তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এখন বইছে উৎসবের আমেজ। বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় লাল টকটকে লিচু আর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন মুখর। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর জেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাগানেই লিচুর ফলন নজরকাড়া। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের লিচুর ভারে নুয়ে পড়ছে গাছের ডাল। চাষিরা জানান, শুরুতে খরা থাকলেও পরে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় ফলের আকার ও স্বাদ দুই-ই ভালো হয়েছে। পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন নিয়ে তারা বেশ সন্তুষ্ট।
চম্পকনগর এলাকার এক চাষি বলেন, "এ বছর বাগানে প্রচুর লিচু এসেছে। বাজারদরও এখন পর্যন্ত ভালো। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি।" তিনি আরও জানান, বিজয়নগরের মাটির বিশেষ গুণের কারণেই এখানকার লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু ও রসালো হয়। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে ভিড় করেন।
বর্তমানে চম্পকনগর, আউলিয়া বাজার ও মেরাশানীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয় কেনাবেচা। আকার ও জাতভেদে প্রতি হাজার লিচু ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন আগাম জাতের পাতি লিচুর আধিপত্য বেশি থাকলেও বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের চাহিদাও ব্যাপক।
কৃষি বিভাগের মতে, বিজয়নগরের এই লিচু অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। মৌসুমে এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। লিচু সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের। তবে স্থানীয় চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি, পচনশীল এই ফল সংরক্ষণের জন্য এলাকায় একটি হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা। এতে অপচয় কমবে এবং চাষিরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এখন বইছে উৎসবের আমেজ। বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় লাল টকটকে লিচু আর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে ‘লিচুর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন মুখর। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ বছর জেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাগানেই লিচুর ফলন নজরকাড়া। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের লিচুর ভারে নুয়ে পড়ছে গাছের ডাল। চাষিরা জানান, শুরুতে খরা থাকলেও পরে আবহাওয়া অনুকূলে আসায় ফলের আকার ও স্বাদ দুই-ই ভালো হয়েছে। পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন নিয়ে তারা বেশ সন্তুষ্ট।
চম্পকনগর এলাকার এক চাষি বলেন, "এ বছর বাগানে প্রচুর লিচু এসেছে। বাজারদরও এখন পর্যন্ত ভালো। গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি।" তিনি আরও জানান, বিজয়নগরের মাটির বিশেষ গুণের কারণেই এখানকার লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু ও রসালো হয়। এ কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে ভিড় করেন।
বর্তমানে চম্পকনগর, আউলিয়া বাজার ও মেরাশানীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ভোর থেকেই শুরু হয় কেনাবেচা। আকার ও জাতভেদে প্রতি হাজার লিচু ২,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন আগাম জাতের পাতি লিচুর আধিপত্য বেশি থাকলেও বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের চাহিদাও ব্যাপক।
কৃষি বিভাগের মতে, বিজয়নগরের এই লিচু অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। মৌসুমে এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। লিচু সংগ্রহ, বাছাই, প্যাকেজিং ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের। তবে স্থানীয় চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি, পচনশীল এই ফল সংরক্ষণের জন্য এলাকায় একটি হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা। এতে অপচয় কমবে এবং চাষিরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শের কারণে ফলন ভালো হয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু বাজারজাত করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আপনার মতামত লিখুন