সংবাদ

বাগেরহাটে লোডশেডিংয়ে ম্লান ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ


জেলা বার্তা পরিবেশক, বাগেরহাট
জেলা বার্তা পরিবেশক, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

বাগেরহাটে লোডশেডিংয়ে ম্লান ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ
ছবি : সংগৃহীত

বাগেরহাটে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদে দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে চার বছর পর শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শক।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সিকদার বলেন, ‘গত দু-তিন দিন ধরে লোডশেডিং অস্বাভাবিক বেড়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আসে রাত ৯টায়। আবার ১১টায় চলে যায়। এমন অবস্থায় না যাচ্ছে ঘুমানো, না যাচ্ছে বিশ্বকাপের খেলা দেখা।’

ফকিরহাটের বাসিন্দা খান মাহমুদ আরিফুল হক জানান, পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বাগেরহাট ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালীদুল ইসলাম খান জানান, পৌর এলাকায় ৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে চারটি ফিডারে ভাগ করে দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ৯টি উপজেলা ও খুলনার রূপসা উপজেলা মিলিয়ে তাদের ৬ লাখ গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ১১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৩৪ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীন লোডশেডিংয়ের সময় কমিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬


বাগেরহাটে লোডশেডিংয়ে ম্লান ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদে দিন-রাত সমানতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, অন্যদিকে বিঘ্নিত হচ্ছে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দ।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে প্রচণ্ড গরমে রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে চার বছর পর শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের অনেক রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শক।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সিকদার বলেন, ‘গত দু-তিন দিন ধরে লোডশেডিং অস্বাভাবিক বেড়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আসে রাত ৯টায়। আবার ১১টায় চলে যায়। এমন অবস্থায় না যাচ্ছে ঘুমানো, না যাচ্ছে বিশ্বকাপের খেলা দেখা।’

ফকিরহাটের বাসিন্দা খান মাহমুদ আরিফুল হক জানান, পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বাগেরহাট ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালীদুল ইসলাম খান জানান, পৌর এলাকায় ৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। ফলে চারটি ফিডারে ভাগ করে দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ৯টি উপজেলা ও খুলনার রূপসা উপজেলা মিলিয়ে তাদের ৬ লাখ গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন ১১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ৩৪ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীন লোডশেডিংয়ের সময় কমিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। তাদের ভাষ্য, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত