সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার
(১৬ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ
এই আদেশ দেন। এর আগে গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় করার নির্দেশনাসংবলিত
হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত ২১ মে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল
রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৭ এপ্রিল
১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল
ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায়টি দিয়েছিলেন। রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
হলো:
১১৬ অনুচ্ছেদ
বাতিল: অধস্তন আদালতের
দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি
মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের
১১৬ অনুচ্ছেদের বিধানটি বাতিল করেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম
কোর্টের ওপর দায়িত্ব:
এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণ দায়িত্ব
সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়।
শৃঙ্খলাবিধি
বাতিল: অধস্তন আদালতের
জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আদালতে রিটকারীদের
পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র
অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের
২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে
এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের
সাত আইনজীবী রিটটি দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
১৯৭২ সালের
মূল সংবিধান: অধস্তন
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের
ওপর ন্যস্ত ছিল।
১৯৭৪ সাল
(চতুর্থ সংশোধনী): চতুর্থ
সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত
করা হয়।
পঞ্চম সংশোধনী: এই সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের
সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো অনুচ্ছেদে সংযোজন
করা হয়।
২০১১ সাল
(পঞ্চদশ সংশোধনী): সুপ্রিম
কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের
মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়।
রিটকারীদের
আইনজীবীর মতে, বর্তমানে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের
সঙ্গে পরামর্শ করার কথা উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি
হস্তক্ষেপ দেখা যায়। যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে চরমভাবে খর্ব করে আসছিল।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ।
আজ মঙ্গলবার
(১৬ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ
এই আদেশ দেন। এর আগে গত ৯ জুন সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় করার নির্দেশনাসংবলিত
হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ। গত ২১ মে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল
রাষ্ট্রপক্ষ।
গত ৭ এপ্রিল
১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল
ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায়টি দিয়েছিলেন। রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
হলো:
১১৬ অনুচ্ছেদ
বাতিল: অধস্তন আদালতের
দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি
মঞ্জুরিসহ) এবং শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকা সংক্রান্ত সংবিধানের
১১৬ অনুচ্ছেদের বিধানটি বাতিল করেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম
কোর্টের ওপর দায়িত্ব:
এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের পূর্ণ দায়িত্ব
সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়।
শৃঙ্খলাবিধি
বাতিল: অধস্তন আদালতের
জন্য ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আদালতে রিটকারীদের
পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র
অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের
২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের শৃঙ্খলা বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে
এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের
সাত আইনজীবী রিটটি দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
১৯৭২ সালের
মূল সংবিধান: অধস্তন
আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের
ওপর ন্যস্ত ছিল।
১৯৭৪ সাল
(চতুর্থ সংশোধনী): চতুর্থ
সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত
করা হয়।
পঞ্চম সংশোধনী: এই সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের
সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো অনুচ্ছেদে সংযোজন
করা হয়।
২০১১ সাল
(পঞ্চদশ সংশোধনী): সুপ্রিম
কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের
মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়।
রিটকারীদের
আইনজীবীর মতে, বর্তমানে সংবিধানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের
সঙ্গে পরামর্শ করার কথা উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি
হস্তক্ষেপ দেখা যায়। যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে চরমভাবে খর্ব করে আসছিল।

আপনার মতামত লিখুন