সংবাদ

খরা ও মরুময়তা রোধে একজোট হওয়ার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

খরা ও মরুময়তা রোধে একজোট হওয়ার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

​পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের চারণভূমি ও প্রাকৃতিক তৃণভূমি সংরক্ষণ এবং অবক্ষয়প্রাপ্ত ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

​কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়। এটি ভূমি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।"
আজ, ১৭ জুন রাজধানী ঢাকার এ অনুষ্ঠা‌নে এবারের প্রতিপাদ্য ‘Rangelands: Recognize, Respect, Restore’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের প্রায় অর্ধেক স্থলভাগ কোনো না কোনো ধরনের চারণভূমি ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত, যা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা, খাদ্যব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানি চক্র এবং কার্বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"
​বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে মরুভূমি না হলেও এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ মরুভূমির দেশ না হলেও মরুময়তা, ভূমি অবক্ষয় এবং খরার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহার, মাটির উর্বরতা হ্রাস, লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন, বন উজাড় এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমি অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমি, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়ি ভূমি এবং নদী অববাহিকার ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।"
​দেশে দিন দিন বাড়তে থাকা ভূমি অবক্ষয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "গবেষণা অনুযায়ী দেশে মাঝারি থেকে অতি তীব্র মাত্রার ভূমি অবক্ষয়ের পরিমাণ ২০০০ সালের ১০.৭০ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ১১.২৪ মিলিয়ন হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত দুই দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর ভূমি অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। একইভাবে খরাপ্রবণ এলাকার পরিমাণ ২০০০ সালের ১.৪৩ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২০২০ সালে ১.৫৪ মিলিয়ন হেক্টরে পৌঁছেছে, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১০.৪ শতাংশ।"
একই সাথে উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা দেশের কৃষি, সুপেয় পানি ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরা মানুষের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে বলে তিনি জানান।
​আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মরুময়তা প্রতিরোধ কনভেনশনে (UNCCD) স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে এবং সেই থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।"
সরকার বর্তমানে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
​মরুময়তা ও খরা একটি বৈশ্বিক সংকট উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, "ভূমি অবক্ষয়, খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা; তাই এর সমাধানেও প্রয়োজন বৈশ্বিক সংহতি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অধিকতর অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং জ্ঞান বিনিময়ের আহ্বান জানায়।"
একই সাথে তিনি উন্নয়ন সহযোগী ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন, বনভূমি, জলাভূমি ও চরাঞ্চল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি আরও বড় করা হবে। খরা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ ও নারীদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে। বক্তব্য শেষ করার আগে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, "আসুন, আমরা সবাই মিলে ভূমিকে স্বীকৃতি দিই, প্রকৃতিকে সম্মান করি এবং অবক্ষয়প্রাপ্ত ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই আমরা একটি সবুজ, সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।"
​পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, গবেষক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


খরা ও মরুময়তা রোধে একজোট হওয়ার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

​পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের চারণভূমি ও প্রাকৃতিক তৃণভূমি সংরক্ষণ এবং অবক্ষয়প্রাপ্ত ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

​কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, "বিশ্ব মরুময়তা ও খরা দিবস শুধু একটি আন্তর্জাতিক দিবস নয়। এটি ভূমি, পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।"
আজ, ১৭ জুন রাজধানী ঢাকার এ অনুষ্ঠা‌নে এবারের প্রতিপাদ্য ‘Rangelands: Recognize, Respect, Restore’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের প্রায় অর্ধেক স্থলভাগ কোনো না কোনো ধরনের চারণভূমি ইকোসিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত, যা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা, খাদ্যব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানি চক্র এবং কার্বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"
​বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে মরুভূমি না হলেও এখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ মরুভূমির দেশ না হলেও মরুময়তা, ভূমি অবক্ষয় এবং খরার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহার, মাটির উর্বরতা হ্রাস, লবণাক্ততার বিস্তার, নদীভাঙন, বন উজাড় এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমি অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত জমি, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড়ি ভূমি এবং নদী অববাহিকার ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।"
​দেশে দিন দিন বাড়তে থাকা ভূমি অবক্ষয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, "গবেষণা অনুযায়ী দেশে মাঝারি থেকে অতি তীব্র মাত্রার ভূমি অবক্ষয়ের পরিমাণ ২০০০ সালের ১০.৭০ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২০২০ সালে বেড়ে ১১.২৪ মিলিয়ন হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত দুই দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর ভূমি অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। একইভাবে খরাপ্রবণ এলাকার পরিমাণ ২০০০ সালের ১.৪৩ মিলিয়ন হেক্টর থেকে ২০২০ সালে ১.৫৪ মিলিয়ন হেক্টরে পৌঁছেছে, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১০.৪ শতাংশ।"
একই সাথে উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা দেশের কৃষি, সুপেয় পানি ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরা মানুষের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে বলে তিনি জানান।
​আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের মরুময়তা প্রতিরোধ কনভেনশনে (UNCCD) স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করে এবং সেই থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।"
সরকার বর্তমানে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃক্ষ আচ্ছাদন বৃদ্ধি, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
​মরুময়তা ও খরা একটি বৈশ্বিক সংকট উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, "ভূমি অবক্ষয়, খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক সমস্যা; তাই এর সমাধানেও প্রয়োজন বৈশ্বিক সংহতি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অধিকতর অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং জ্ঞান বিনিময়ের আহ্বান জানায়।"
একই সাথে তিনি উন্নয়ন সহযোগী ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী পুনরুল্লেখ করেন, বনভূমি, জলাভূমি ও চরাঞ্চল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি আরও বড় করা হবে। খরা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং তরুণ ও নারীদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে। বক্তব্য শেষ করার আগে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, "আসুন, আমরা সবাই মিলে ভূমিকে স্বীকৃতি দিই, প্রকৃতিকে সম্মান করি এবং অবক্ষয়প্রাপ্ত ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধারে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই আমরা একটি সবুজ, সমৃদ্ধ, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।"
​পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, গবেষক এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত