২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের আসল চিত্র বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। এই লোকসানের কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন সুরক্ষা ভেঙে পড়েছে এবং ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি রেশিও (সিআরএআর) মাইনাস বা ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে গেছে।
১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’-এ এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এর ফলে আর্থিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২.৬৪ শতাংশে। আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকগুলোর নূন্যতম ১০ শতাংশ মূলধন এবং অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ সুরক্ষা তহবিল রাখার কথা, সেখানে বাংলাদেশ এখন অনেক নিচে অবস্থান করছে।
এর বিপরীতে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে এই অনুপাত ছিল ১৭.২০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৯.৪০ শতাংশ এবং ২০২৫ সাল শেষে পাকিস্তানে ছিল ২০.৮০ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংক খাত তুলনামূলক শক্তিশালী ছিল, যা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ২০২৪ সালেও এই অনুপাত ছিল ৩.০৮ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়ম ও বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই আজকের এই ধস, যা তখন আড়াল করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূলত ইসলামি ধারার বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত উন্নয়ন ব্যাংক এবং কয়েকটি সরকারি ব্যাংকের দুর্বলতার কারণেই পুরো খাতের এই পতন হয়েছে। তবে মূল চাপটি এসেছে খেলাপি ঋণের কারণে। গত বছর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০.৬%। চলতি বছরের মার্চে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, "পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এর জন্যই এই তহবিল থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের আসল চিত্র বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। এই লোকসানের কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন সুরক্ষা ভেঙে পড়েছে এবং ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি রেশিও (সিআরএআর) মাইনাস বা ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে গেছে।
১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’-এ এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এর ফলে আর্থিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) দাঁড়িয়েছে মাইনাস ২.৬৪ শতাংশে। আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে ব্যাংকগুলোর নূন্যতম ১০ শতাংশ মূলধন এবং অতিরিক্ত ২.৫ শতাংশ সুরক্ষা তহবিল রাখার কথা, সেখানে বাংলাদেশ এখন অনেক নিচে অবস্থান করছে।
এর বিপরীতে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে এই অনুপাত ছিল ১৭.২০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১৯.৪০ শতাংশ এবং ২০২৫ সাল শেষে পাকিস্তানে ছিল ২০.৮০ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংক খাত তুলনামূলক শক্তিশালী ছিল, যা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ২০২৪ সালেও এই অনুপাত ছিল ৩.০৮ শতাংশ।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়ম ও বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই আজকের এই ধস, যা তখন আড়াল করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূলত ইসলামি ধারার বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত উন্নয়ন ব্যাংক এবং কয়েকটি সরকারি ব্যাংকের দুর্বলতার কারণেই পুরো খাতের এই পতন হয়েছে। তবে মূল চাপটি এসেছে খেলাপি ঋণের কারণে। গত বছর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০.৬%। চলতি বছরের মার্চে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, "পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ এর জন্যই এই তহবিল থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন