বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে শিশুখাদ্য, মসলা, সোনার গয়না, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ওষুধের কাঁচামালে শুল্কছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য: ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।
শিশুখাদ্য: আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে বলে আশা করছে সরকার।
মসলা: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোনার গয়না: সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে পূর্বের ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আড়াই লাখ টাকার সোনার গহনায় পূর্বে ভ্যাট দিতে হতো সাড়ে ১২ হাজার টাকা; এখন তা কমে দাঁড়াবে আড়াই হাজার টাকা।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি): বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে: ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ ও ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া চার্জিং স্টেশনের ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়কর কমানো হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার: ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।
ওষুধ: ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ সব বাদ্যযন্ত্র ও তার যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা: সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্য ও সেবা: শুল্ক-কর কমানো ও শুল্কায়ন মূল্য পরিবর্তনের কারণে বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পিওএস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে শিশুখাদ্য, মসলা, সোনার গয়না, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ওষুধের কাঁচামালে শুল্কছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য: ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।
শিশুখাদ্য: আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে বলে আশা করছে সরকার।
মসলা: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোনার গয়না: সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে পূর্বের ৫ শতাংশের পরিবর্তে ভরিপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আড়াই লাখ টাকার সোনার গহনায় পূর্বে ভ্যাট দিতে হতো সাড়ে ১২ হাজার টাকা; এখন তা কমে দাঁড়াবে আড়াই হাজার টাকা।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি): বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে: ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ ও ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া চার্জিং স্টেশনের ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়কর কমানো হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার: ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিসে ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।
ওষুধ: ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র: গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ সব বাদ্যযন্ত্র ও তার যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা: সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্য ও সেবা: শুল্ক-কর কমানো ও শুল্কায়ন মূল্য পরিবর্তনের কারণে বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পিওএস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন