জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় রাজধানীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালসমূহ থেকে নিয়মিত পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত বৃষ্টির পানি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলো ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) গঠন করা হয়েছে। এসব দল তাৎক্ষণিকভাবে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে চারটি বৃহৎ খালের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। এছাড়া রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান নর্দমাগুলোর সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণ এবং নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে নগরবাসীর জন্য একটি উন্নত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদি কার্যক্রমের আওতায় রাজধানীর নর্দমা, বক্স-কালভার্ট ও খালসমূহ থেকে নিয়মিত পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণের সময় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত বৃষ্টির পানি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান পাম্প স্টেশনগুলো ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্যাচপিট ও লোহার গ্রেটিংস স্থাপন করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ওয়ার্ডভিত্তিক জরুরি প্রতিক্রিয়া দল (ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম) গঠন করা হয়েছে। এসব দল তাৎক্ষণিকভাবে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার এবং নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে চারটি বৃহৎ খালের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জিয়া সরণী খাল ও শ্যামপুর খালের পানি নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য আউটলেট নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। এছাড়া রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন নর্দমা নির্মাণ এবং বিদ্যমান নর্দমাগুলোর সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জিয়া সরণী খাল, কাজলা খাল ও মৃধাবাড়ি খালসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নবসংযুক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দ্রুত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য অধিকসংখ্যক আউটলেট নির্মাণ এবং নতুন পাম্প স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সেবার জন্য ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, টেকসই ও যুগোপযোগী করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে নগরবাসীর জন্য একটি উন্নত ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন