সংবাদ

৭৬ বছরে সংবাদ / প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংখ্যা ২০২৬

৭৬ বছরের আলোকযাত্রা ও আমার ‘সংবাদ’স্মৃতি


আহমেদ ফরিদ
আহমেদ ফরিদ
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

৭৬ বছরের আলোকযাত্রা ও আমার ‘সংবাদ’স্মৃতি
শিল্পী : কাইয়ুম চৌধুরী

সময়ের স্রোত থেমে থাকার নয়, থেমে থাকে না| প্রবহমান সেই স্রোতে কিছু নাম না হারিয়ে অক্ষয় হয়ে থাকে ইতিহাসের অন্তর্গত ধারণাকে বুকে ধারণ করে| ‘সংবাদ’ সেই ধরনের একটি নাম| বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অংশ| ‘সংবাদের’ সাথে জড়িয়ে আছে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি— প্রবহমান এক অনুভব আর মমতাবোধ| 

হলে সংবাদ রাখার গল্প: আমার শৈশব আর কৈশোর কেটেছে এক যোগাযোগবিহীন প্রত্যন্ত গ্রামে| সেখানে গাভীর হাম্বা, চড়ুই শালিকের কিচির-মিচির আক্রান্ত ভোর, ঘুমপাড়ানো ঘুঘু ডাকের অলস দুপুরের সাথে মিথস্ক্রিয়া থাকলেও সরকারি দরকারি ডাক পৌছাতে পৌঁছাতে তার প্রয়োজনীয়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুরিয়ে যেতো| সুতারাং সেই গ্রামে সংবাদপত্রের দেখা মেলা ছিল সাপের পা দেখার মতই| তবে সংবাদপত্র নামে একটা জিনিস আছে যেখানে দেশ-বিদেশের খবর থাকে তা আমাদের জানা ছিল| স্থানীয় লোকজন সংবাদপত্রকে সম্বাদপত্র নামেই সম্বোধন করতেন| আমাদের এলাকায় কিংবা আশেপাশের এলাকায় কোনো সাংবাদিক ছিল বলে শুনিনি|

এই অবস্থায় সংবাদপত্রের সাথে সখ্য স্থাপনের আমার কোনো সুযোগ ছিল না| সুযোগটা ঘটে কলেজে পড়ার সময়|

কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের টাউন হল লাইব্রেরিটি আমাকে সুযোগ করে দেয় বিস্তর সংবাদপত্রের সাথে পরিচিত হওয়ার| এর মধ্যে দৈনিক সংবাদ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে|

টাউনহলের লাইব্রেরি রুমের টেবিলে অনেক গম্ভীর মুখের বয়স্ক আধা-বয়স্কেদের সাথে আমিও গম্ভীরতা বজায় রেখে পত্রিকার পাতায় মুখ ডুবিয়ে পড়ছি— এই দৃশ্যটি যখন আমার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে তখন আমি বিশেষ এক ধরনের আনন্দ অনুভব করি| আমার মুখটা আসলে তখন ডোবানো থাকত বেশিরভাগ সময়েই ‘সংবাদ’ নামের ˆদনিকটির ভিতরের পাতায়| আমার কাছে প্রথম পাতার সংবাদগুলো তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করত না| মনে হতো এই সব রাজা-উজির, বিশ্বমোড়ল আর খুনী-ছিনতাইকারীদের খবর পড়ে লাভ কী| আমি তো তাদের কোনো অংশীজন নই| সুতারাং আমি ডুব দিতাম সংবাদের সাহিত্যের পাতায় যেখানে গল্প, কবিতা, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি ছাপা হতো| আমার একমাত্র নেশা বই পড়ার খোরাকের কিয়দংশ মেটাতো ‘সংবাদ সাময়িকী’|

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমাদের হলের ফ্লোরের একটা অংশে একটা বিসিএস কর্নার স্থাপন করলাম| সেখানে গোটা দুয়েক পত্রিকা রাখতে হবে; কারণ হলের রিডিং রুমের পত্রিকার পাতাগুলো কারা যেনো ব্লেড দিয়ে কেটে নিয়ে যায়| দরকারি অংশগুলো আমারা পড়তে পারি না| তাই আমাদের সংবাদপত্র রাখার এই আয়োজন| পত্রিকা নির্বাচনের ভোটে ‘সংবাদ’ সর্বসম্মত ভোটে জয়লাভ করল| সেটা তখন আশির দশক| সেই সময়ে তরুণদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল যে পত্রিকাটি তার নাম দৈনিক ‘সংবাদ’| ‘সংবাদ’ শুধু তরুণদের কাছেই জনপ্রিয় ছিল না, রুচিবান মানুষমাত্রই সংবাদের পাঠক ছিলেন, প্রায় প্রত্যেক মধ্যবিত্তের ঘরে সেসময় ‘সংবাদ’ শোভা পেতো|

‘সংবাদ’-এর জনপ্রিয়তার পিছনে নিশ্চয়ই অনেক কারণ ছিল| ১৯৫১ সালে যখন যখন ভাষা আনন্দোলনে সারা বাংলা অগ্নিগর্ভ সেই সময়ে ‘সংবাদ’-এর জন্ম| বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলেনর সাথে ‘সংবাদ’-এর এক নিবিড় যোগসূত্র ছিল| ভাষা আন্দোলনের চেতনায় জারিত ‘সংবাদ’ চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, পরিশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে সংবাদের ছিল নাড়ির সংযোগ|

জন্মলগ্ন থেকেই ‘সংবাদ’ প্রগতিশীলতাকে বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়েছে| একটা উন্নত সংস্কৃতি যে কোনো জাতির মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে| ‘সংবাদ’ বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ভিতকে মজবুত করার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে| কথা বলেছে সাধারণ মানুষের পক্ষে, সত্য ও ন্যায় প্রকাশে থেকেছে অবিচল| সে কারণেই ‘সংবাদ’ তখন গণ-মানুষের পত্রিকা, নির্ভরযোগ্য এক সংগী হয়ে দাঁড়ায়| এটি সত্য যে ‘সংবাদ’-এর সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও ‘সংবাদ’ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবার পথেই স্বমর্যাদায় এগিয়ে চলেছে; তবে সংবাদ ইতিহাসে যে পথরেখা এঁকে দিয়েছে তারইবা মূল্য কম কিসে?

আমার জীবনের এক বিশেষ গর্ব ‘সংবাদে’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে লেখা আমার “এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে| মোট চৌদ্দ কিস্তিতে বইটি প্রকাশিত হয়| দৈনিক সংবাদে এটিই আমার প্রথম প্রকাশ| এক একটি কিস্তি প্রকাশের সাথে সাথে মনে হতো আমার এই ব্যক্তিগত স্মৃতি আমার একার নয়, তা সকল পাঠকের, জাতির বৃহত্তর সংগ্রামের একাকার হয়ে যাওয়ার ইতিহাস| এক ক্ষুদ্র পাঠক সত্তা থেকে ক্ষুদ্র লেখক সত্তায় রূপান্তরে সংবাদ আমার জীবনে যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমার কৃতজ্ঞতার কোনো অন্ত নেই|

মাঝেমধ্যেই সংবাদে আমার লেখা এখনো প্রকাশিত হয়| বিশেষ বিশেষ দিবস উপলক্ষে ছোটগল্প কিংবা কবিতা| ছাপার অক্ষরে যখন এই লেখাগুলি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন মনে হয় সংবাদের এই যে একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য, আমি নিজে এই ঐতিহ্যের একটা অংশ| লেখক হিসেবে এটি আমার একটি বড় প্রাপ্তি|

পঁচাত্তর পেরিয়ে ‘সংবাদ’ ছিয়াত্তরে পড়েছে| দীর্ঘ এই পথচলায় মনে হবে ‘সংবাদ’ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, পড়াটাই স্বাভাবিক| চিরদিন কারো সমান যায় না| কিন্তু আমার মনে হয় সংবাদ পথ হারায়নি, সঠিক পথেই এখনো সংবাদের পরিভ্রমণ চলছে|

সংবাদের এই পথচলা এক আদর্শ, সত্যনিষ্ঠা আর নির্ভীকতার যাত্রা| সংবাদ বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা দিয়ে ইতিহাসকে, বাঙালি জাতিকে আলোকিত করেছে|

ডিজিটাল এই যুগে সংবাদপত্রের প্রতিযোগী অনেক| সংবাদপত্রকে টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জের  মুখোমুখি হতে হয়| সংবাদ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছুটা হয়তো পিছিয়ে পড়েছে| কিন্তু  তা সত্ত্বেও সংবাদ তার নিজ¯^ ˆবশিষ্ট্য ও গভীরতা ধরে রাখতে পেরেছে|

সংবাদ আমাদেরকে শুধু কিছু তথ্যই দেয় না, চিন্তার খোরাক জোগায়, আমাদের মূল্যবোধের ভিত গড়ে তোলে|

ছিয়াত্তর বছরের সংবাদের শিখর ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রোথিত, এর ডালপালা বিস্তৃত অনন্তর এক ভবিষ্যতের দিকে| সেই বৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে একজন লেখক এবং সংবাদের পাঠক হিসেবে আমি নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে করছি| আমি মনে করি একজন শব্দশিল্পী হিসেব আমার অনুভূতি সংবাদের সেই বিশাল ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছে|

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


৭৬ বছরের আলোকযাত্রা ও আমার ‘সংবাদ’স্মৃতি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

সময়ের স্রোত থেমে থাকার নয়, থেমে থাকে না| প্রবহমান সেই স্রোতে কিছু নাম না হারিয়ে অক্ষয় হয়ে থাকে ইতিহাসের অন্তর্গত ধারণাকে বুকে ধারণ করে| ‘সংবাদ’ সেই ধরনের একটি নাম| বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অংশ| ‘সংবাদের’ সাথে জড়িয়ে আছে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি— প্রবহমান এক অনুভব আর মমতাবোধ| 

হলে সংবাদ রাখার গল্প: আমার শৈশব আর কৈশোর কেটেছে এক যোগাযোগবিহীন প্রত্যন্ত গ্রামে| সেখানে গাভীর হাম্বা, চড়ুই শালিকের কিচির-মিচির আক্রান্ত ভোর, ঘুমপাড়ানো ঘুঘু ডাকের অলস দুপুরের সাথে মিথস্ক্রিয়া থাকলেও সরকারি দরকারি ডাক পৌছাতে পৌঁছাতে তার প্রয়োজনীয়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুরিয়ে যেতো| সুতারাং সেই গ্রামে সংবাদপত্রের দেখা মেলা ছিল সাপের পা দেখার মতই| তবে সংবাদপত্র নামে একটা জিনিস আছে যেখানে দেশ-বিদেশের খবর থাকে তা আমাদের জানা ছিল| স্থানীয় লোকজন সংবাদপত্রকে সম্বাদপত্র নামেই সম্বোধন করতেন| আমাদের এলাকায় কিংবা আশেপাশের এলাকায় কোনো সাংবাদিক ছিল বলে শুনিনি|

এই অবস্থায় সংবাদপত্রের সাথে সখ্য স্থাপনের আমার কোনো সুযোগ ছিল না| সুযোগটা ঘটে কলেজে পড়ার সময়|

কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের টাউন হল লাইব্রেরিটি আমাকে সুযোগ করে দেয় বিস্তর সংবাদপত্রের সাথে পরিচিত হওয়ার| এর মধ্যে দৈনিক সংবাদ আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে|

টাউনহলের লাইব্রেরি রুমের টেবিলে অনেক গম্ভীর মুখের বয়স্ক আধা-বয়স্কেদের সাথে আমিও গম্ভীরতা বজায় রেখে পত্রিকার পাতায় মুখ ডুবিয়ে পড়ছি— এই দৃশ্যটি যখন আমার স্মৃতিতে ভেসে ওঠে তখন আমি বিশেষ এক ধরনের আনন্দ অনুভব করি| আমার মুখটা আসলে তখন ডোবানো থাকত বেশিরভাগ সময়েই ‘সংবাদ’ নামের ˆদনিকটির ভিতরের পাতায়| আমার কাছে প্রথম পাতার সংবাদগুলো তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করত না| মনে হতো এই সব রাজা-উজির, বিশ্বমোড়ল আর খুনী-ছিনতাইকারীদের খবর পড়ে লাভ কী| আমি তো তাদের কোনো অংশীজন নই| সুতারাং আমি ডুব দিতাম সংবাদের সাহিত্যের পাতায় যেখানে গল্প, কবিতা, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি ছাপা হতো| আমার একমাত্র নেশা বই পড়ার খোরাকের কিয়দংশ মেটাতো ‘সংবাদ সাময়িকী’|

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমাদের হলের ফ্লোরের একটা অংশে একটা বিসিএস কর্নার স্থাপন করলাম| সেখানে গোটা দুয়েক পত্রিকা রাখতে হবে; কারণ হলের রিডিং রুমের পত্রিকার পাতাগুলো কারা যেনো ব্লেড দিয়ে কেটে নিয়ে যায়| দরকারি অংশগুলো আমারা পড়তে পারি না| তাই আমাদের সংবাদপত্র রাখার এই আয়োজন| পত্রিকা নির্বাচনের ভোটে ‘সংবাদ’ সর্বসম্মত ভোটে জয়লাভ করল| সেটা তখন আশির দশক| সেই সময়ে তরুণদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল যে পত্রিকাটি তার নাম দৈনিক ‘সংবাদ’| ‘সংবাদ’ শুধু তরুণদের কাছেই জনপ্রিয় ছিল না, রুচিবান মানুষমাত্রই সংবাদের পাঠক ছিলেন, প্রায় প্রত্যেক মধ্যবিত্তের ঘরে সেসময় ‘সংবাদ’ শোভা পেতো|

‘সংবাদ’-এর জনপ্রিয়তার পিছনে নিশ্চয়ই অনেক কারণ ছিল| ১৯৫১ সালে যখন যখন ভাষা আনন্দোলনে সারা বাংলা অগ্নিগর্ভ সেই সময়ে ‘সংবাদ’-এর জন্ম| বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলেনর সাথে ‘সংবাদ’-এর এক নিবিড় যোগসূত্র ছিল| ভাষা আন্দোলনের চেতনায় জারিত ‘সংবাদ’ চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়-দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, পরিশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে সংবাদের ছিল নাড়ির সংযোগ|

জন্মলগ্ন থেকেই ‘সংবাদ’ প্রগতিশীলতাকে বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়েছে| একটা উন্নত সংস্কৃতি যে কোনো জাতির মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে| ‘সংবাদ’ বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ভিতকে মজবুত করার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে| কথা বলেছে সাধারণ মানুষের পক্ষে, সত্য ও ন্যায় প্রকাশে থেকেছে অবিচল| সে কারণেই ‘সংবাদ’ তখন গণ-মানুষের পত্রিকা, নির্ভরযোগ্য এক সংগী হয়ে দাঁড়ায়| এটি সত্য যে ‘সংবাদ’-এর সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও ‘সংবাদ’ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবার পথেই স্বমর্যাদায় এগিয়ে চলেছে; তবে সংবাদ ইতিহাসে যে পথরেখা এঁকে দিয়েছে তারইবা মূল্য কম কিসে?

আমার জীবনের এক বিশেষ গর্ব ‘সংবাদে’ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে লেখা আমার “এক অখ্যাত কিশোরের মুক্তিযুদ্ধ” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে| মোট চৌদ্দ কিস্তিতে বইটি প্রকাশিত হয়| দৈনিক সংবাদে এটিই আমার প্রথম প্রকাশ| এক একটি কিস্তি প্রকাশের সাথে সাথে মনে হতো আমার এই ব্যক্তিগত স্মৃতি আমার একার নয়, তা সকল পাঠকের, জাতির বৃহত্তর সংগ্রামের একাকার হয়ে যাওয়ার ইতিহাস| এক ক্ষুদ্র পাঠক সত্তা থেকে ক্ষুদ্র লেখক সত্তায় রূপান্তরে সংবাদ আমার জীবনে যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য আমার কৃতজ্ঞতার কোনো অন্ত নেই|

মাঝেমধ্যেই সংবাদে আমার লেখা এখনো প্রকাশিত হয়| বিশেষ বিশেষ দিবস উপলক্ষে ছোটগল্প কিংবা কবিতা| ছাপার অক্ষরে যখন এই লেখাগুলি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন মনে হয় সংবাদের এই যে একটা দীর্ঘ ঐতিহ্য, আমি নিজে এই ঐতিহ্যের একটা অংশ| লেখক হিসেবে এটি আমার একটি বড় প্রাপ্তি|

পঁচাত্তর পেরিয়ে ‘সংবাদ’ ছিয়াত্তরে পড়েছে| দীর্ঘ এই পথচলায় মনে হবে ‘সংবাদ’ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে, পড়াটাই স্বাভাবিক| চিরদিন কারো সমান যায় না| কিন্তু আমার মনে হয় সংবাদ পথ হারায়নি, সঠিক পথেই এখনো সংবাদের পরিভ্রমণ চলছে|

সংবাদের এই পথচলা এক আদর্শ, সত্যনিষ্ঠা আর নির্ভীকতার যাত্রা| সংবাদ বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা দিয়ে ইতিহাসকে, বাঙালি জাতিকে আলোকিত করেছে|

ডিজিটাল এই যুগে সংবাদপত্রের প্রতিযোগী অনেক| সংবাদপত্রকে টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত নিত্য-নতুন চ্যালেঞ্জের  মুখোমুখি হতে হয়| সংবাদ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কিছুটা হয়তো পিছিয়ে পড়েছে| কিন্তু  তা সত্ত্বেও সংবাদ তার নিজ¯^ ˆবশিষ্ট্য ও গভীরতা ধরে রাখতে পেরেছে|

সংবাদ আমাদেরকে শুধু কিছু তথ্যই দেয় না, চিন্তার খোরাক জোগায়, আমাদের মূল্যবোধের ভিত গড়ে তোলে|

ছিয়াত্তর বছরের সংবাদের শিখর ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রোথিত, এর ডালপালা বিস্তৃত অনন্তর এক ভবিষ্যতের দিকে| সেই বৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে একজন লেখক এবং সংবাদের পাঠক হিসেবে আমি নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে করছি| আমি মনে করি একজন শব্দশিল্পী হিসেব আমার অনুভূতি সংবাদের সেই বিশাল ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছে|


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত