পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকে ঘিরে এবার শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। রাজ্যে ডবল স্ট্যান্ডার্ড সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিকল্প খোঁজার আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এটি কোনও ‘ তাঁকে সরানোর’ প্রক্রিয়া নয়, বরং আরও বড় দায়িত্বে নিয়ে যাওয়ার কৌশল।
সূত্রের খবর, শমীক ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গে দলের নজিরবিহীন সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা।
তবে এখানেই শেষ নয়। যদি তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অধীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বা কর্পোরেশনের শীর্ষ পদেও তাঁকে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাঁর শারীরিক সমস্যা। ৬২ বছর বয়সী শমীক ভট্টাচার্য বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন। সম্প্রতি কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। ফলে রাজ্যজুড়ে লাগাতার সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনা করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে।
একইসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ সংগঠনে বড়সড় রদবদলের পরিকল্পনা করছে। আগামী দিনে সংগঠনের কাঠামোয় পরিবর্তন এনে তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার ভাবনা চলছে। সেই কারণেই নতুন রাজ্য সভাপতির সম্ভাব্য নাম নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। পাশাপাশি মহিলা মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির সংগঠন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুলাই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় শমীক ভট্টাচার্যকে ।
মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এনে নজির গড়েন। শুধু তাই নয়, দলের দীর্ঘদিনের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেন। প্রবীণ নেতাদের সক্রিয়ভাবে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
এখন নজর একটাই—শমীক ভট্টাচার্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব, নাকি রাজ্যেই নতুন ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন—এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির রূপরেখা অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যকে ঘিরে এবার শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। রাজ্যে ডবল স্ট্যান্ডার্ড সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিকল্প খোঁজার আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, এটি কোনও ‘ তাঁকে সরানোর’ প্রক্রিয়া নয়, বরং আরও বড় দায়িত্বে নিয়ে যাওয়ার কৌশল।
সূত্রের খবর, শমীক ভট্টাচার্যকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গে দলের নজিরবিহীন সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা।
তবে এখানেই শেষ নয়। যদি তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন, সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অধীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বা কর্পোরেশনের শীর্ষ পদেও তাঁকে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাঁর শারীরিক সমস্যা। ৬২ বছর বয়সী শমীক ভট্টাচার্য বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থতায় ভুগছেন। সম্প্রতি কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। ফলে রাজ্যজুড়ে লাগাতার সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচালনা করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে।
একইসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ সংগঠনে বড়সড় রদবদলের পরিকল্পনা করছে। আগামী দিনে সংগঠনের কাঠামোয় পরিবর্তন এনে তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার ভাবনা চলছে। সেই কারণেই নতুন রাজ্য সভাপতির সম্ভাব্য নাম নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। পাশাপাশি মহিলা মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুকান্ত মজুমদারকে। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে বিজেপির সংগঠন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জুলাই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় শমীক ভট্টাচার্যকে ।
মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এনে নজির গড়েন। শুধু তাই নয়, দলের দীর্ঘদিনের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করেন। প্রবীণ নেতাদের সক্রিয়ভাবে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি।
এখন নজর একটাই—শমীক ভট্টাচার্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বড় দায়িত্ব, নাকি রাজ্যেই নতুন ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন—এই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির রূপরেখা অনেকটাই নির্ধারণ করবে।

আপনার মতামত লিখুন