সংবাদ

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরভোটের ডেডলাইন!


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরভোটের ডেডলাইন!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা পুরসভার নির্বাচন আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে—এই স্পষ্ট বার্তা সামনে রেখেই প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের অধীনে শহুরে প্রশাসনে দ্রুত গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রশাসকের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে, আর সেই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠন করাই সরকারের লক্ষ্য—এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক তৎপরতায়।

এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার কলকাতা পুরসভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। ১৪৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের ডাকা হয়েছিল এই বৈঠকে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও একই মঞ্চে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রকাশ্যে কোনও কথোপকথন হয়নি, তবে এই নীরব উপস্থিতিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কলকাতার রাজনীতিতে নতুন করে শক্তির সমীকরণ বদলাচ্ছে।

অন্যদিকে, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করে তুলতে শুরু হয়েছে বিশেষ সাফাই অভিযান—‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’। উপরিভাগে এটি একটি নাগরিক উদ্যোগ হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি নতুন সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ইমেজ তুলে ধরার একটি বড় পদক্ষেপ।

পুরভোটের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন। এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং সরাসরি ভোটের সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নতুন সীমানা নির্ধারণ মানেই নতুন রাজনৈতিক হিসাব, পুরনো ঘাঁটির ভাঙন এবং নতুন শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা। ফলে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াই আগামী দিনে কলকাতার রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে এটি আসলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার কৌশল। নতুন সরকার, ভাঙা পুরবোর্ড, এবং সামনে নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে কলকাতা এখন কার্যত এক উচ্চ-ঝুঁকির রাজনৈতিক ময়দানে পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে মোদীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে পুরভোটের কাউন্টডাউন—এই দুইয়ের চাপেই কলকাতার রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। আগামী ছয় মাস শুধু নির্বাচন নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের এক বড় লড়াইয়ের মঞ্চ হতে চলেছে এই শহর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরভোটের ডেডলাইন!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

কলকাতা পুরসভার নির্বাচন আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে—এই স্পষ্ট বার্তা সামনে রেখেই প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের অধীনে শহুরে প্রশাসনে দ্রুত গণতান্ত্রিক কাঠামো ফিরিয়ে আনা এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ফলে প্রশাসকের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে, আর সেই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠন করাই সরকারের লক্ষ্য—এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক তৎপরতায়।

এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার কলকাতা পুরসভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। ১৪৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের ডাকা হয়েছিল এই বৈঠকে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও একই মঞ্চে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রকাশ্যে কোনও কথোপকথন হয়নি, তবে এই নীরব উপস্থিতিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কলকাতার রাজনীতিতে নতুন করে শক্তির সমীকরণ বদলাচ্ছে।

অন্যদিকে, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করে তুলতে শুরু হয়েছে বিশেষ সাফাই অভিযান—‘স্বচ্ছতাকে স্বাগত’। উপরিভাগে এটি একটি নাগরিক উদ্যোগ হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি নতুন সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ইমেজ তুলে ধরার একটি বড় পদক্ষেপ।

পুরভোটের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন। এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং সরাসরি ভোটের সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নতুন সীমানা নির্ধারণ মানেই নতুন রাজনৈতিক হিসাব, পুরনো ঘাঁটির ভাঙন এবং নতুন শক্তির উত্থানের সম্ভাবনা। ফলে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াই আগামী দিনে কলকাতার রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে এটি আসলে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার কৌশল। নতুন সরকার, ভাঙা পুরবোর্ড, এবং সামনে নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে কলকাতা এখন কার্যত এক উচ্চ-ঝুঁকির রাজনৈতিক ময়দানে পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে মোদীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, অন্যদিকে পুরভোটের কাউন্টডাউন—এই দুইয়ের চাপেই কলকাতার রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে। আগামী ছয় মাস শুধু নির্বাচন নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের এক বড় লড়াইয়ের মঞ্চ হতে চলেছে এই শহর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত