কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই জেলায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ৭ জন, যার মধ্যে শুধু মে মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রমণের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অনিরাপদ যৌন আচরণের মাধ্যমে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি/এইডস এইচটিসি-এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের এইচআইভি পজিটিভ এসেছে। মে মাসে মৃত তিনজনের বয়স যথাক্রমে ২১, ৩৫ ও ৪৯ বছর। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে কুমিল্লার ৩৮৫ জনসহ মোট ৬১৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এআরটি সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের প্রধান উৎস এখন অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। চলতি বছর শনাক্ত হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্ক, ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৩ জন বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২ জন প্রবাসে থাকাকালে সংক্রমিত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি (৯১ জন) সংক্রমিত হয়েছেন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের হার বেশি থাকলেও এখন যৌনবাহিত সংক্রমণই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১ বছর বয়সী এক মৃত যুবকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং আক্রান্তের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তিনিও পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে তাদের একমাত্র সন্তানটি ভাগ্যক্রমে আক্রান্ত হয়নি। সামাজিক ও পারিবারিক বাধার মুখেও তিনি এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘সামাজিক লজ্জা ও গোপনীয়তার কারণে অনেকে সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হলেও এই সেবার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গত ২ বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারপরও মানবিক কারণে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই জেলায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ৭ জন, যার মধ্যে শুধু মে মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রমণের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অনিরাপদ যৌন আচরণের মাধ্যমে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি/এইডস এইচটিসি-এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের এইচআইভি পজিটিভ এসেছে। মে মাসে মৃত তিনজনের বয়স যথাক্রমে ২১, ৩৫ ও ৪৯ বছর। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭। বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে কুমিল্লার ৩৮৫ জনসহ মোট ৬১৫ জন আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এআরটি সেন্টারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংক্রমণের প্রধান উৎস এখন অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। চলতি বছর শনাক্ত হওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্ক, ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৩ জন বিবাহিত সঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২ জন প্রবাসে থাকাকালে সংক্রমিত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি (৯১ জন) সংক্রমিত হয়েছেন পুরুষ-পুরুষ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের হার বেশি থাকলেও এখন যৌনবাহিত সংক্রমণই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১ বছর বয়সী এক মৃত যুবকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং আক্রান্তের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষায় তিনিও পজিটিভ শনাক্ত হন। তবে তাদের একমাত্র সন্তানটি ভাগ্যক্রমে আক্রান্ত হয়নি। সামাজিক ও পারিবারিক বাধার মুখেও তিনি এখন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘সামাজিক লজ্জা ও গোপনীয়তার কারণে অনেকে সময়মতো পরীক্ষা করাতে আসেন না। ফলে রোগটি শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হলেও এই সেবার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা গত ২ বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তারপরও মানবিক কারণে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন