ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৬ বারের মতো পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৮ জুন নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। আজ মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট)-এর তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে এই দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল ডিবি পুলিশ।
ডিবি'র দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মনে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিল।
এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপুসহ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী অন্যতম। আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান শরীফ ওসমান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৬ বারের মতো পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৮ জুন নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। আজ মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট)-এর তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন করে এই দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিল ডিবি পুলিশ।
ডিবি'র দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডি-কে নির্দেশ দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মনে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিল।
এই মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপুসহ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী অন্যতম। আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান শরীফ ওসমান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন