সংবাদ

পাকিস্তানের শেষ নিঃশ্বাস! হাতে তিন উইকেট টাইগারের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

পাকিস্তানের শেষ নিঃশ্বাস! হাতে তিন উইকেট টাইগারের
পাকিস্তানের টিকিট কাটবে আজ? তিন উইকেট দূরে টাইগারদের ইতিহাস

ইতিমধ্যে ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। এখন সিলেটে দাঁড়িয়ে আরও একটি ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা। হাতে মাত্র তিনটি উইকেট! আর তারপরই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের অবস্থা দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। মানে, শেষ দিনে বাংলাদেশকে নিতে হবে মাত্র ৩ উইকেট। আর পাকিস্তানকে চাই ১২০ রান।

পাকিস্তানের শেষ আশা মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনিই একা লড়ে যাচ্ছেন ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে। কিন্তু একা রিজওয়ানই কি পারবেন? তার সঙ্গী হচ্ছেন সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস- যাদের ব্যাটিং সবারই জানা।

পাকিস্তানকে নিয়ে কখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। দলটার ডাকনামই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। একদিন যেখানে লজ্জাজনক হার দেখে বিশ্ব, সেখানে অন্য দিন এলাহি কামব্যাক করে বসে। শেষ দিনে যদি বৃষ্টি না আসে, তবু ঘাম ছুটিয়ে দিতে পারে টাইগারদের।

কিন্তু বাস্তব কথা হলো, তিন বোলারকে নিয়ে পুরো তিন সেশন প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্যও অসম্ভবের কাছাকাছি।

শেষ দিনে ৯০ ওভার খেলা সম্ভাবনা। বোলিংয়ের জন্য এটা স্বপ্নের মতো, ব্যাটিংয়ের জন্য দুরন্ত চ্যালেঞ্জ। রিজওয়ান কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেন? সেটিই দেখার।

আর বাংলাদেশের তিন স্পিনার- মিরাজ, তাইজুল, নাঈম হাসান ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মাথা ব্যথা বানিয়েছেন। এখন তো চা-বাগানের ঢালে উইকেট আরও খারাপ হতে পারে। মনে হচ্ছে, রিজওয়ানের সঙ্গীরা খুব বেশিক্ষণ টিকবেন না।

প্রথম টেস্ট জিতে নিয়েছিলাম। দ্বিতীয়টাও জিতলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের ইতিহাস হবে। শুধু সিরিজ না, র্যাংকিংয়ের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। পুরো দেশ এখন সিলেটের দিকে চেয়ে।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে শুরুটা যেমন দারুণ হয়েছে, শেষটাও যেন তেমনি সুপার হয়। রিজওয়ান একাই নায়ক হতে চাইলেও বাঘের সামনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, প্রশ্ন থেকেই যায়।

চট্টগ্রাম সিলেট হয়ে এখন টেস্ট মানেই উন্মাদনা। মাঠের দর্শকদের একাংশ হয়তো শেষ দিনের শুরুতেই গাইতে শুরু করবেন- ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ...’ অথবা ‘ও রিজওয়ান, বিদায় নাও’।

খেলার মজা তখনই বেড়ে যায় যখন প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান উইকেটের কাছে দাঁড়িয়ে। রিজওয়ান যদি কিছুক্ষণ টিকেও যান, সেটাও দারুণ লড়াই হবে। কিন্তু শেষ হাসি টাইগারদেরই হাসার কথা।

মানে, শেষ দিন মানেই আমাদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল। শুধু একটু বৃষ্টি না হলে। আর পাকিস্তানের ছোট লড়াই যদি আনন্দ বাড়ায়, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিরিজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে টাইগাররা।

আর সেটাই কেবল প্রত্যাশা নয়, যেন অধিকার। কারণ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্টে হারানো এখন আর অতীতের কল্পকাহিনি নয়, এটা বর্তমানের বাস্তব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


পাকিস্তানের শেষ নিঃশ্বাস! হাতে তিন উইকেট টাইগারের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

ইতিমধ্যে ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। এখন সিলেটে দাঁড়িয়ে আরও একটি ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা। হাতে মাত্র তিনটি উইকেট! আর তারপরই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের অবস্থা দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। মানে, শেষ দিনে বাংলাদেশকে নিতে হবে মাত্র ৩ উইকেট। আর পাকিস্তানকে চাই ১২০ রান।

পাকিস্তানের শেষ আশা মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনিই একা লড়ে যাচ্ছেন ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে। কিন্তু একা রিজওয়ানই কি পারবেন? তার সঙ্গী হচ্ছেন সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস- যাদের ব্যাটিং সবারই জানা।

পাকিস্তানকে নিয়ে কখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। দলটার ডাকনামই ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। একদিন যেখানে লজ্জাজনক হার দেখে বিশ্ব, সেখানে অন্য দিন এলাহি কামব্যাক করে বসে। শেষ দিনে যদি বৃষ্টি না আসে, তবু ঘাম ছুটিয়ে দিতে পারে টাইগারদের।

কিন্তু বাস্তব কথা হলো, তিন বোলারকে নিয়ে পুরো তিন সেশন প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্যও অসম্ভবের কাছাকাছি।

শেষ দিনে ৯০ ওভার খেলা সম্ভাবনা। বোলিংয়ের জন্য এটা স্বপ্নের মতো, ব্যাটিংয়ের জন্য দুরন্ত চ্যালেঞ্জ। রিজওয়ান কতক্ষণ প্রতিরোধ গড়তে পারেন? সেটিই দেখার।

আর বাংলাদেশের তিন স্পিনার- মিরাজ, তাইজুল, নাঈম হাসান ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মাথা ব্যথা বানিয়েছেন। এখন তো চা-বাগানের ঢালে উইকেট আরও খারাপ হতে পারে। মনে হচ্ছে, রিজওয়ানের সঙ্গীরা খুব বেশিক্ষণ টিকবেন না।

প্রথম টেস্ট জিতে নিয়েছিলাম। দ্বিতীয়টাও জিতলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের ইতিহাস হবে। শুধু সিরিজ না, র্যাংকিংয়ের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। পুরো দেশ এখন সিলেটের দিকে চেয়ে।

পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে শুরুটা যেমন দারুণ হয়েছে, শেষটাও যেন তেমনি সুপার হয়। রিজওয়ান একাই নায়ক হতে চাইলেও বাঘের সামনে দাঁড়াতে পারবেন কি না, প্রশ্ন থেকেই যায়।

চট্টগ্রাম সিলেট হয়ে এখন টেস্ট মানেই উন্মাদনা। মাঠের দর্শকদের একাংশ হয়তো শেষ দিনের শুরুতেই গাইতে শুরু করবেন- ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ...’ অথবা ‘ও রিজওয়ান, বিদায় নাও’।

খেলার মজা তখনই বেড়ে যায় যখন প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান উইকেটের কাছে দাঁড়িয়ে। রিজওয়ান যদি কিছুক্ষণ টিকেও যান, সেটাও দারুণ লড়াই হবে। কিন্তু শেষ হাসি টাইগারদেরই হাসার কথা।

মানে, শেষ দিন মানেই আমাদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল। শুধু একটু বৃষ্টি না হলে। আর পাকিস্তানের ছোট লড়াই যদি আনন্দ বাড়ায়, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিরিজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে টাইগাররা।

আর সেটাই কেবল প্রত্যাশা নয়, যেন অধিকার। কারণ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে টেস্টে হারানো এখন আর অতীতের কল্পকাহিনি নয়, এটা বর্তমানের বাস্তব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত