কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক বাজার ধরতে বড় পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারতের আদানি গ্রুপ এবং এ খাতের বৃহৎ মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেবিল ইনকর্পোরেটেড।
ভারতে একটি অত্যাধুনিক এআই এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৌশলগত জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে বলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী সাত বছরে বিশ্বজুড়ে ৩ লাখ কোটি (৩ ট্রিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের যে বৈশ্বিক বাজার তৈরি হতে যাচ্ছে, মূলত সেটিকে লক্ষ্য করেই এই বিশাল উদ্যোগ। এই জোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জেবিলের ছয় দশকের প্রকৌশল দক্ষতা ও হাইপারস্কেল উৎপাদন অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হচ্ছে আদানি গ্রুপের বিশাল অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি এবং দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক। বিশ্বজুড়ে হাইপারস্কেলার, কো-লোকেশন সুবিধা এবং বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য ‘গিগাওয়াট মাত্রার’ এআই র্যাক উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কেবল কম্পিউটিং অবকাঠামোই নয়, এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় বিদ্যুৎ বিতরণ ইউনিট, শীতলীকরণ ইউনিট, ট্রান্সফর্মার, সুইচগিয়ার এবং উন্নত তাপ ব্যবস্থাপনা সরঞ্জামের মতো অত্যন্ত জটিল হার্ডওয়্যারও উৎপাদিত হবে। ফলে এটি একটি সমন্বিত ‘এন্ড-টু-এন্ড’ হার্ডওয়্যার সরবরাহ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে অবকাঠামো নির্মাতারা এক ছাদের নিচেই সব ধরনের প্রযুক্তিগত সমাধান পেয়ে যাবেন।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ডেটা সেন্টার খাত যখন এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসার, ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডেটা স্থানীয়করণের কঠোর নিয়মের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা ৫ থেকে ৮ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে ভারতে ৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এই জোট গঠন আদানি গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনারই অংশ। আদানি গ্রুপ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট সবুজ জ্বালানিভিত্তিক হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার নির্মাণে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও তাপীয় সমাধান সক্ষমতা বাড়াতে জেবিল সম্প্রতি ‘হ্যানলি এনার্জি গ্রুপ’ ও ‘মাইক্রোস টেকনোলজিস’ অধিগ্রহণ করেছে।
এই সহযোগিতাকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, “যে দেশগুলো জ্বালানি ও কম্পিউটিং শক্তির মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই আগামী দশক নিয়ন্ত্রণ করবে। জেবিলের সঙ্গে এই জোট ভারতের সম্পূর্ণ এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে ‘সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বিশ্বমানের হার্ডওয়্যার উৎপাদন পর্যন্ত’ একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ।”
গৌতম আদানি আরো বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু ভোক্তা নয়, বরং একজন সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা ও রপ্তানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
জেবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ডাস্টুর ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এআই বাজারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সক্ষমতা ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারে হাইপারস্কেলার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য র্যাক লেবেল পর্যন্ত নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করবে। ভারতের দক্ষ জনশক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এই সহযোগিতার জন্য আদর্শ।”
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উৎপাদন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে চূড়ান্ত কার্যক্রম কাঠামো ও আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।
জেবিল ইনকরপোরেটেড হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স এবং চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অ্যাপল বা অ্যামাজনের মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ডিজাইন করা পণ্য বা যন্ত্রাংশ পেছনের কারিগর হিসেবে তৈরি করে দেয় জেবিল। ১৯৬৬ সালে জেমস গোল্ডেন এবং বিল মোরিয়ান- এই দুই বন্ধুর হাত ধরে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের দুই নামের অংশ মিলিয়েই কোম্পানির নাম রাখা হয় জেবিল (জেএবিআইএল)। ২০২৫ অর্থবছরে জেবিলের রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৯৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডেটা সেন্টারের বৈশ্বিক বাজার ধরতে বড় পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারতের আদানি গ্রুপ এবং এ খাতের বৃহৎ মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেবিল ইনকর্পোরেটেড।
ভারতে একটি অত্যাধুনিক এআই এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কৌশলগত জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছে বলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী সাত বছরে বিশ্বজুড়ে ৩ লাখ কোটি (৩ ট্রিলিয়ন) মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের যে বৈশ্বিক বাজার তৈরি হতে যাচ্ছে, মূলত সেটিকে লক্ষ্য করেই এই বিশাল উদ্যোগ। এই জোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জেবিলের ছয় দশকের প্রকৌশল দক্ষতা ও হাইপারস্কেল উৎপাদন অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত হচ্ছে আদানি গ্রুপের বিশাল অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি এবং দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক। বিশ্বজুড়ে হাইপারস্কেলার, কো-লোকেশন সুবিধা এবং বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য ‘গিগাওয়াট মাত্রার’ এআই র্যাক উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কেবল কম্পিউটিং অবকাঠামোই নয়, এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় বিদ্যুৎ বিতরণ ইউনিট, শীতলীকরণ ইউনিট, ট্রান্সফর্মার, সুইচগিয়ার এবং উন্নত তাপ ব্যবস্থাপনা সরঞ্জামের মতো অত্যন্ত জটিল হার্ডওয়্যারও উৎপাদিত হবে। ফলে এটি একটি সমন্বিত ‘এন্ড-টু-এন্ড’ হার্ডওয়্যার সরবরাহ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে অবকাঠামো নির্মাতারা এক ছাদের নিচেই সব ধরনের প্রযুক্তিগত সমাধান পেয়ে যাবেন।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ডেটা সেন্টার খাত যখন এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসার, ক্লাউড অবকাঠামোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডেটা স্থানীয়করণের কঠোর নিয়মের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের ডেটা সেন্টার সক্ষমতা ৫ থেকে ৮ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে ভারতে ৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
এই জোট গঠন আদানি গ্রুপের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনারই অংশ। আদানি গ্রুপ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট সবুজ জ্বালানিভিত্তিক হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার নির্মাণে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অপরদিকে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও তাপীয় সমাধান সক্ষমতা বাড়াতে জেবিল সম্প্রতি ‘হ্যানলি এনার্জি গ্রুপ’ ও ‘মাইক্রোস টেকনোলজিস’ অধিগ্রহণ করেছে।
এই সহযোগিতাকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, “যে দেশগুলো জ্বালানি ও কম্পিউটিং শক্তির মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই আগামী দশক নিয়ন্ত্রণ করবে। জেবিলের সঙ্গে এই জোট ভারতের সম্পূর্ণ এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার পথে ‘সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বিশ্বমানের হার্ডওয়্যার উৎপাদন পর্যন্ত’ একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ।”
গৌতম আদানি আরো বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু ভোক্তা নয়, বরং একজন সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা ও রপ্তানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
জেবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ডাস্টুর ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এআই বাজারগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সক্ষমতা ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারে হাইপারস্কেলার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য র্যাক লেবেল পর্যন্ত নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি করবে। ভারতের দক্ষ জনশক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এই সহযোগিতার জন্য আদর্শ।”
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উৎপাদন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে চূড়ান্ত কার্যক্রম কাঠামো ও আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।
জেবিল ইনকরপোরেটেড হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স এবং চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অ্যাপল বা অ্যামাজনের মতো বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ডিজাইন করা পণ্য বা যন্ত্রাংশ পেছনের কারিগর হিসেবে তৈরি করে দেয় জেবিল। ১৯৬৬ সালে জেমস গোল্ডেন এবং বিল মোরিয়ান- এই দুই বন্ধুর হাত ধরে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের দুই নামের অংশ মিলিয়েই কোম্পানির নাম রাখা হয় জেবিল (জেএবিআইএল)। ২০২৫ অর্থবছরে জেবিলের রাজস্ব আয় ছিল ২ হাজার ৯৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

আপনার মতামত লিখুন