খেয়ে খেয়ে উড়তে থাকা তার ঝরা-পাতা-জীবনকে থিতু করতে চেয়েছিল ট্যারা নাছিরের আশ্রয় জোটার পর থেকে| কুত্তা আর কুত্তি বলে খিস্তি ঝারলো বাবা মাকে ছোটোবেলার কথা মনে হতেই| জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখেছে কোনো-চাকরিতে-বেশিদিন-টিকতে-না-পারা তারা বাবা রাতে ঘরে ফিরতেই কী কাণ্ডকারখানা ঘটাতে থাকতো তার মা| মুখ দিয়ে অকথ্য ভাষার খিস্তি তো ছুটতোই, প্রায়ই মাঝরাতে বাবার সব জামা-কাপড় ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দিতো| তো একদিন তার বাবা তাকে, তার ছোটো বোনকে আর মাকে ফেলে সেই যে লাপাত্তা হলো, আর ফিরে এলো না| কখনো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে আয়াগিরি করে, কখনো কোনো অফিসে ফুট-ফরমাসের কাজ জুটিয়ে তার মা তাদের দু বেলা খাবার জোটাতো ঠিকই, কিন্তু ঘরে ফিরে সমস্ত ঝাল মেটাতো তাদের দুই ভাই-বোনকে আচ্ছামতো পিটিয়ে| দীপু তাই বাইরে বাইরেই কাটাতো প্রায় সারাটা ক্ষণ| বয়স আরো বাড়লে মহল্লার কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়েছিল, একবার জেলও খেটে এসেছে বছরখানেক| জেল থেকে ফিরে রাস্তাঘাটে বাসের জানালা থেকে মোবাইল ছিনতাই করে চলতো| তাতে ঝুঁকি খুব বেশি থাকায় সুযোগ বুঝে মহল্লার বড়ভাই টেরা নাসিরের দলে ভিড়ে গিয়েছিল| দীপুর কাজে খুব সন্তুষ্ট ছিল নাসির| তাই এবারের কোরবানির হাটের ইজারা নিতে যাওয়ার সময় আজ তাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিল|

মানিক ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকে নিজেকে বেশ নিরাপদ মনে হলো দীপুর| এবার সে কিছুটা ঠাণ্ডা মাথায় কী করবে তা নিয়ে ভাবতে থাকলো| কিন্তু ভেবে ভেবে কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না| চিপা গলিতে তার ভাবনার গতি বেড়ে গেল| একটা একটা করে বুদ্ধি আসছিল মাথায়, আর মনমতো না হওয়ায় বাতিল করে দিচ্ছিল| আবার ভাবছিল| দীপু অবশ্য জানে না তার মগজের ভাবনা কখনো থেমে থাকে না| এমনকি ঘুমের মধ্যেও চলতে থাকে| তবে জেগে থাকার সময়ের মতো যৌক্তিক থাকে না সেই ভাবনাগুলো| তখন ভাবতে থাকে তার অবচেতন মন| অবচেতন মন তখন তার স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করে| সে আরো জানে না, মাঝে মাঝেই সে যে অদ্ভুত, ভয়ালো স্বপ্নগুলো দেখে তা তার এই অবচেতন মনেরই কারসাজি| সে আরো জানে না চলমান ঘটনাগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত সাজিয়ে সাজিয়ে অবচেতন মন তাকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করে| এই যেমন এখন সে এই মানিক ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকেছে, ছুটতে শুরু করার পর থেকে সে কিন্তু এশবারও ভাবেনি যে এখানে আসবে; মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভেবে তার অবচেতন মনই তাকে এখানে ছুটিয়ে নিয়ে এসেছে|

লোকজন সন্দেহ করবে ভেবে দীপু আর দৌড়াচ্ছিল না| এবার সে মনে মনে ঠিক করল লাট মামার পুরনো বইয়ের দোকানে যাবে| এলাকার সবাই লাটভাই বললেও সে ডাকে লাট মামা| তার মাকে খুব আদর করেন, তার মায়ের দ্বিতীয় তৃতীয় বিয়ে এই লাট মামাই দিয়েছিলেন| বিপদে-আপদে দীপুকে খুব সাহায্য করেন| চিপা গলিটা পেরিয়ে তাই সে ধাঁই ধাঁই করে সেদিকেই হাঁটতে থাকল| খুবই অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, মাঝে মাঝে এই লাট মামার দোকান থেকে সে বই নিয়ে পড়ে|

ঠেঙ্গু বাবলা ভালো করেই জানে এই মহল্লার কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে| টেরা নাসিরকে গুলি করে নিকেশও করে দিয়েছে সেসব ক্যামেরা এড়িয়ে| সঙ্গে থাকা সাগরেদদের আজ আর আস্তানায় না গিয়ে গা-ঢাকা দিতে বলে সে আগে ছোট ব্যাগে করে আনা জোব্বা, পাগড়ি আর মাস্ক পরে নিল| তারপর মনে মনে ঠিক করে রাখা জায়গাটার দিকে হাঁটতে থাকল| অবচেতন মনের আগাম সতর্কতাই তাকে দিয়ে এখন এসব করিয়ে নিচ্ছে| অবচেতন মনের হিসেব-নিকেশ থেকেই সে জানে গরুর হাটের ইজারা বাগানো এবং সবকিছু ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাকে কাকে তার এখন দলে টানতে হবে| প্রথম শিকারটাকে কবজা করতে সে তাই জায়গামতো গিয়ে ওত পেতে থাকল|

এই মহল্লা থেকে লাট মামার দোকানে যাওয়ার চিপা গলিটাতে ঢুকে দীপু নিজেকে বেশ নিরাপদ ভাবতে থাকল| মনে মনে ঠিক করল, লাট মামার কাছ থেকে বুদ্ধি নিয়ে এবার সে অনেক দূরে কোথাও চলে যাবে| নতুন জীবনটা কীভাবে শুরু করবে ছক কষতে কষতে আনমনা হয়ে গিয়েছিল, তাই জোব্বা-পাগড়ি পরা মাঝ বয়সী এক লোক আধো অন্ধকারে পিস্তল তাক করে যখন তার পথ আগলে দাঁড়াল তখন তার আর করার কিছুই রইল না| বেওয়ারিশ ঝরাপাতা হয়ে আশার বাতাস শুঁকে উড়ছিল, মাটি ফুঁড়ে উঠে এসে লোকটা তার ডানা ছেঁটে দিল|

*** 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ডানাছাঁটা ঝরাপাতা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের ড্রোন হামলায় ট্রাম্পের মার্কিন যুদ্ধবিমান পর্যুদস্ত আকাশ থেকে দাউ দাউ করে জ্বলে-পুড়ে আছড়ে পড়ছিল হিংসার দখলি তোপে মানবিক উর্বরতা খুইয়ে ঝামা হয়ে যাওয়া জমিনেদীপু ছুটছিল| দেশ বিকিয়ে আখের গোছানোর ধান্দায় থাকা দেশ স্বাস্থ্যে উদাসী শাসকের বিমূঢ়তায় হামের প্রকোপে মারা যাচ্ছিল শত শত শিশুদীপু ছুটছিল| নগদ স্বার্থধন্ধে মেতে থাকা আবিশ্ব অবিবেচক শাসকদের পরিবেশবিদ্বেষী কাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতার আঁচে জেরবার চিলি-আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার হিমবাহের বিশাল বিশাল বরফের চাঁই ধসে পড়ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি বরফের নদীতেদীপু ছুটছিল| জ্যামাইকার গতিদানব উসেইন বোল্ট কোন& ছাড়অলিম্পিকে এমন একটা দৌড় দিতে পারলে দীপুর এই দৌড়ের রেকর্ড অটুট থাকতো চিরকাল| কানের ভেতর তখনো ঘাড়ের পাশ দিয়ে শিস কেটে বেরিয়ে যাওয়া বুলেটের কলজে কাঁপানো সাঁ-------- শব্দটা শুনতে পাচ্ছিল| আর তাতে ভয়টা আরো বেড়ে গিয়ে তার পায়ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল| ছুট লাগানোর ঠিক আগে পলকে দেখতে পেয়েছিল ঠেঙ্গু বাবলা ট্যারা নাছিরকে চার-পাঁচবার গুলি করে পিস্তলটা ঘুরিয়ে তার দিকে তাক করছে|

দীপু ছুটছে আর ভাবছে এবার পালাতে পারলে কোথায় গিয়ে ঠাঁই নেবে|

যতো জোরে ছুটছিল, দীপুর ভাবনাটা ছুটছিল তার চেয়েও জোরে| ভাবনাটা টর্পেডো গতিতে গুছিয়ে নিচ্ছিল দৌড়ের ওপরেই| ঝোড়ো বাতাসে গোত্তা খেয়ে খেয়ে উড়তে থাকা তার ঝরা-পাতা-জীবনকে থিতু করতে চেয়েছিল ট্যারা নাছিরের আশ্রয় জোটার পর থেকে| কুত্তা আর কুত্তি বলে খিস্তি ঝারলো বাবা মাকে ছোটোবেলার কথা মনে হতেই| জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখেছে কোনো-চাকরিতে-বেশিদিন-টিকতে-না-পারা তারা বাবা রাতে ঘরে ফিরতেই কী কাণ্ডকারখানা ঘটাতে থাকতো তার মা| মুখ দিয়ে অকথ্য ভাষার খিস্তি তো ছুটতোই, প্রায়ই মাঝরাতে বাবার সব জামা-কাপড় ঘরের বাইরে ছুড়ে ফেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় খিল লাগিয়ে দিতো| তো একদিন তার বাবা তাকে, তার ছোটো বোনকে আর মাকে ফেলে সেই যে লাপাত্তা হলো, আর ফিরে এলো না| কখনো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে আয়াগিরি করে, কখনো কোনো অফিসে ফুট-ফরমাসের কাজ জুটিয়ে তার মা তাদের দু বেলা খাবার জোটাতো ঠিকই, কিন্তু ঘরে ফিরে সমস্ত ঝাল মেটাতো তাদের দুই ভাই-বোনকে আচ্ছামতো পিটিয়ে| দীপু তাই বাইরে বাইরেই কাটাতো প্রায় সারাটা ক্ষণ| বয়স আরো বাড়লে মহল্লার কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়েছিল, একবার জেলও খেটে এসেছে বছরখানেক| জেল থেকে ফিরে রাস্তাঘাটে বাসের জানালা থেকে মোবাইল ছিনতাই করে চলতো| তাতে ঝুঁকি খুব বেশি থাকায় সুযোগ বুঝে মহল্লার বড়ভাই টেরা নাসিরের দলে ভিড়ে গিয়েছিল| দীপুর কাজে খুব সন্তুষ্ট ছিল নাসির| তাই এবারের কোরবানির হাটের ইজারা নিতে যাওয়ার সময় আজ তাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিল|

মানিক ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকে নিজেকে বেশ নিরাপদ মনে হলো দীপুর| এবার সে কিছুটা ঠাণ্ডা মাথায় কী করবে তা নিয়ে ভাবতে থাকলো| কিন্তু ভেবে ভেবে কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না| চিপা গলিতে তার ভাবনার গতি বেড়ে গেল| একটা একটা করে বুদ্ধি আসছিল মাথায়, আর মনমতো না হওয়ায় বাতিল করে দিচ্ছিল| আবার ভাবছিল| দীপু অবশ্য জানে না তার মগজের ভাবনা কখনো থেমে থাকে না| এমনকি ঘুমের মধ্যেও চলতে থাকে| তবে জেগে থাকার সময়ের মতো যৌক্তিক থাকে না সেই ভাবনাগুলো| তখন ভাবতে থাকে তার অবচেতন মন| অবচেতন মন তখন তার স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করে| সে আরো জানে না, মাঝে মাঝেই সে যে অদ্ভুত, ভয়ালো স্বপ্নগুলো দেখে তা তার এই অবচেতন মনেরই কারসাজি| সে আরো জানে না চলমান ঘটনাগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত সাজিয়ে সাজিয়ে অবচেতন মন তাকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করে| এই যেমন এখন সে এই মানিক ওস্তাগারের চিপা গলিতে ঢুকেছে, ছুটতে শুরু করার পর থেকে সে কিন্তু এশবারও ভাবেনি যে এখানে আসবে; মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ ভেবে তার অবচেতন মনই তাকে এখানে ছুটিয়ে নিয়ে এসেছে|

লোকজন সন্দেহ করবে ভেবে দীপু আর দৌড়াচ্ছিল না| এবার সে মনে মনে ঠিক করল লাট মামার পুরনো বইয়ের দোকানে যাবে| এলাকার সবাই লাটভাই বললেও সে ডাকে লাট মামা| তার মাকে খুব আদর করেন, তার মায়ের দ্বিতীয় তৃতীয় বিয়ে এই লাট মামাই দিয়েছিলেন| বিপদে-আপদে দীপুকে খুব সাহায্য করেন| চিপা গলিটা পেরিয়ে তাই সে ধাঁই ধাঁই করে সেদিকেই হাঁটতে থাকল| খুবই অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, মাঝে মাঝে এই লাট মামার দোকান থেকে সে বই নিয়ে পড়ে|

ঠেঙ্গু বাবলা ভালো করেই জানে এই মহল্লার কোথায় কোথায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে| টেরা নাসিরকে গুলি করে নিকেশও করে দিয়েছে সেসব ক্যামেরা এড়িয়ে| সঙ্গে থাকা সাগরেদদের আজ আর আস্তানায় না গিয়ে গা-ঢাকা দিতে বলে সে আগে ছোট ব্যাগে করে আনা জোব্বা, পাগড়ি আর মাস্ক পরে নিল| তারপর মনে মনে ঠিক করে রাখা জায়গাটার দিকে হাঁটতে থাকল| অবচেতন মনের আগাম সতর্কতাই তাকে দিয়ে এখন এসব করিয়ে নিচ্ছে| অবচেতন মনের হিসেব-নিকেশ থেকেই সে জানে গরুর হাটের ইজারা বাগানো এবং সবকিছু ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাকে কাকে তার এখন দলে টানতে হবে| প্রথম শিকারটাকে কবজা করতে সে তাই জায়গামতো গিয়ে ওত পেতে থাকল|

এই মহল্লা থেকে লাট মামার দোকানে যাওয়ার চিপা গলিটাতে ঢুকে দীপু নিজেকে বেশ নিরাপদ ভাবতে থাকল| মনে মনে ঠিক করল, লাট মামার কাছ থেকে বুদ্ধি নিয়ে এবার সে অনেক দূরে কোথাও চলে যাবে| নতুন জীবনটা কীভাবে শুরু করবে ছক কষতে কষতে আনমনা হয়ে গিয়েছিল, তাই জোব্বা-পাগড়ি পরা মাঝ বয়সী এক লোক আধো অন্ধকারে পিস্তল তাক করে যখন তার পথ আগলে দাঁড়াল তখন তার আর করার কিছুই রইল না| বেওয়ারিশ ঝরাপাতা হয়ে আশার বাতাস শুঁকে উড়ছিল, মাটি ফুঁড়ে উঠে এসে লোকটা তার ডানা ছেঁটে দিল|

*** 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত