জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় পুলিশ এবং বিজিবির গুলিতে আহত সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছটফট করতে দেখার এক 'রোমহর্ষক বর্ণনা' উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজের দেখা সেই ঘটনার বিবরণ দেন খিলগাঁও বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে ওই ব্যবসায়ী বলেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমি বাইরে বিকট গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শুনতে পাই। আন্দোলনকারীদের ছোটাছুটি দেখে আমি বনশ্রী এফ-জি এভিনিউ হয়ে প্রধান সড়কে যাই।"
তিনি আরও জানান, প্রধান সড়কে গিয়ে তিনি দেখতে পান রামপুরা সেতুর দিক থেকে পুলিশ ও বিজিবির একটি দল থানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখে তিনি দ্রুত একটি গলির ভেতরে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পরবর্তী অংশের বর্ণনায় সাক্ষী বলেন, "প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পুনরায় রামপুরা সেতুতে ফিরে আসে। এ সময় ছাত্র-জনতা এফ-জি এভিনিউয়ের কাছে মূল সড়কে কলাগাছ ফেলে পথ আটকে দেয়। পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে সেগুলো সরাচ্ছিল। আর বিজিবির সাত-আটজন সদস্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালাতে চালাতে এভিনিউয়ের দিকে অগ্রসর হয়।"
গুলির সময় তিনি নিজে এফ ব্লকের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়েছিলেন উল্লেখ করে আদালতে বলেন, "তাদের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। রক্তাক্ত শরীরে সড়কেই ছটফট করছিলেন তারা।"
পরবর্তীতে তিনি কাছের ফরাজি হাসপাতাল ও অ্যাডভান্স হাসপাতালে গিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ মানুষকে এবং কাপড় দিয়ে ঢাকা সাত থেকে আটজনের মরদেহ দেখতে পান।
জবানবন্দিতে ওই সাক্ষী আরও উল্লেখ করেন, তিনি পরে জানতে পেরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এবং বনশ্রী এলাকায় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বিজিবির লে. কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাফাত, পুলিশের এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউরের নির্দেশ ও নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে তিনি এই নৃশংসতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে চারজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে লে. কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে বন্দি আছেন এবং ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এখনও পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় পুলিশ এবং বিজিবির গুলিতে আহত সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছটফট করতে দেখার এক 'রোমহর্ষক বর্ণনা' উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজের দেখা সেই ঘটনার বিবরণ দেন খিলগাঁও বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে ওই ব্যবসায়ী বলেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আমি বাইরে বিকট গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শুনতে পাই। আন্দোলনকারীদের ছোটাছুটি দেখে আমি বনশ্রী এফ-জি এভিনিউ হয়ে প্রধান সড়কে যাই।"
তিনি আরও জানান, প্রধান সড়কে গিয়ে তিনি দেখতে পান রামপুরা সেতুর দিক থেকে পুলিশ ও বিজিবির একটি দল থানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ছে। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখে তিনি দ্রুত একটি গলির ভেতরে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পরবর্তী অংশের বর্ণনায় সাক্ষী বলেন, "প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পুনরায় রামপুরা সেতুতে ফিরে আসে। এ সময় ছাত্র-জনতা এফ-জি এভিনিউয়ের কাছে মূল সড়কে কলাগাছ ফেলে পথ আটকে দেয়। পুলিশ গাড়ি থেকে নেমে সেগুলো সরাচ্ছিল। আর বিজিবির সাত-আটজন সদস্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালাতে চালাতে এভিনিউয়ের দিকে অগ্রসর হয়।"
গুলির সময় তিনি নিজে এফ ব্লকের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পেছনে আশ্রয় নিয়েছিলেন উল্লেখ করে আদালতে বলেন, "তাদের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। রক্তাক্ত শরীরে সড়কেই ছটফট করছিলেন তারা।"
পরবর্তীতে তিনি কাছের ফরাজি হাসপাতাল ও অ্যাডভান্স হাসপাতালে গিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ মানুষকে এবং কাপড় দিয়ে ঢাকা সাত থেকে আটজনের মরদেহ দেখতে পান।
জবানবন্দিতে ওই সাক্ষী আরও উল্লেখ করেন, তিনি পরে জানতে পেরেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এবং বনশ্রী এলাকায় অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বিজিবির লে. কর্নেল রেদোয়ান, মেজর রাফাত, পুলিশের এডিসি রাশেদুল ও ওসি মশিউরের নির্দেশ ও নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে তিনি এই নৃশংসতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে চারজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে লে. কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে বন্দি আছেন এবং ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এখনও পলাতক রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন