সংবাদ

দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ১৮ প্রাণহানি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ১৮ প্রাণহানি
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়া দুই শিশুও রয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ডের মধ্যেই এ তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতিকে 'ওমেগা ব্লক' বলা হয়। গ্রিক বর্ণ 'ওমেগা'-এর আকৃতির মতো এই আবহাওয়া ব্যবস্থায় মাঝখানে আটকে থাকা উষ্ণ বায়ু এবং দুই পাশে অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ু অবস্থান করে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, 'সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আফ্রিকা থেকে উষ্ণ বায়ু ইউরোপে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণেই এত তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থা খুব ধীরে সরে যায় এবং এতে বাতাসের প্রবাহ কম থাকায় স্বস্তি পাওয়ার সুযোগও থাকে না।'

ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদনকারী শহর বোর্দোতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।মধ্য ফ্রান্সের পোয়তিয়ে শহরে তাপমাত্রা ওঠে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে । ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টির মধ্যে ৮৪টি অঞ্চলে 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি ছিল।

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কার্পন্ত্রা শহরে দুই ও চার বছর বয়সি দুই শিশুকে পরিবারের গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসাকর্মীরা তাদের বাঁচাতে ব্যর্থ হন।

তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় বোর্দো অঞ্চলে গত সপ্তাহান্তে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সি তিন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্সে প্যারিসসহ ১৬টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে । ইতালির ১২টি শহরে সোমবার সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'রেড হিট অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে যে চলতি সপ্তাহে দেশটিতে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

তীব্র গরমের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।ফ্রান্স জুড়ে প্রায় ২০০টি স্কুলের কোনটি বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের সিভিল সেফটি সার্ভিসের মুখপাত্র জেরোম বুলাঞ্জার জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, 'শুধুমাত্র তত্ত্বাবধানে থাকা স্থানে সাঁতার কাটুন’।রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে দেশে ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্পেনেও তাপ সতর্কতা রয়েছে। সেভিলে থাকা ২১ বছর বয়সী আনাবেল সানচেজ রয়টার্সকে বলেন, "আমি ঘুমাতে পারছি না। অনিদ্রায় ভুগছি। খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। কোন কাজে মন দিতে পারছি না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ১৮ প্রাণহানি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে গরমে একটি গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়া দুই শিশুও রয়েছে। সোমবার (২২ জুন) ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ডের মধ্যেই এ তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপজুড়ে চলমান এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতিকে 'ওমেগা ব্লক' বলা হয়। গ্রিক বর্ণ 'ওমেগা'-এর আকৃতির মতো এই আবহাওয়া ব্যবস্থায় মাঝখানে আটকে থাকা উষ্ণ বায়ু এবং দুই পাশে অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ু অবস্থান করে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, 'সাহারা মরুভূমি ও উত্তর আফ্রিকা থেকে উষ্ণ বায়ু ইউরোপে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণেই এত তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থা খুব ধীরে সরে যায় এবং এতে বাতাসের প্রবাহ কম থাকায় স্বস্তি পাওয়ার সুযোগও থাকে না।'

ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদনকারী শহর বোর্দোতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।মধ্য ফ্রান্সের পোয়তিয়ে শহরে তাপমাত্রা ওঠে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে । ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬টির মধ্যে ৮৪টি অঞ্চলে 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি ছিল।

দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের কার্পন্ত্রা শহরে দুই ও চার বছর বয়সি দুই শিশুকে পরিবারের গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসাকর্মীরা তাদের বাঁচাতে ব্যর্থ হন।

তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় বোর্দো অঞ্চলে গত সপ্তাহান্তে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সি তিন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্সে প্যারিসসহ ১৬টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে । ইতালির ১২টি শহরে সোমবার সর্বোচ্চ সতর্কতা বা 'রেড হিট অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দফতর সতর্ক করেছে যে চলতি সপ্তাহে দেশটিতে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

তীব্র গরমের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।ফ্রান্স জুড়ে প্রায় ২০০টি স্কুলের কোনটি বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের সিভিল সেফটি সার্ভিসের মুখপাত্র জেরোম বুলাঞ্জার জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, 'শুধুমাত্র তত্ত্বাবধানে থাকা স্থানে সাঁতার কাটুন’।রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে দেশে ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্পেনেও তাপ সতর্কতা রয়েছে। সেভিলে থাকা ২১ বছর বয়সী আনাবেল সানচেজ রয়টার্সকে বলেন, "আমি ঘুমাতে পারছি না। অনিদ্রায় ভুগছি। খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে প্রায়। কোন কাজে মন দিতে পারছি না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত