সংবাদ

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জনগণের অর্থ আর কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না-বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত এক যুগে যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’

‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না,’ বলেন তিনি।

বিএনপিকে গণমানুষের দল আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।’

বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরাও খালেদা জিয়ার সৈনিক।’

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, শিশুদের বৃত্তি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু করেছিলাম সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে। সেদিনই বলেছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি।’

আগামী এক বছরের মধ্যে চা-বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

‘আমরা নির্বাচনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা- করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন। প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে এলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

জনগণের অর্থ আর কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না-বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত এক যুগে যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্ত ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে আমি বলতে চাই, বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।’

‘জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না,’ বলেন তিনি।

বিএনপিকে গণমানুষের দল আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।’

বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘অনেক বড় রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণকে রেখে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরাও খালেদা জিয়ার সৈনিক।’

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত ও পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, শিশুদের বৃত্তি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু করেছিলাম সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে। সেদিনই বলেছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেব। আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন। আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি।’

আগামী এক বছরের মধ্যে চা-বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

‘আমরা নির্বাচনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা- করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী একটি জাম ও কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন। প্রায় ২০ বছর পর তারেক রহমান শ্রীমঙ্গলে এলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত