সংবাদ

গায়ে পড়বে না নতুন বোরকা

আর বাবার কাছে টিফিনের টাকা চাইবে না মেধাবী রামিসা


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

আর বাবার কাছে টিফিনের টাকা চাইবে না মেধাবী রামিসা

আর বাবার কাছে টিফিনের টাকা চাইবে না ছোট্ট রামিসা, গায়ে পড়বে না বাবার কিনে দেওয়া নতুন বোরকা। এগুলো কিছুই আর হবে না, কারণ যে হাতে টিফিনের টাকা নেবে, যে শরীরে নতুন বোরকা পড়বে; হত্যা করার আগে ঘাতক সোহেল রানা হাত, মাথাসহ সেই দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করেছিলো।

শিশুটির কোনো শত্রু ছিল না, ছিল না জগতের কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অথচ তাকেই শিকার হতে হলো এক পাশবিক নৃশংসতার। নিজে তিন বছর ধরে ছেড়া জুতা পড়লেও, মেয়ের জন্য কিছু কিনতে যে বাবা এক মূহুর্ত ভাবেন নি; মাত্র ১০ টাকার সেই আবদার, নিষ্পাপ হাসি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না সেই হান্নান মোল্লার আঙিনায়। গায়ে জড়ানো হবে না বাবার পরম আদরে কিনে দেওয়া সেই নতুন বোরকাটি। ঘাতকের নির্মম লালসার বলি হয়ে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে একটি ফুটফুটে প্রাণ।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল ঘাতক সোহেল রানা যে নৃশংসতার বিবরণ দিয়েছে, তা শুনলে শিউরে ওঠে মানুষের বিবেক। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, যখন শিশুটির মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন, তখন সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়াও ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার জন্য শিশুটির দেহ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একজন নারী হয়েও একইসঙ্গে সোহেলকে সহযোগিতা করে। পরে একপর্যায়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

পপুলার মডেল হাই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার রোল নম্বর ছিল ১। সব সময় শ্রেণীকক্ষের প্রথম সারিতে বসতো। স্কুলে যাওয়ার আগে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার কাছে শিশুটির আবদার থাকতো আইসক্রিম, চকলেট, আমসত্ব, চিপস বা আচারের জন্য মাত্র ১০ টাকা।

রামিসার চাচা মো. সালাহ উদ্দিনের কাছথেকে জানা যায়, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মা পারভীন আক্তার মেয়ের এমন নির্মম মৃত্যুতে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় আর স্মৃতিমাখানো খেলনা বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বার বার ভেঙে পড়ছেন মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে। কিছুদিন আগেই ছোট্ট মেয়েটির জন্য কিনে এনেছিলেন একটি নতুন বোরকা। কিন্তু সেটি আর পড়া হয়নি রামিসার।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই মূল ঘাতকের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নারায়ণগঞ্জে একটি দোকান থেকে বন্ধুর কাছথেকে ধার নেওয়া টাকা বিকাশের মাধ্যমে তুলতে গিয়ে ডিবি ডিএমপির কাছে গ্রেফতার হয় সোহেল রানা (৩০)

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী রবিবার, ২৪ মে তদন্ত দল চার্জশিট আদালতে দিবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


আর বাবার কাছে টিফিনের টাকা চাইবে না মেধাবী রামিসা

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

আর বাবার কাছে টিফিনের টাকা চাইবে না ছোট্ট রামিসা, গায়ে পড়বে না বাবার কিনে দেওয়া নতুন বোরকা। এগুলো কিছুই আর হবে না, কারণ যে হাতে টিফিনের টাকা নেবে, যে শরীরে নতুন বোরকা পড়বে; হত্যা করার আগে ঘাতক সোহেল রানা হাত, মাথাসহ সেই দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করেছিলো।

শিশুটির কোনো শত্রু ছিল না, ছিল না জগতের কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্ব। অথচ তাকেই শিকার হতে হলো এক পাশবিক নৃশংসতার। নিজে তিন বছর ধরে ছেড়া জুতা পড়লেও, মেয়ের জন্য কিছু কিনতে যে বাবা এক মূহুর্ত ভাবেন নি; মাত্র ১০ টাকার সেই আবদার, নিষ্পাপ হাসি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না সেই হান্নান মোল্লার আঙিনায়। গায়ে জড়ানো হবে না বাবার পরম আদরে কিনে দেওয়া সেই নতুন বোরকাটি। ঘাতকের নির্মম লালসার বলি হয়ে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেছে একটি ফুটফুটে প্রাণ।

আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল ঘাতক সোহেল রানা যে নৃশংসতার বিবরণ দিয়েছে, তা শুনলে শিউরে ওঠে মানুষের বিবেক। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, যখন শিশুটির মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন, তখন সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়াও ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার জন্য শিশুটির দেহ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একজন নারী হয়েও একইসঙ্গে সোহেলকে সহযোগিতা করে। পরে একপর্যায়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

পপুলার মডেল হাই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার রোল নম্বর ছিল ১। সব সময় শ্রেণীকক্ষের প্রথম সারিতে বসতো। স্কুলে যাওয়ার আগে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার কাছে শিশুটির আবদার থাকতো আইসক্রিম, চকলেট, আমসত্ব, চিপস বা আচারের জন্য মাত্র ১০ টাকা।

রামিসার চাচা মো. সালাহ উদ্দিনের কাছথেকে জানা যায়, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মা পারভীন আক্তার মেয়ের এমন নির্মম মৃত্যুতে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় আর স্মৃতিমাখানো খেলনা বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এবং বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বার বার ভেঙে পড়ছেন মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে। কিছুদিন আগেই ছোট্ট মেয়েটির জন্য কিনে এনেছিলেন একটি নতুন বোরকা। কিন্তু সেটি আর পড়া হয়নি রামিসার।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই মূল ঘাতকের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নারায়ণগঞ্জে একটি দোকান থেকে বন্ধুর কাছথেকে ধার নেওয়া টাকা বিকাশের মাধ্যমে তুলতে গিয়ে ডিবি ডিএমপির কাছে গ্রেফতার হয় সোহেল রানা (৩০)

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদি হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী রবিবার, ২৪ মে তদন্ত দল চার্জশিট আদালতে দিবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত