ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পুশব্যাকের ঘটনায় নাগরিকত্ব যাচাই করতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।
এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
পঞ্চগড় সীমান্ত (৫ জুন): ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা তৈরি হয়। খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে জিরো লাইনে রাত কাটাতে হয় তাদের। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়।
ঠাকুরগাঁও সীমান্ত (৬ ও ৮ জুন): ৬ জুন দুটি পরিবারের ৬ জন এবং ৮ জুন এক গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকে থাকার পর বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, তারা অন্তত ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে কাঁটাতারের বেড়া কেটে বিভিন্ন দলকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’ বলেও জানা গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, "ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা স্পষ্টত মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সরকারকে অবিলম্বে এই পুশব্যাক বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় করতে হবে।"

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই পুশব্যাকের ঘটনায় নাগরিকত্ব যাচাই করতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি আরও জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।
এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা:
পঞ্চগড় সীমান্ত (৫ জুন): ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা তৈরি হয়। খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে জিরো লাইনে রাত কাটাতে হয় তাদের। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়।
ঠাকুরগাঁও সীমান্ত (৬ ও ৮ জুন): ৬ জুন দুটি পরিবারের ৬ জন এবং ৮ জুন এক গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকে থাকার পর বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, তারা অন্তত ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে কাঁটাতারের বেড়া কেটে বিভিন্ন দলকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দিচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেছেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’ বলেও জানা গেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, "ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা স্পষ্টত মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। সরকারকে অবিলম্বে এই পুশব্যাক বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় করতে হবে।"

আপনার মতামত লিখুন